আগামী ১০ অক্টোবর ২১ আগস্ট মামলার রায় ঘোষণা

Spread the love
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা ক্রাইম ডটকম: শেষ হয়েছে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও হত্যা মামলার নিম্নআদালতের বিচারকাজ। আগামী ১০ অক্টোবার রায় ঘোষণা করা হবে। একই সাথে এই মামলায় জামিনে থাকা সাবেক ৩ আইজিপিসহ ৮ জনের জামিন বাতিল করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক।
১৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার আইনি বিতর্ক শেষ হওয়ার মাধ্যমে এই মামলার বিচারকাজ শেষ করার পর রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেন ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন।
২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের মহাসমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হত্যাকান্ড ও বিস্ফোরক আইনে মতিঝিল থানায় দায়ের করা দুইটি মামলায় ঘটনার পৃথক মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৫২ জন। এর মধ্যে অন্য মামলায় ৩ জন আসামির মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়ায় তাদেরকে মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। এখন বাকী ৪৯ আসামির বিচার চলছে। এর মধ্যে ১৮ জন আসামী পলাতক রয়েছে।
মামলার আসামি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, সেনা কর্মকর্তা রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীসহ ২৩ জন আসামী কারাগারে রয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পলাতক রয়েছেন।
এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুর সোয়া ১২টায় এ মামলার রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন। তিনি শুরুতে ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে গ্রেনেড পরিকল্পনার ১০টি ঘটনাস্থল রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে পেরেছে বলে জানান। এর পর তিনি শোনা সাক্ষী গ্রহণ করার বিষয়ে উচ্চ আদালতের একটি সিদ্ধান্তও দাখিল করেন। এ ঘটনায় ১৫টি গ্রেনেড ব্যবহার বিষয়ক যুক্তিগুলো রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করেছে বলে জানান। একই সঙ্গে জামিনে থাকা ৮ আসামির জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানান তিনি। জামিন বাতিল চাওয়া ৮ আসামিরা হলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা, শহিদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরী এবং মামলাটির তিন তদন্ত কর্মকর্তা সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সিআইডির সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান, এএসপি আব্দুর রশীদ ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম।
এদিকে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে আসামি আবুল কালাম আজাদ, শেখ আব্দুস সালাম, মাওলানা ইয়াহিয়া, আব্দুল হান্নান সাব্বির ও শেখ ফরিদের পক্ষে যুক্তি খন্ডন শুরু করেন আইনজীবী মাঈনুদ্দিন মিয়া। তিনি মামলাটিতে দাখিলকৃত সম্পূরণ তদন্ত প্রতিবেদন দায়রা আদালত এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে গ্রহণ করেছেন বলে উল্লেখ করে এ সংক্রান্তে উচ্চ আদালতের একটি সিদ্ধান্তও দাখিল করেন।
এ ছাড়া জজ মিয়া, আবুল হাসান রানাসহ তিনজনের স্বীকারোক্তি বিবেচনার বিষয়ে উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়েও অবহিত করেন। তিনি বিচারকালীন সব আসামিকে নির্দোষ ভাবতে হবে মর্মে উচ্চ আদালতের একটি সিদ্ধান্তও আদালতে দাখিল করেন।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত জনসভায় সন্ত্রাসীরা ভয়াবহ গ্রেনেড চালায়। এই গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতা-কর্মী নিহত হয়েছিলেন। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২২৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। আসামিপক্ষ সাক্ষীদের জেরা করেছে। গত বছরের ৩০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দের জেরা শেষের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়।
Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ