সম্ভাবনাময় তিস্তা ব্যারেজ হতে পারে পর্যটন কেন্দ্র

Spread the love

হাতীবান্ধার সম্ভাবনাময় তিস্তা ব্যারেজ হতে পারে একটি ঐতিহ্যবাহী সুন্দর পর্যটন কেন্দ্র। সরকারী পৃষ্ঠ পোষকতার প্রয়োজন। জানা গেছে লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা এলাকায় অবস্থিত দেশের অন্যতম সর্ববৃহৃৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ। পাশ্ববর্তী নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানি ইউনিয়নের ডালিয়া গ্রামটির অনেকটা অংশ বিস্তৃত রয়েছে ওই ব্যারেজটির মধ্যে। তাই উত্তরজনপদের মানুষের কাছে ডালিয়া ব্রিজ নামে ব্যাপক পরিচিত। ডালিয়া সর্বাঙ্গ প্রকৃতির অপরূপ সাজে সজ্জিত। সবুজের আচ্ছাদন এখানে আকর্ষন করে পথচারীদের। বাংলায় ১৩৪০ সালের রেকর্ডে পাওয়া ডালিয়া নামটির তাৎপর্য যেমন ঐতিহাসিক, তেমনি বির্তকিত। কারো মতে, এ অঞ্চলে ডাল চাষ হত বলে এর নাম হয়েছে ডালিয়া। আবার আরো মতে, এখানকার লোক ডালিতে মাটি কাটায় এর নামকরণ হয়েছে ডালিয়া। তবে প্রবীন বিজ্ঞ মহলের মতে, অতীতে আমু রাজা নামে এক রাজা এখানে ডালিয়া কুল চাষ করায় সেই থেকেই এ স্থানটি ডালিয়া নামে পরিচিত। হাতীবান্ধার কোল ঘেঁষে বয়ে চলা তিস্তার পাগলামি রোধ করার জন্য এখানে নির্মিত হয়েছে সর্ববৃহৃৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ। যেটি উজান দেশের পানি আগ্রাসী নীতির কারনে আজ অনেকের কাছে মন্দের ভালো হিসেব্ েপরিচিত। ডালিয়ার বুকে বালুর পর্দা সরালেই পাওয়া যায় বৈচিত্রময় নুড়িপাথর সাম্প্রতি ডালিয়ার বুক থেকে শত শত ট্রাক পাথর আর বালি উত্তোলন করায় ডালিয়া হারাচ্ছে তার আপন সৌন্দর্য্য। সকালের ¯িœগ্ধ রোদে ডালিয়াকে হাসতে দেখা যায় এক সুন্দরী চপলা প্রাম্য মেয়ের অবয়েব। যেন মুক্তার দানার মত দাঁতগুলো বের করে হাসছে। আর কোন প্রকৃতি পর্যটককে মড়িয়া হয়ে ডাকছে। শুধু প্রয়োজন কোন পর্যটক মহলের কাছ থেকে একটি লাল তিলক, যা তাকে দিবে পর্যটন কন্যার স্বীকৃতি। এক সময় ডালিয়ার সৌন্দর্য্য প্রেমিকরা আকাশ পথে উড়ে আসত দেখার জন্য। আজ সেই প্রেমিকদের ও অবতরনের স্থানটি (হেলিপ্যাড) পরিত্যাক্ত। পাশের বিশাল কুসুম-কুঞ্জ আর কাউকে আকর্ষন করে না। অতিথি আপ্যায়নে ডালিয়া ছিল খুবই যতœশীল। কোন অতিথি এলেই তাকে নিয়ে যেতে ব্যারেজের দক্ষিনপাড়ে মনোরম পরিবেশে (টালীর ছাউনি) অবসর ভবনে। বর্তমানে চরম অনাদর অবহেলায় নষ্ট হতে বসেছে এভবনটি। নদী থেকে ভেসে আসা হিমেল হাওয়ায় প্রান জুড়িয়ে যেত ক্লান্ত অতিথির। ডালিয়ার শতরঙি শাড়ির আচল অংকিত সিলট্রাপ (পোলি নিস্কাশন ব্যবস্থা) অত্যাধুনিক কন্ট্রোল টাওয়ার, উফসী ফসলের দৃশ্য প্রনয় বেগে টলমলে হয়ে উঠতো ডালিয়া প্রেমিকরা। সন্ধা বেলায় ডালিয়ায় সাজের বাহার হত একটু ভিন্নরকম। ব্যারেজের উপর জ্বলে উঠা রকমারী বৈদ্যাতিক এনার্জি বাল্পের আলোর ঝলকানী তাকে সাজাতো অপরূপ সাজে। সৌন্দর্য্যরে কোন ঘাটতি নেই ডালিয়ার। তাই সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ডালিয়া আবার নতুন করে সাজে সজ্জিত হয়ে উঠতো ফিরে পেতো হারানো যৌবন। পর্যটন কন্যা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে নিজেকে বসে রাখছেন উদাস চিত্তে।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ