আত্মহত্যা প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না

Spread the love

।।হেলেনা আক্তার শিমু, নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

কতটা কষ্ট পেলে একজন মানুষ নিজেকে গুরুত্বহীন মনে করে আত্মহত্যা করতে পারে। কতটা বীত শ্রদ্ধ হলে নিজের জীবনকে বিসর্জন দিতে পারে। আত্মহত্যা কোনো প্রতিবাদের ভাষা হতে পারেনা। গবেষণা লব্ধ তথ্যানুযায়ী সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় না থাকলে, নৈতিক শিক্ষা ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে না চললে বা মানসিক রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা দেয়া না হলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়াও আত্মহত্যার ক্ষেত্রে আরো কিছু কারণকেও দায়ী করা হয়েছে।

পৃথিবীতে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে ১ জন মানুষ আত্মহত্যা করে থাকে। প্রতিদিন আত্মহত্যার চেষ্টা করে ৬০ হাজার মানুষ। এর মধ্যে সফল হয় ৩০ হাজার মানুষ। বছরে এর সংখ্যা দাঁড়ায় ৮ লাখ। যাদের বয়স ১৫ থেকে ২৯ বছরে মধ্যে তারাই ঝুঁকিপূর্ণ বেশি থাকে। ২০ ২০ সালের পর বছরে ১৫ লাখেরও বেশি মানুষ আত্মহত্যা করবে।

বিশ্বের মধ্যে আফ্রিকা মহাদের রাষ্ট্র গায়ানায় সর্বোচ্চ আত্মহত্যার হার বেশি। সেখানে এক লক্ষ মানুষের মধ্যে ৯২ জন আত্মহত্যা করে, তার মধ্যে পুরুষ ৭০ জন ও নারী ২২ জন। উক্তর কোরিয়ায় এক লক্ষ মানুষের মধ্যে ৮০ জন। তার মধ্যে পুরুষ ৪৫ জন ও নারী ৩৫ জন। দক্ষিণ কোরিয়ায় এক লক্ষ মানুষের মধ্যে ৫৯ জন। তার মধ্যে পুরুষ ৪১ জন ও নারী ১৮ জন। শ্রীলঙ্কায় এক লক্ষে ৫৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৪৬ জন ও নারী ১২ জন। লিথুনিয়ায় এক লক্ষে ৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩১ জন ও নারী ৯ জন।

তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিদিন ২৮ জন মানুষ আত্মহত্যা করেন। যাদের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। অধিকাংশ আত্মহত্যার শিকার হন নারীরা। ২০১৩ সালে শুধু বিষপানে আর ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে ১০,১২৯টি। ২০১২ সালে ১০,১৬৭টি। এদের মধ্যে আত্মহত্যা করেন ৪,৩৯৪ জন পুরুষ ও ৫,৭৭৩ জন নারী। গবেষনার তথ্যমতে এর সংখ্যা শতকরা ৫৮% পুরুষ ও ৭৩% নারী। এছাড়াও বর্তমানে আত্মহত্যার ঝুঁকিতে রয়েছে ৬৫ লাখ মানুষ। এর বেশির ভাগের বয়স অল্প, তার মধ্যে ৮৯ ভাগই নারী।

গবেষণায় দেখা গেছে, যৌতুক ও পারিবারিক নির্যাতন, দাম্পত্য কলহ, সম্পর্কের জটিলতা, যেমন- পারিবারিক/ প্রেম/ বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক, উত্যক্তকরণ ও প্ররোচিত আত্মহত্যা, অনাকঙ্খিত গর্ভধারণ ও লোকলজ্জার ভয়, প্রেম ও পরীক্ষায় ব্যর্থতা, অর্থনৈতিক সংকট (দারিদ্রতা ও বেকারত্ব)। আত্মহত্যার উপকরণের সহজ লভ্যতা ও মানসিক অসুস্থ্যতা, বিষন্নতা, মাদক নির্ভরতা, ব্যক্তিত্বের বিকার, সিজোফ্রেনিয়াও আক্রান্ত হলেও আত্মহত্যা করে থাকে। জটিল শাররিক রোগযন্ত্রণা থেকে মুক্তি, দ্রুত নগরায়ন ও পরিবারতন্ত্রের বিলুপ্তি (স্বতন্ত্রবাদ বনাম আত্মকেন্দ্রীকতা), নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক বিচ্যুতি, অপরাধ পরবর্তী আত্মহত্যা এবং অপরকে অনুকরণ করো ইত্যাদি কারণে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী পরিণত বয়সের নারী-পুরুষের মধ্যে ১৬.১ ভাগ এবং ১৩.৪ ভাগ শিশু মানসিক রোগে ভুগছে।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের চাইল্ড এডোলোসেন্ট অ্যান্ড ফ্যামিলি সাইকিয়াট্রিক ডা. হেলালউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই আত্মহত্যা প্রবণতা প্রতিরোধ করতে হলে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, আত্মহত্যার উপকরণের সহজপ্রাপ্তি হ্রাস, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর প্রতি বিশেষ সহায়তা প্রদান (মাদকাসক্ত, এইচআইভি পজেটিভ) নির্যাতনের শিকার কারাবন্দির প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। এছাড়াও সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ়করণ, নৈতিক শিক্ষা ও ধর্মীয় অনুশাসন, মানসিক রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা, কুসংস্কার দূর করা, নারীর ক্ষমতায়ন, বিশেষ পরামর্শ সেবা, প্রাতিষ্ঠানভিত্তিক সার্বক্ষণিক হেল্পলাইন ইত্যাদি পদ্ধতি চালু করতে হবে বলে জানান তিনি।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ