সদ্য প্রাপ্ত

অবৈধভাবে সিম বিক্রি: গ্রামীণফোন কর্মকর্তাসহ ২ জন গ্রেফতার

Spread the love

।। মো. মাহমুদ হোসাইন।।

ঢাকা ক্রাইম ডটকম: বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে অবৈধভাবে সিম উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে গ্রামীণ ফোনের এক কর্মকর্তাসহ প্রতারক চক্রের দুইজনকে আটক করেছে র‌্যাব-৪। আটককৃতরা হলেন- গ্রামীণফোনের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ (বিজনেস সেলস) সৈয়দ তানভীরুর রহমান ও মো. তৌফিক হোসেন খান (পলাশ)।

আজ রবিবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির।

র‌্যাব-৪ সিও বলেন, অনুমতি ছাড়া ৪২টি কোম্পানির নামে উত্তোলন করা সিম অবৈধভাবে অপরাধীদের কাছে বিক্রি করে আসছে একটি চক্র। গ্রামীনফোনের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ(বিজনেস সেলস) সৈয়দ তানভীরুর রহমান সিমগুলো একটিভ করে দিতেন। প্রত্যেকটি সিম বিক্রি হতো পাঁচশত টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

তিনি বলেন, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম রিরেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরুর পর মোবাইলফোনে হুমকি ও চাঁদাবাজি কমে আসছিল। সহজেই ধরাও পড়ছিল অপরাধীরা। কিন্তু সম্প্রতি বেশ কিছু অভিযোগ আসার পর তদন্তে নামে র‌্যাব-৪।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ভাসানটেক থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন এক শ্রীলঙ্কান নাগরিক। অভিযোগে তিনি বলেণ, গ্রামীণফোনের দুইটি নাম্বার থেকে (০১৭৮৯৮২২১৮৯ ও ০১৭৫৫ ৫৯৩২৯১) ১০ কোটি টাকা চাঁদা চাওয়া হয়। চাঁদার টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দেয়া হয়।

র‌্যাব ওই সাধারণ ডায়েরির তদন্ত করতে গিয়ে জানতে পারে চাঁদা ও হত্যার হুমকিতে ব্যবহৃত সিম দুটি মাইক্রোকডেস ইনফরমেশন নামক একটি সংস্থার অনুকূলে রেজিস্ট্রিকৃত। এবং তৌফিক হোসেন খান পলাশের মালিকানাধীন মোনাডিক বাংলাদেশ নামে ডিস্ট্রিবিউশন হাউজের মাধ্যমে ইস্যুকৃত। আর ওই সিম ডিস্ট্রিবিউশন হাউজের তদারকির দায়িত্বে ছিলেন গ্রামীণফোনের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ (বিজনেস সেলস) সৈয়দ তানভীরুর রহমান।

অন্য প্রতিষ্ঠান কিংবা কোম্পানির নামে অগোচরে অবৈধভাবে সিম উত্তোলন করার বিষয়টি নিশ্চিত হবার পর জড়িত ওই দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের ধরতে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধভাবে ৪২টি প্রতিষ্ঠানের নামে উত্তোলিত ও একটিভ করা মোট ৮৬৭ সিম উদ্ধার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার দুজন জানান, উদ্ধার করা সিমগুলো ওই ৪২টি প্রতিষ্ঠানের অগোচরে একটিভ করা হয়েছিল। যা ওই ডিস্ট্রিবিউশন হাউজের সহায়তায় গত ১১ জুন গ্রামীণফোন প্রতিনিধি তানভীর রহমান প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে একটিভেট করা হয়।

র‌্যাব-৪ সিও বলেন, ব্যক্তিগতভাবে সিম উত্তোলন করতে হলে ফিঙ্গারপ্রিণ্ট লাগে সাথে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে সিম উত্তোলন করতে হলে একটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট এ একাধিক সিম উত্তোলন সম্ভব। সেই সুযোগটাই নিয়েছে প্রতারকচক্র। ওই সিমগুলো সাধাণত প্রতারক চাঁদাবাজিতে জড়িত অপরাধচক্রের হাতে পৌছে যেতো। অনেকে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায় ব্যবহার করে থাকেন এধরণের সিম। আর ৫০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতো এই অপরাধীচক্রের সদস্যরা।

র‌্যাব-৪ অধিনায়ক বলেন, আমরা গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে ভাসানটেক থানায় প্রচলিত আইনে মামলা ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমাণ্ড চাইবো। এই প্রতারকচক্রের সাথে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ