রোহিঙ্গাদের দুপুর একটা থেকে দুইটার মধ্যে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের সুযোগ

Spread the love

।।নিজস্ব প্রতিবেদক।।

রোহিঙ্গাদের আজ বৃহঃস্পতিবার দুপুর একটা থেকে দুইটার মধ্যে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের সুযোগ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম।

এর আগে, বুধবার রাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায় রোহিঙ্গারা কেউ মিয়ানমারে ফিরতে রাজি না হওয়ায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আটকে গেছে। তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম ধাপে কক্সবাজারের উখিয়ার জামতলী ও টেকনাফের উনচিপ্রাং আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ৪৮৫টি পরিবারের ২ হাজার ২৬০ জনকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে। প্রতিদিন ১৫০ জন করে ১৫ দিনে প্রথম ধাপের এই প্রত্যাবাসন শেষ হওয়ার কথা।

এদিকে, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে তাড়াহুড়ো না করতে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। নভেম্বরের ১৫ তারিখ থেকে দুই হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য মিয়ানমার প্রস্তুত আছে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। এর পরপরই জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার ওয়েবসাইটে এ নিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমারের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় মিয়ানমারের পরিবেশ রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ নয়। রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন ক্যাম্পে গিয়ে নিজ চোখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ দেয়া উচিত বলে প্রস্তাব দেয় জাতিসংঘ।

প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশের প্রস্তুত করা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ২০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানায়, যেখান থেকে তারা পালিয়ে এসেছে সেখানেই আবার ফেরত যাওয়ার প্রস্তাব দেয়া হলে তা প্রত্যাখ্যান করবে রোহিঙ্গারা। পাশাপাশি এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে প্রত্যাবাসনের প্রথম তালিকায় থাকা অনেক রোহিঙ্গাই কক্সবাজারের ক্যাম্প থেকে পালিয়েছে।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারে দমন-পীড়নের মুখে গত বছরের আগস্টের পর থেকে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। আগে থেকে বাংলাদেশে রয়েছে আরও চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা। সব মিলিয়ে বর্তমানে ১১ লাখের অধিক রোহিঙ্গা বসবাস উখিয়া-টেকনাফে। এই রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমার বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলেও এখনও পর্যন্ত তেমন উল্লেখযোগ্য কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ