আহছানউল্যাহ ইউনিভার্সিটিতে ৯ দফা দাবী আদায়ে শিক্ষকদের কর্মবিরতি 

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত আহসানউল্যাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স টেকনোলজিতে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, ক্লাশ সপ্তাহে ৯ ক্রেডিট এবং শিক্ষকদের জন্য গঠিত বোর্ডে শিক্ষকদের প্রতিনিধি রাখাসহ ৯ দফা দাবি বাস্তবায়ণে কর্ম-বিরতি পালন করছেন কর্তব্যরত সকল শিক্ষকরা।

আজ সকাল দশটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান বর্জন করে এ কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষকরা। এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে দাবি আদায়ে আন্দোলন করলেও পাঠদানসহ সকল কার্যক্রম চালিয়েছেন শিক্ষকরা। কিন্তু গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড মিটিংয়ে দাবি আদায়ের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় শিক্ষকরা কর্মবিরতি ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য আবদুল এম.এম. শফিউল্লাহকেও অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। কিন্তু তাতেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় আজ থেকে অনির্দিষ্ট কালের কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন শিক্ষকরা।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষকরা জানান, তারা গত জুলাই মাস থেকে নয় দফা দাবি বাস্তবায়ন চেয়ে আসছেন। এগুলো হলো- সম্প্রতি প্রকাশিত শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা ও চাকরির যোগ্যতা অবিলম্বে বাতিল; সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনদের নিয়ে অংশগ্রহণমূলক কমিটি গঠন করে চার স্তরের শিক্ষক পদ রেখে (প্রভষক, সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক) নতুন শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করে নিয়োগে চাকরির যোগ্যতা প্রণয়ন; বর্তমান বেতন ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সমঅনুপাতে বাড়ানো; বাৎসরিক মূল বেতনের ১০ শতাংশ বৃদ্ধি; সব শিক্ষকদের জন্য কারিগরি ভাতা; চাকরিতে যোগ দেওয়ার শুরু থেকেই গ্র্যাচুইটি চালু করা; মানসম্পন্ন গবেষণা কাজ ও প্রকাশনার জন্য বাড়তি প্রণোদনা; সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ অনুযায়ী এখনকার তুলনায় ক্রেডিট ঘণ্টা কমানো ও তা পদ অনুযায়ী বণ্টন করা (যেমন- অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকদের জন্য ৯ ক্রেডিট ঘণ্টা এবং সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকদের জন্য ১২ ক্রেডিট ঘণ্টা) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কমিটিতে (বেতন কমিটি, একাডেমিক কমিটি, নীতি নির্ধারণী কমিটি ইত্যাদি) প্রতিটি নিয়মিত অনুষদের সর্বস্তরের শিক্ষক প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা।

আর্কিটেকচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সৈয়দ মমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের দাবি বাস্তবায়ণে কোনো প্রতিশ্রুতি না পাওয়ায় আজ থেকে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য পাঠদানসহ সকল কার্যক্রম বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছি আমরা। শুনেছি আজকে ট্রাস্টি বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ে এ বিষয়ে উপচার্যের সঙ্গে আলাপ হচ্ছে। তবে সিদ্ধান্ত কি হয় সে অপেক্ষায় আছি আমরা। যদি দাবি মানা না হয় তাহলে কঠোর আন্দোল করার হুশিয়ারি দেন তিনি।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ