বিআরটিএ’তে লাইসেন্স নবায়ণের হিড়িক : দালাল চক্র সক্রিয়

Spread the love

মো. মাহমুদ হোসাইন, ঢাকা ক্রাইম ডটকম : নিরাপদ সড়কের দাবীতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটিতে (বিআরটিএ) ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ণের হিড়িক পড়েছে। যারা লাইসেন্স নবায়ণের প্রয়োজন অনুভব করেননি তারা এখন দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে লাইসেন্স নবায়ণের টাকা জমা দিচ্ছেন। অপরদিকে, অনলাইনে টাকা জমা দেয়ার বিষয়টি অনেক গ্রাহক জানেন না, যার কারণে তারা লাইনে দাঁড়িয়ে ফির টাকা জমা দিচ্ছে। দালাল চক্রও গ্রাহকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে ও নবায়ণ করাতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে।

সরেজমিনে মিরপুরের বিআরটিএ কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, লাইসেন্স নবায়ণ করতে নির্ধারিত ফি স্থানীয় ব্যাংকে জমা দিতে শত শত মানুষ রোদের মধ্যে ৩ ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকেছে। এরই মধ্যে দুপুরের দিকে ২ ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ও বিআরটিএ’র বা ব্যাংকের নিজস্ব জেনারেটর না থাকায় গ্রহকদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। তারা ফি’র টাকা শুধুমাত্র নির্ধারিত ব্যাংক ছাড়াও অনলাইনে পেমেন্ট দেয়ার ডিজিটাল পদ্ধতির কথা জানেননা শুধুমাত্র প্রচারণার অভাবে। এতে করে তারা টাউট-বাটপার ও দুর্ভোগের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তি জানিয়েছেন এক সপ্তাহ পূর্বে লাইসেন্স নবায়ণ করা হতো গড়ে প্রতিদিন ৯০টি থেকে ১০০টি। চলতি সপ্তাহে তা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এক্ষেত্রে নিরাপদ সড়কের দাবীতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন গুরুতপূর্ণ ভুমিকা রেখেছে।

বিআরটিএ’র পাশের গলিতে দেখা যায়, ৭/৮ জন দালাল গ্রাহকদের দ্রুত লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন করিয়ে দেয়ার বিনিময়ে টাকার লেনদেন করছেন এবং গ্রাহকদের ভীড়ের মধ্যে কষ্ট করে লাইনে দাঁড়াতে নিরুৎসাহিত করছে।

মো. হযরত আলী নামের এক ব্যক্তি জানান, তিনি তার গাড়ীর রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের গ্রাহক লাইনে সকাল ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে ছিলেন। এরমধ্যে প্রচন্ড রোদে ২ ঘন্টার মত বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

অনুপ নামের এক ব্যক্তি জানান, তিনি প্রচন্ড রোদে ঘন্টার পর লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে লাইসেন্স নবায়ণের টাকা জমা দিয়েছেন।

জুয়েল নামের এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নির্ধারিত ব্যাংকে লাইসেন্স ফি জমা দিতে আমাদের মত লোকদের এক দিন পার হয়ে যায় এবং দুর্ভোগ পোহাতে হয়। যদি নির্ধারিত ব্যাংক ছাড়াও বিকাশ বা রকেটের মত কোনো ডিজিটাল পদ্ধতি থাকতো তাহলে এ দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যেতো। কাউকে আর সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কাউন্টারের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো না। এছাড়াও তিনি রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্সের ফির টাকা অনলাইনে পেমেন্ট করা যায় এই বিষয়টি তার জানা নেই বলে জানান।

এ প্রসঙ্গে বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী আহসান মিলন জানান, এক সপ্তাহ পূর্বে প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ২১০টির মত লাইসেন্স আবেদন পাওয়া যেতো। বর্তমানে তা ২৬০টি থেকে ২৭০টি হয়েছে। এক সপ্তাহ পূর্বে লাইসেন্স নবায়ণ হতো প্রতিদিন গড়ে ৯০ থেকে ১০০টির মত। বর্তমানে তা বেড়ে গড়ে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২২০টি হয়েছে। যা পূর্বের তুলনায় দ্বিগুণ। যাদের লাইসেন্স হারিয়ে গেছে বা প্রয়োজনীয় নয় বলে রেখে দিয়েছিলেন তারা এখন এর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে তা নবায়ণ করছেন।

তিনি আরো বলেন, লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন ফির টাকা জমা নিতে সি.এন.এস লিমিটেড নামের একটি কোম্পানির সাথে বিআরটিএ’র চুক্তি হয়েছে। টাকা জমা নেয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের যে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তার উত্তর ওই কোম্পানি ও বিআরটিএ’র হেডকোয়ার্টারই বলতে পারবে বলে জানান তিনি।

এদিকে, সিএনএস লিমিটেডের হেল্প ডেস্ক থেকে মো. ইলিয়াস মিয়া জানান, ফি’র টাকা ডাচ বাংলা ও সিটি ব্যাংকের মাধ্যমে অনলাইনে জমা দেয়া যায়। আজ রোববার বিকেল ৫টা পর্যন্ত শুধুমাত্র অনলাইন গেটওয়ে দিয়ে ৭৩ লাখ টাকার পেমেন্ট জমা হয়েছে বলে জানান তিনি।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ