ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষকের মুখে হাসি

Spread the love

আব্দুল আওয়াল, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ বিগত কয়েক বছর লোকসানের পর এবার আমন ধান চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের পাশাপাশি বাজারে ধানের চাহিদা ও মূল্য বেশি থাকায় হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। কৃষকের ঘরে ঘরে এখন চলছে নবান্ন উৎসব। পিঠা-পুলি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গ্রামের নারীরা। অনেকে আবার ব্যস্ত সারা বছর ভাত খাওয়ার ধান সিদ্ধ করে তা রোদে শুকাতে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ধান বাজারে বিক্রয় করে তারা গম, আলু, হাইব্রিড টমেটোসহ বিভিন্ন শুরব করেছেন।

কৃষকরা জানিয়েছেন, ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষকদের প্রধান আবাদ প্রকৃতি নির্ভর আমন ধান। বৃষ্টির পানিতে এই ধান চাষ করার কারণে তুলনামূলকভাবে উৎপাদন খরচ বোরো ধানের চেয়ে অনেক কম হয়। এবার বর্ষা মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় আশঙ্কায় পড়ে কৃষকরা। অনেক কৃষক জমিতে সেচ দিয়ে আমন চারা রোপন শুরু করে। অবশ্য কিছুদিনের মধ্যেই পর্যাপ্ত বৃষ্টিতে একযোগে জমিতে আমন চারা লাগানোর কাজ শুরু করে কৃষকরা। চারা লাগানোর পর থেকে মৌসুমের শেষ পর্যন্ত কম বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় এবার ঠাকুরগাঁওয়ে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে জমিতে লাগানো কষ্টের আমন ধান কেটে বাড়িতে তুলছেন কৃষকরা। ছোট ও মধ্যবিত্ত চাষীরা ধান মাড়াইয়ের কাজও শেষ করে ফেলেছেন। ধার দেনা করে আমন দান আবার করার কারণে তারা ধান বিক্রয় করে দিচ্ছেন হাট বাজারে। তাই এখন পঞ্চগড়ের সকল ছোট বড় হাট বাজার নতুন ধানের ভরে গেছে।

ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলা, রাণীশংকৈল, বালিয়াডাঙ্গী, লাহিড়ী, পীরগঞ্জ সহ বিভিন্ন হাট বাজার ঘুরে দেখা দেছে প্রতি মণ আমন ধান বিক্রি হচ্ছে ৯৫০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে। বাজারে সবচেয়ে বেশি উঠছে পারিজাত নামের বিভিন্ন ধরনের ধান। ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবার কৃষকের মুখে হাসি। বাজারে চালের দাম উর্দ্ধমুখী থাকায় ধানের চাহিদা অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি। জেলার বাইরে থেকে ব্যবসায়ীরা ধান কিনে ট্রাক ভরে নিয়ে যাচ্ছেন। এসব ধান অধিকাংশই চলে যাচ্ছে অটো রাইস মিলে। স্থায়ী চালকল মালিকরাও বাজার থেকে ধান কেনা শুরু করেছেন। এ কারনে চাহিদার সাথে প্রতিযোগিতামূলক বাড়ছে ধানের দামও। তারা আশঙ্কা করে বলেছে এখনে যে হারে ধানের চাহিদা দেখা যাচ্ছে তাতে করে আগামী ১ মাসের মধ্যে ধানের দাম আরও বেড়ে যাবে। এতে করে চালের বাজার অনেক বেড়ে যাওয়ার আশংকা করেছে ব্যবসায়ীরা।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শিবগঞ্জ ইউনিয়নের আব্দুল মজিদ জানান, এবার বিভিন্ন আমন মৌসুমের ১০ বিঘা জমিতে গুটি পারি ধান আবাদ করেছে। ইতোমধ্যে এই ধান কাটা শেষ করেছে। প্রতি বিঘা জমিতে ফলন এসেছে প্রায় ১৬-১৮ মন। ইতোমধ্যে তিনি প্রতিমণ ৯৫০ টাকা হিসেবে ৫ মণ ধান বিক্রি করেছেন। এবার প্রতি মণ ধান উৎপাদন খরচ হয়েছে ৬০০ টাকার মত। তিনি বলেন, গত ৪-৫ বছর ধরে আমন ধান আবাদ করে লোকসান গুনতে হয়েছে। তবে এবার বাজারে ধানের দাম বেশি থাকায় মুনাফার মুখ দেখা যাবে। ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও গ্রামের লুৎফর রহমান জানান, এবারের মতো ধানের দাম বেশি থাকলে কৃষকেরা বাচকে। কয়েকবছর ধরে ধানের দাম কম থাকায় কৃষকদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গিয়েছিল। কৃষকরা কৃষি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া শুরু করছিল। তিনি বলেন বাজারে আমন ধানের দাম বেশি থাকায় এখানকার কৃষকরা এবারে বুরো ধানও বেশি আবাদ করবে।

এ নিয়ে ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক মাউমুদুর রহমান বলেন, সব বাধা কাটিয়ে এবার ঠাকুরগাঁওয়ে আমন ধান চাষ লক্ষ্য মাত্রা উতিক্রম করেছিল। ৯৮ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত ৯৭ হাজার ৫৯০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চারা রোপন করা হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ১৬৫ হেক্টর বেশি। তিনি আরো বলেন, কৃষকরা উন্নত জাতের ধানের বীজ দিয়ে ধান আবাদ করায় ক্রমান্বয়ে জেলায় ধান উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর বাজারে ধানের দাম বেশি থাকায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। ধান বিক্রি করে তারা আলু, গম, সরিষা, হাইব্রিড জাতের টমেটো সহ বিভিন্ন শীতকালীন শাকসবজি আবাদ করে বাড়তি টাকা আয় করতে পারছে।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ