ঈদের ট্রেনের অগ্রিম টিকেট কালোবাজারে

Spread the love

মো মাহমুদ হোসাইন, ঢাকা ক্রাইম ডটকম : আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের অগ্রিম টিকেটের সিংহভাগই কালোবাজারে চলে গেছে। সাধারণ যাত্রীরা দিনরাত ১৬ ঘন্টা থেকে ১৮ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে অপেক্ষা করেও টিকেট পাচ্ছেন না। অথচ একই লাইনে দাঁড়িয়ে কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি শত শত টিকিট নিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ১১ আগস্ট শনিবার আগামী ২০ আগস্টের অগ্রিম টিকিট বিক্রির জন্য নির্ধারিত ছিলো। আগের দিন দুপুরে স্টেশনে এসে লাইন দিয়েও শত শত যাত্রী বিফল মনোরথে টিকেট না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ফিরে গেছেন। অন্যদিকে সকাল ৮টার দিকে টিকেট ছাড়ার আগ মুহুর্তে প্রত্যেক লাইনে ৫/৬ জন করে তথাকথিত স্টাফ পরিচয়ধারী যুবক এসেই অসংখ্য টিকিট কেটে নিয়ে চলে যান। তাদের হাতে ছিলো হাতে লেখা স্লিপ। নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার বা পুলিশ বাহিনীকে এ ব্যাপারে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এজন্য অপেক্ষমান ক্ষুব্ধ ও ক্লান্ত শত শত যাত্রীকে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টিকেটি বিক্রির দায়িত্বে নিয়োজিত রেলওয়ে পুর্বাঞ্চলের ডিসিও শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশাল সিন্ডিকেট বিপুল পরিমাণ টিকিট কালোবাজারে চালান করে দিচ্ছেন। লাইনে দাঁড়িয়ে স্লিপ হাতে যারা শত শত টিকেট নিচ্ছেন তাদের ব্যাপারে কম্পিউটার অপারেটরদের কোন আপত্তি নেই। অথচ একজন সাধারণ যাত্রী পাচ্ছেন সর্বোচ্চ ৪টি টিকেট। এসব টিকেট কমলাপুর রেলস্টেশনের ওভার ব্রীজের ওপরে সন্ধ্যার পর দেদারছে বিক্রি হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন আনসার সদস্য জানান, ডিসিও শফিক সাহেব কারো ফোন ধরেন না। এমনকি অনেক ভিআইপি মন্ত্রণালয় থেকে তালিকায় টিকিট বরাদ্দ পাবার পরও স্টেশনে এসে টিকিট পাচ্ছেন না। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে সত্যতা মিলেছে।

আগের দিন ১০ আগস্ট স্লিপ নিতে গিয়ে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও কর্মকর্তাদের নামে বরাদ্দকৃত টিকেট নেই। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এহসানুল করিমের নামে মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দকৃত চারটি দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনের ১৯ আগস্টের টিকিট পাওয়া যায়নি। একইভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন মহাপরিচালক ১৯জন কর্মকর্তার নামে পদ্মা, তিস্তা, দ্রুতযান, সিল্কসিটি ও সুন্দরবন এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন ট্রেনের অর্ধশতাধিক টিকেট বরাদ্দের জন্য সচিবের কাছে চিঠি লিখেন। রেল সচিব ওই চিঠিটি সাক্ষর করে রেলওয়ের মহাপরিচালকের কাছে প্রেরণ করেন। চিঠির কপি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা কমলাপুর স্টেশনের গিয়ে দেখতে পান কারো নামেই এসি টিকিট দেয়া হয়নি। ৪/৫জন কর্মকর্তার নামে সাধারণ শোভন চেয়ারের টিকিট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ পর্যায়ে কোন টিকেট না নিয়ে ওই কর্মকর্তা ক্ষুব্ধ হয়ে চলে যান। পরে বিকেলে ১৮ নম্বর কাউন্টারে গিয়ে দেখা গেছে, একজন রেলওয়ের স্টাফ বলে পরিচয় দিয়ে হাতে লেখা স্লিপের মাধ্যমে একাই প্রায় ৩৫ হাজার ৮৬৮ টাকার ৭০টি টিকিট কিনে নেন। স্টাফ পরিচয়ধারী ঐ যুবকের ক্রয় করা টিকেটগুলোর সিংহভাগই বিভিন্ন ট্রেনের এসি ও প্রথম শ্রেণীর।

জানা গেছে, একটি চক্র এভাবে প্রতিদিন এসি এবং প্রথম শ্রেণীর টিকেটগুলো হাতে লেখা স্লিপের মাধ্যমে কিনে বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে। এই চক্রের সাথে স্টেশনের সহকারি মাস্টার সাহা বাবুও জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এই কর্মকর্তা কমলাপুরে ৭ বছর যাবত কর্মরত আছেন। তিনি টিকিট বিক্রির দায়িত্ব না থাকলেও কম্পিউটার রুমে গিয়ে তদারকি করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রটি জানায়, আগামীকাল বোরবার রেলওয়ের অগ্রিম টিকিট বিক্রির শেষ দিন। ইতোমধ্যে সব ট্রেনের এসি কেবিনসহ প্রথম শ্রেণীর টিকিটগুলো ওই চক্রটি ব্লক করে ফেলেছে। ভিআইপি বা সাধারণ যাত্রীদের কেউই এসব টিকিট পাচ্ছেন না। অথচ দ্বিগুণ ভাড়ায় স্টেশনে একটু খোঁজ নিলেই কালাবাজারে টিকেট পাওয়া যাচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ