প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বর

Spread the love

|| নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পুনঃনির্ধারিত তফসিল প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই তফসিল অনুযায়ী ৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। সোমবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এই প্রজ্ঞাপন জারি করেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রিটার্নিং কর্মকর্তা/সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৮ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন ২ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বর এবং ভোটের দিন ৩০ ডিসেম্বর।

এর আগে ড. কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টসহ বিভিন্ন জোটের দাবির প্রেক্ষিতে ভোট এক সপ্তাহ পিছিয়ে দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল পুনঃনির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন তফসিল অনুযায়ী ভোটগ্রহণ ২৩ ডিসেম্বরের পরিবর্তে অনুষ্ঠিত হবে ৩০ ডিসেম্বর। আর মনোনয়নপত্র জমা দেয়া যাবে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সোমবার ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রদর্শনীর উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা। এসময় নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, যুগ্ম-সচিব মো. আসাদুজ্জামানসহ নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গত ৮ নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এটিকে স্বাগত জানায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিসহ বেশকিছু রাজনৈতিক দল। তবে তফসিলকে ‘সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন’ বলে অভিযোগ জানায় রাজপথের বিরোধী দল বিএনপিসহ ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন নবগঠিত রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। যদিও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে তারা। তবে সরকারবিরোধী এই জোটটি নির্বাচনের তারিখ একমাস পেছানোর আবেদন জানায়। সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম বদরুদ্দোজার নেতৃত্বাধীন জোট যুক্তফ্রন্টও নির্বাচন এক সপ্তাহ পেছানোর আবেদন করে ইসিতে। রোববার জোটগুলোর এ সংক্রান্ত চিঠি নির্বাচন কমিশনে পৌছলে এবিষয়ে সোমবার সিদ্ধান্ত জানানোর কথা জানিয়েছিলেন সিইসি।

পুন:তফসিল ঘোষণাকালে কেএম নূরুল হুদা বলেন, ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন পেছানোর দাবিতে কমিশনে যে চিঠি দিয়েছিল, সে বিষয়ে সোমবার সকালে বৈঠক করে নির্বাচনের দিনক্ষণ পেছানোর সিদ্ধান্ত নেন তারা। তারা নির্বাচনে অংশ নেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সেটি নিয়ে আমরা নির্বাচন কমিশনারদের সাথে আলোচনা করেছি, তারপর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি নির্বাচন কমিশনের জন্য স্বস্তির বিষয় যে বিএনপি, ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এ অনুষ্ঠানে ভোটের নতুন তারিখ ও মনোনয়নপত্র জমার শেখ তারিখ ঘোষণা করলেও মনোনয়নপত্র বাছাই ও প্রত্যাহারের তারিখ পরে ঠিক করা হবে বলে জানান সিইসি।

নির্বাচন নিয়ে প্রধান দুই রাজনৈতিক শিবিরে মতানৈক্যের মধ্যেই গত ৮ নভেম্বর সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন সিইসি নূরুল হুদা। সেখানে ২৩ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ ধরে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল, ২২ নভেম্বর বাছাই এবং ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সুযোগ রাখা হয়। তফসিলের পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলো মনোনয়নের প্রস্তুতি শুরু করলেও সাত দফা দাবি জানিয়ে আসা বিএনপি ও তাদের জোট শরিকরা স্পষ্ট ঘোষণা না দেয়ায় দশম সংসদের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা জাগছিল অনেকের মনে। তবে রোববার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেন ও মুখপাত্র বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জোটের এক সংবাদ সম্মেলন থেকে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিলে সেই সংশয় কাটে। পরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলও ভোটে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত জানায়।

তবে ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচন এক মাস পিছিয়ে দেয়ার দাবি জানানো হয়। বিএনপির সাবেক নেতা বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টও নির্বাচন সাত দিন পেছানোর দাবি তুলে। তাদের এই দাবির বিষয়ে নমনীয় আচরণ করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগও। রাজনৈতিক জোটগুলোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভোটের তারিখ পিছিয়ে দিলে তাতে তাদের আপত্তি থাকবে না বলে জানানো হয় দলটির পক্ষ থেকে। শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন তফসিল পুনঃনির্ধারণ করে নির্বাচনের জন্য নতুন যে তারিখ ঘোষণা করল, তাতে বি. চৌধুরীর যুক্তফ্রন্টের দাবিই টিকলো।

ইসিতে দেয়া যুক্তফ্রন্টের ওই চিঠিতে বলা হয়েছিল, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলকে আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী স্বল্প সময়ে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ, যাচাই-বাছাই ও স্বাক্ষাৎকার গ্রহণ ইত্যাদি ব্যবস্থা গগ্রণ কঠিন হবে। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সৎ ও সুশীল প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়ার প্রয়োজনে আমরা মনে করি মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার তারিখ এক সপ্তাহ পিছিয়ে ১৯ নভেম্বরের পরিবর্তে ২৬ নভেম্বর করা হোক। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২২ নভেম্বরের পরিবর্তে ২৯ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ২৯ নভেম্বরের পরিবর্তে ৫ ডিসেম্বর করা হোক। অনুরূপাবে ভোটগ্রহণের তারিখ ২৩ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ৩০ ডিসেম্বর করার প্রস্তাব করছি।’

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ