পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট জালিয়াতি চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার!

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট বিতরণ করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন – মোসলেম মিয়া, শাহ আলম কবির, আশিকুর রহমান ও আব্দুর রহিম। তাদের কাছ থেকে ১৬১২টি জাল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬৯টি নকল সিল, নোটারি পাবলিকের ৩টি অ্যাম্বুস সিল, বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) ৬১৭টি সিল, ৩টি পাঞ্চ মেশিন, ২টি কম্পিউটার এবং ১টি প্রিন্টার জব্দ করা হয়।

গত মার্চ মাস থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও ট্রাভেল এজেন্সির চাহিদার প্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে এই জালিয়াতি করে আসছিল চক্রটি।

অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানের পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এমন এক জালিয়াতি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ।
আজ রোববার (১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ) বেলা ১২ টার দিকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি-ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডিবি-ডিএমপি যুগ্ম কমিশনার বাতেন, বলেন, অনেক সাধারণ মানুষ না বুঝে এই চক্রের কথায় টাকা দিয়ে ভুয়া পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিয়েছে। প্রেসে ছাপিয়ে তা চালিয়ে দিত তারা। এতে কোনো ধরনের বারকোড অনুসরণ করা হতো না। একই বারকোডে সব পুলিশ ক্লিয়ারেন্স তৈরি করেছে চক্রটি।

তিনি জানান, গত মার্চ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও ট্রাভেল এজেন্সির চাহিদা অনুযায়ী অর্থের বিনিময়ে এই জালিয়াতি করে আসছিল চক্রটি।

আব্দুল বাতেন বলেন, বাংলাদেশ থেকে চাকরি বা অন্য কোনো কারণে বিদেশ গমনেচ্ছুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট পুলিশ ক্লিয়ারেন্স। মাত্র ৫০০ টাকা সোনালী ব্যাংকে জমা দিয়ে আবেদন করলেই ২/৩ দিনের মধ্যেই তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পাচ্ছেন যে বাংলাদেশি নাগরিক। এজন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস খুলেছে পুলিশ। অনলাইনেও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের আবেদন করা যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিবি-ডিএমপি যুগ্ম কমিশনার জানান, আবেদনের পর থানার ওসি ও এসপির স্বাক্ষরের পর খোঁজ-খবর নেওয়া হয়। কোনো মামলার দাগী আসামি বা ফৌজদারি মামলা না থাকলে ক্লিয়ারেন্স পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যায়। সেখান থেকে ২/৩ দিনের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় চলে আসে। সেখান থেকে পুলিশের মাধ্যমে তা পান আবেদনকারী।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জালিয়াত চক্র টাকার বিনিময়ে সব কাজ নিজেরা ঘরে বসে করে দিতে চেয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এটি বড় ধরনের অপরাধ। বিদেশে আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে।
এ ধরনের প্রতারক চক্রের কাছে না গিয়ে সরাসরি পুলিশের মাধ্যমে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিতে অনুরোধ জানান আব্দুল বাতেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পূর্ব বিভাগের উপ কমিশনার খোন্দকার নুরুননবী,দক্ষিণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ কমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ,পশ্চিম বিভাগের উপকমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান,সিরিয়াস ক্রাইমের উপ কমিশনার মোদাছ্ছের হোসেন, জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান ও অতিরিক্ত উপ কমিশনার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ