নিরাপদ সড়কের দাবীতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ভোগান্তি চরমে

Spread the love

মো. মাহমুদ হোসাইন: রাজধানীর বিমানবন্দরে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় টানা ৫ম দিনের মত বিভিন্ন সড়কে অবস্থান গ্রহণ করে বিক্ষোভ করেছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা নিরাপদ সড়কের দাবিতে সড়ক অবরোধ করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে পঞ্চমদিনে ও কার্যত অচল ঢাকার সড়কগুলো।

গত দুইদিন ঢাকার সড়কগুলোতে গণপরিবহনের সংখ্যা। সকাল থেকে সড়কে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হলে বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়া যানবাহনের জট দেখা গেছে। তবে দুপুরের পর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো অনেকটাই ফাঁকা ছিলো। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা অ্যাম্বুলেন্স ও হজ্বযাত্রীদের গাড়ীগুলোকে ছাড় দিলেও অন্য পরিবহনগুলোকে ছাড় দেয়নি। এতে চলতি পথে গাড়ী না পেয়ে অফিসমুখী সাধারণ মানুষকে পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে। সৌভাগ্যক্রমে কেউ কেউ রিকশা-ভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা পেলেও অসংখ্য মানুষকে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে হয়েছে। রাজধানী থেকে বের হওয়ার দুইটি গুরুত্বপূর্ণ পথ উত্তরা ও যাত্রাবাড়ী সড়ক বন্ধ থাকায় দূরপাল্লার যাত্রীদের পড়তে হয়েছে দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তা মুখে।

আজ সকাল ১০টার পর থেকে নগরীর উত্তরাংশের উত্তরা থেকে দক্ষিণ প্রান্তের শনির আখড়া পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। এক পর্যায়ে তাদের সাথে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসে যোগ দেয়। এ সময় তারা ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’ শ্লোগাণ দেয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতের প্ল্যাকার্ডে লেখা দেখা যায়- ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’, ‘বিবেক তুমি কবে ফিরবে’ ইত্যাদি।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গাড়ি থামিয়ে চালকদের লাইসেন্স দেখতে চেয়েছে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের চোখের সামনেই। চালক লাইসেন্স দেখাতে না পারলে গাড়ির চাবি নিয়ে যায় তারা। এরই পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। রাজধানী থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলা শহরে।

এর মধ্যে ধানমন্ডিতে শিক্ষার্থীদের লাইসেন্স দেখাতে না পারায় পুলিশের একটি গাড়ীকে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হয়েছে। একই ধরণের পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে বিভিন্ন সরকারী সংস্থার গাড়ীগুলোকেও।

যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়ায় শিক্ষার্থীদের অবস্থান দেখে উল্টোপথ দিয়ে দ্রুত গতিতে যাওয়ার সময় একটি পিকআপ ভ্যান আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দেয়। এতে সে পায়ে আঘাত নিয়ে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাল্টা কর্মসূচী হিসেবে পরিবহন শ্রমিকরাও সকাল থেকে ছয় ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শণ করে। সেখানে সড়কে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীদেরকে পরিবহন শ্রমিকরা মারধর করেছে বলে জানা যায়।

বাংলামোটর এলাকায় উল্টো পথে যাওয়ার সময় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদকে বহন করা একটি গাড়ী শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়ে। মন্ত্রীর সামনেই ‘আইন সবার জন্য সমান’ বলে শ্লোগাণ দিতে থাকে শিক্ষার্থীরা।

এরই মধ্যে সচিবালয়ে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি। পরে তিনি শিক্ষার্থীদের দাবী মেনে নেয়ার আশ্বাস দেন এবং শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

বিকেল ৪টার পর পরই শুরু হয় বৃষ্টি। যা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের বাসায় পাঠানোর কাজ করে। শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার সকালে আবার রাস্তায় নামার ঘোষণা দিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে রাস্তা ছাড়ে।

উল্লেখ্য, গত রোববার জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর থেকে টানা চতুর্থ দিনের মত রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে আসছে।

আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো ছিলো, বেপোরোয়া চালককে ফাঁসি দিতে হবে এবং এই শাস্তি সংবিধানে সংযোজন করতে হবে, নৌ-পরিবহনমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে,  শিক্ষার্থীদের চলাচলে এমইএস ফুটওভার ব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা নিতে হবে, প্রত্যেক সড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় স্পিড ব্রেকার দিতে হবে, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্র-ছাত্রীদের দায়ভার সরকারকে নিতে হবে, শিক্ষার্থীরা বাস থামানোর সিগন্যাল দিলে বাস থামিয়ে তাদের বাসে তুলতে হবে, শুধু ঢাকা নয় সারাদেশে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে, রাস্তায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল এবং লাইসেন্স ছাড়া চালকদের গাড়ি চালনা বন্ধ করতে হবে এবং বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া যাবে না।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ