ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ১২ লাখ টাকা দাবি; ৫ পুলিশ প্রত্যাহার!

Spread the love

যশোর প্রতিনিধি: ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করায় যশোরের অভয়নগর থানার পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে তাদেরকে যশোর পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়। কর্মকর্তারা হলেন- এসআই গিয়াস উদ্দিন, এএসআই আয়নাল, এএসআই শামসুর রহমান, এএসআই তবিবুর রহমান ও এএসআই কাজী শাহ আলম। অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ গনি মিয়া পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে কি অভিযোগে তাদের প্রত্যাহার করা হয়েছে তা তিনি বলতে চাননি।
ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামির নিকট ১২ লাখ টাকা দাবি করায় ওই পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয় বলে পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশের ওই সূত্র জানায়, গত বুধবার (১৫ আগস্ট) রাতে অভয়নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গিয়াস উদ্দিন এবং সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) শামসুর রহমান উপজেলার বুইকরা গ্রামের গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি মোহাম্মদ আলীকে (৩০) আটক করেন। এরপর তাকে থানায় রেখে বেদম প্রহার করা হয়। পরে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ১২ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
মোহাম্মাদ আলীর বোন জোহরা খাতুন জানান, মোহাম্মাদ আলী চট্টগ্রামে ট্রাকে হেলপারি করেন। তার নামে তিনটি ওয়ারেন্ট রয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে তিনি বাড়িতে ভাত খাচ্ছিলেন। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেলে করে এসে ছয় জন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। ওই রাতে থানায় গিয়ে তাকে আমরা পাইনি। রাত ১১ টায় তাকে থানায় আনা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার আমরা ওসি এবং এসআই গিয়াস উদ্দিনের সাথে দেখা করি। এরপর ওইদিন সন্ধ্যায় তাকে আদালতে নেয়ার উদ্দেশ্যে থানা থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। তার সাথে আরো একজন আসামি ছিল। পুলিশ ওই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করে। কিন্তু মোহাম্মাদ আলীকে আদালতে সোপর্দ করেনি। বৃহস্পতিবার রাতে আবার থানায় ফিরিয়ে আনে। এরপর থানা ভবনের দোতলায় একটি ঘরে আটকে রেখে বেদম মারা হয়।
তিনি জানান, তাকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো হয়। তাকে ক্রসফায়ার থেকে বাঁচাতে পুলিশ আমাদের কাছে ১২ লাখ টাকা দাবি করে। আমরা গরিব মানুষ। এতো টাকা কোথায় পাবো। আজ (শুক্রবার) সকালে থানায় গিয়ে আহত অবস্থায় আমার ভাই মোহাম্মাদ আলীকে দেখেছি।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম রব্বানী বলেন, অভয়নগর থানার পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করার কথা। তাদেরকে প্রত্যাহার করা হয়েছে কি না- এই মুহূর্তে ঠিক বলতে পারছি না। তিনি অভয়নগর থানার ওসিকে ফোন করতে বলেন।
অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ গনি মিয়া বলেন, উপজেলার বুইকরা গ্রামের মোহাম্মদ আলীকে বৃহস্পতিবার রাতে আটক করা হয়। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে একটি স্যুটারগান, এক রাউন্ড গুলি ও ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তার নামে ৩ টি মামলার ওয়ারেন্ট ছাড়াও ৩টি মাদক মামলা রয়েছে। শুক্রবার তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ৫ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে কেন প্রত্যাহার করা হয়েছে তা তিনি বলতে চাননি। তবে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ৫ পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ