সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের কুলখানি অনুষ্ঠিত

Spread the love

।। যশোর প্রতিনিধি।।

 

আসাদুজ্জামান শাওন: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গণমানুষের নেতা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের কুলখানিতেও জনতার ঢল নামে। মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও বেহেস্ত কামনায় পরিবারের পক্ষ থেকে বুধবার বাদআছর যশোর শহরের ঘোপ পিলুখান রোড বাসভবনে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। কুলখানি উপলক্ষে মরহুমের বাসভবন ও আশপাশের ৬ টি স্পট ছাড়াও ওই এলাকার সকল অলিগলি জনসমুদ্রে পরিণত হয়। দোয়া মাহফিলে বিপুল সংখ্যক আলেম ও রাজনীতিক, পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ ও মহিলারা অংশ নেন। এসময় তারা সদ্য প্রয়াত প্রাণপ্রিয় নেতার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করেন।

আয়োজকরা জানান, গত ৫ নভেম্বর যশোর ঈদগাহ ময়দানে স্মরণকালের বৃহত্তম জানাজা শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে উপস্থিত জনতাকে বুধবার কুলখানির জন্য উপস্থিত হওয়ার আহবান জানানো হয়। বুধবার তরিকুল ইসলামের ঘোপের বাসভবন প্রাঙ্গনসহ আশপাশের বাড়ির আঙিনা ও আরও ৬ টি স্পটে কুলখানির আয়োজন করা হয়। ২০ হাজার মানুষের উপস্থিতির টার্গেট নিয়ে তাঁর পরিবারের পক্ষে এ কুলখানির আয়োজন করা হলেও মানুষের উপস্থিতি ছিলো তার চেয়ে অনেক বেশি। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আছরবাদ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত থাকলেও দুপুরের পর যশোরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ আসতে শুরু করে ঘোপের বাসভবনের দিকে। এক পর্যায়ে বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে ওই তীল ধারণের ঠায় থাকেনা।

আছরের নামাজের আগেই তরিকুল ইসলামের ও স্বজনদের বাসভবন প্রাঙ্গণসহ আরও ৬ টি স্পটে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। এসময় জনতার ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। তরিকুল ইসলামের বড়ছেলে শান্তুনু ইসলাম সুমিত, ছোটছেলে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও আগত মেহবানদের আপ্যায়নে ছিলেন। দোয়া মাহফিলের সময় যত ঘনিয়ে আসে মানুষের উপস্থিতিও ততো বাড়তে থাকে। একপর্যায়ের জনতার জন্য নির্ধারিত জায়গা ছাপিয়ে ঘোপের সকল অলিগলিতে ঠাঁই পায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত করা হয় বিপুল সংখ্যক ও স্বেচ্ছাসেবক দল । এছাড়া যশোরের বিভিন্ন স্তরের শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিদের ব্যাপক সহযোগিতাও ছিলো চোখে পড়ার মতো।

বিকেল ৪ টা ৫ মিনিটের সময় দোয়া মাহফিল স্থলে আছরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। বিশিষ্ট আলেম মাওলানা আব্দুর রহিমের ইমামতিতে সেখানে কয়েক হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে পবিত্র কালামে পাক থেকে তেলোওয়াতের মাধ্যমে দোয়া মাহফিলের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এসময় মঞ্চে যশোরের খ্যাতিমান আলেম উলামাগণ উপস্থিত ছিলেন। কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফেজ মুফতি মো. আব্দুস সাত্তার। পবিত্র কোরান তেলাওয়াতের পর মঞ্চে উপস্থিত ওলামাগন ধর্মীয় আলোচনা শুরু করেন।

আলোচনার শুরুতে বিশিষ্ট আলেম হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহিম মরহুম তরিকুল ইসলামের জীবদ্দশার কিছু স্মৃতি তুলে ধরেন। এসময় তিনি বলেন, মরহুম তরিকুল ইসলাম যশোরের আলেম উলামাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ব্যক্তি ছিলেন। তিনি যে পরিবারের জন্মগ্রহণ করেছেন ওই পরিবারের সকল সদস্যই দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের খেদমত করে চলেছেন। এমন একজন মহান ব্যক্তির মৃত্যুতে আলেম সমাজ আজ মর্মাহত। তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন।

আলোচনায় জেলা ইমাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা বেলায়েত হোসেন বলেন, মরহুম তরিকুল ইসলাম একজন প্রশ্বস্ত হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন। তিনি দলমত নির্বিশেষে সবার সাথে মিশে চলতেন। বিশেষ করে আলেম উলামাসহ ভিন্নমতের মানুষকেও তিনি সম্মান দিয়ে চলতেন। তিনি বলেন, জীবদ্দশায় তিনি যতবার মন্ত্রী ও এমপি হয়েছেন ততবারই যশোরে দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সহযোগিতা করেছেন।

দড়াটানা মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা হামিদুল ইসলাম বলেন, যে ব্যক্তি জণকল্যানে কাজ করেন আল্লাহ তাকে সব সময় পছন্দ করেন। তরিকুল ইসলামও ঠিক তেমন একজন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি একজন সফল রাজনীতিক হিসেবে সবশ্রেণী মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। যশোরের ঐতিহ্যবাহী দড়াটানা মাদরাসার উন্নয়নে তরিকুল ইসলামের গোটা পরিবারের অবদান কখনও অস্বীকার করার মতো নয়। তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।

উলামাদের আলোচনা শেষে মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন যশোরের বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন রেলস্টেশন মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আনোয়ারুল কবীর যশোরী।

দোয়া মাহফিলে উল্লেখযোগ্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, তরিকুলের ঘনিষ্ট বন্ধু সাবেকমন্ত্রী খালেদুর রহমান টিটো, বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ