নবজাতককে মৃত ভেবে কাপড় মুড়িয়ে রাখা হয়; অতঃপর…

Spread the love

যশোর প্রতিনিধি: যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্রসূতি সালমা খাতুনের (২৮) ডেলিভারি হওয়ার পরে যে নবজাতক সন্তানের জন্ম হয় সেই নবজাতককে মৃত ভেবে কাপড়ে মুড়িয়ে বেডের নিচে রাখেন হাসপাতালের আয়া। তবে তিনঘন্টা পর রাত পৌনে আটটার দিকে স্বজনরা বেডের নিচ থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পান। তখন কাপড় খুলে দেখেন সদ্যজাত শিশুটি নড়াচড়া করছে।
সালমা খাতুন যশোর শহরের খোলাডাঙ্গা এলাকার ফারুখ হোসেনের স্ত্রী।
এই নিয়ে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে স্বজনদের সাথে সেবিকাদের মধ্যে হট্টগোল হয়। খবর পেয়ে চিকিৎসক প্রসূতি ওয়ার্ডে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তির পরামর্শ দেন। স্বজনদের অভিযোগ সেবিকা, আয়াদের কর্তব্যের অবহেলার কারণে নবজাতক শিশুটির জীবন সংকটাপূর্ণ হয়েছে।
প্রসূতির খালা আয়শা ও রোজিনা অভিযোগ করে বলেন, গত ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল আটটার দিকে সালমাকে গাইনী ওয়ার্ডে ডা. ইলা মন্ডলের অধীনে ভর্তি করা হয়। কিন্তু রোগীকে সঠিকভাবে ব্যবস্থ্যাপত্র দেওয়া হয়নি। তিনদিন পরে আজ মঙ্গলবার প্রসূতি মায়ের ব্যাথা উঠে। তখন স্বজনরা সেবিকা ও চিকিৎসককে ডাকাডাকি করলেও কেউ তাদের সাড়া দেননি। পরে আয়া হেলেনা প্রসূতি সালমার অপরিপক্ক ২৭ সাপ্তাহের শিশুকে বেডের ওপরে জন্ম দেন। এ সময় বাচ্চা নড়াচড়া না করার কারণে আয়া হেলেনা মৃত ভেবে শিশুটিকে কাপড়ে পেচিয়ে ওই বেডের নিচে রেখে দেন। পরে রাত পৌনে আটটার দিকে প্রসূতির স্বজনরা শিশুর কান্নার শব্দ পেয়ে শিশুটিকে খোজা শুরু করেন। এ সময় বেডের নিচ থেকে তারা শিশুটিকে মুড়ানো অবস্থায় উদ্ধার করেন। এই নিয়ে ওয়ার্ডে স্বজনদের সাথে আয়া ও সেবিকাদের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়।
খবর পেয়ে আবাসিক সার্জন নিলুফার ইয়াসমিন ওয়ার্ডে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় তিনি পরীক্ষা নিরিক্ষা করে নবজাতককে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তির পরামর্শ দেন।
এ ব্যাপারে ডা. নিলুফার ইয়াসমিন এ্যামেলি উপস্থিত সাংবাদিদের জানান, রোগী তার ইউনিটের না। অন্য ইউনিটের, গত চারদিন ধরে হাসপাতালে প্রেসার বেশি থাকায় প্রসূতিকে অবজারভেশনে রাখা হয়। মঙ্গলবার বিকালে শিশুটি প্রি-ম্যাচিউর জন্ম নিয়েছে। ওয়ার্ডে হট্টোগোলের খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে এসেছি। প্রসূতির প্রেসার বেশি থাকার কারণে বাচ্চার জন্ম হয়েছে। অনেক সময় এ ধরনের শিশু মৃত হয়। শিশুটিকে নড়াচাড়া করতে না দেখে আয়া মনে করেছে শিশুটি মৃত জন্ম নিয়েছে। তাই সে শিশুটিকে কাপড়ে মুড়িয়ে বেডের নিচে রেখে দেন। তবে আয়া প্রসূতির ডেলিভারি করতে পারেন না। এ সময় সেবিকা থাকলে এ সমস্যা হতো না।
শিশু ওয়ার্ডের চিকিৎসকরা জানান, শিশুটিকে ব্যবস্থাপত্র দিয়ে ইনকিউবেডে রাখা হয়েছে। শিশুটির স্বজনরা উন্নত সেবার ব্যবস্থা নিতে পারলে শিশুকে বাঁচানো সম্ভব। তবে সেটি ব্যয়বহুল।
এ ব্যাপারে ডা. ইলা মন্ডলের মুঠো ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া গেছে।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ