ছুরি-কাচি বা ব্যাগ-পোটলা বহন নিষিদ্ধ: ডিএমপি কমিশনার

Spread the love
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা ক্রাইম ডটকম: আসন্ন পবিত্র আশুরা উপলক্ষ্যে হোসনি দালানের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে জঙ্গি হামলার কোনো আশঙ্কা নেই। তবে সম্ভাব্য সব ধরনের হুমকি বিবেচনায় রেখে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তারপরও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট, সোয়াত, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ক্রাইম সিনসহ পুলিশের পোশাকে ও সাদা পোশাকে নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবে। এজন্য কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।
১৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর লালবাগের হোসনি দালান ইমামবাড়ীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, তাজিয়া মিছিলকে কেন্দ্র করে হোসনি দালান থেকে ধানমন্ডি লেক পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে। আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে তাজিয়া মিছিলে ঢোল বাজিয়ে দা, ছুরি, তলোয়ার ও লাঠিখেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ১২ ফুটের বেশি বড় নিশান মিছিলে ব্যবহার করা যাবে না। আগুনের ব্যবহার করা যাবে না। মিছিলে ব্যাগ, পোঁটলা, টিফিন ক্যারিয়ার বহন করা যাবে না। অংশগ্রহণকারীদের মিছিলে ঢোকার আগেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তল্লাশির মুখোমুখি হতে হবে। মাঝপথে কেউ মিছিলে অংশ নিতে পারবেন না। বিবিকা রওজাসহ রাজধানীতে মিছিল যাওয়ার প্রতিটি পথে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। মিছিলের ও হোসনি দালানের স্বেচ্ছাসেবীদের শনাক্ত করতে আলাদা আর্ম ব্যাজ ব্যবহার করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, তাজিয়া মিছিলে যে নিশান ব্যবহার করা হবে তা যেন ১২ ফুটের বেশি বড় না হয়। বেশি হলে রাস্তায় ইউটিলিটি সার্ভিসের তারগুলো নষ্টের আশঙ্কা থাকে। ঢাক-ঢোল, বাদ্যযন্ত্র, উচ্চ শব্দে সাউন্ডবক্স বাজানো যাবে না। মিছিলে ছুরি, কাচি, লাঠি, ইত্যাদি কোনো কিছু ব্যবহার করা যাবে না। আশুরা উপলক্ষে আতশবাজি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পুরো মিছিলের দুই দিকে পুলিশ বেষ্টনি দেয়া থাকবে। নাশকতা এড়াতেই এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এমনকি যেসব রুটে মিছিল যাবে ওইসব রুটের রুপটপ নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হবে। আশুরার মিছিলকে ঘিরে রাস্তায় হকার বা মেলা বসতে পারবে না। ব্যাগ, ছুরি, ধাতব পদার্থ ও তরবারি কেউ নিতে পারবে না। পাঞ্জা মেলানোর সময় শক্তি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা হয়ে থাকে। সেই শক্তি প্রদর্শন এবার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রত্যেককে আর্চওয়ের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতে হবে।
নিরাপত্তা পরিদর্শনের সময়ে ডিএমপি কমিশনারের সাথে ছিলেন, কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম, কৃষ্ণপদ রায়, যুগ্ম কমিশনার শেখ নাজমুল আলম, মফিজ উদ্দিন আহমেদ, ডেপুটি কমিশনার (সিটি) প্রলয় কুমার জোয়ারদারসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা।
অপরদিকে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এক নির্দেশনায় জানিয়েছেন, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর পবিত্র আশুরা উদ্যাপন উপলক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়ে তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
উক্ত তাজিয়া মিছিলে পাইক দলভুক্ত ব্যক্তিবর্গ দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি ইত্যাদি নিয়ে অংশগ্রহণ করে ক্ষেত্র বিশেষে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। যা ধর্মপ্রাণ ও সম্মানিত নগরবাসীর মনে আতংক ও ভীতিসৃষ্টিসহ জননিরাপত্তার প্রতি হুমকি স্বরূপ। তাছাড়া মহররম মাসে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আতশবাজি ও পট্কা ফোটানো হয়। যা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যেহেতু ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় সম্মানিত নাগরিকবৃন্দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, সেহেতু আমি মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বিপিএম-বার, পিপিএম, পুলিশ কমিশনার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স (অর্ডিন্যান্স নং-ওওও/৭৬) এর ২৮ ও ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে তাজিয়া মিছিলে দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি ইত্যাদি বহন এবং আতশবাজি ও পট্কা ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করছি।
Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ