স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হত্যার পলাতক আসামি কানাডার সা. সম্পাদক!

Spread the love
।। সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট ।।
স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামিই কানাডা শাখার সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। পলাতক আসামীর নাম সোহেল শাহরিয়ার ওরফে শর্টগান সোহেল।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর কানাডাতে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ফয়জুল করিমকে সভাপতি করে দুই বছরের জন্য কমিটি গঠন করা হয়। এতে করে বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনটির ভেতরে-বাইরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিকে ম্যানেজ করেই তিনি এই পদ বাগিয়ে নিয়েছেন।
জানা গেছে, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মতি-মহসিন কমিটির সদস্য, ৩৪ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. কাউছার আলীকে ২০০৮ সালের ৪ মার্চ রাজধানীর শাহজাহানপুরে দিনে-দুপুরে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যাকান্ডের পর নিহতের চাচা মো. আমির আলী অজ্ঞাতদের আসামী করে মতিঝিল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশের তদন্তে কাউছার আলী হত্যার মূল ঘাতক হিসেবে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শাহজাহানপুরের সোহেল শাহরিয়ার ওরফে শর্টগান সোহেলের নাম প্রকাশ পেলে তিনি দেশ থেকে পালিয়ে কানাডায় আশ্রয় গ্রহণ করেন। পুলিশের তদন্তে এ হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে রাজধানীর শীর্ষ সন্ত্রাসী জাফর আহম্মেদ ওরফে মানিকসহ বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এলে তারাও দেশ থেকে পালিয়ে যান। পরিকল্পনাকারী মানিক ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে হামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।
এ দিকে বিচারাধীন থাকা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কাউছার আলী হত্যা মামলার অন্যতম আসামি শর্টগান সোহেলকে একই সংগঠনের কানাডার সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষনা করায় আওয়ামী লীগ ও এর অংগসংগঠনের ভেতরে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, দলটির সিনিয়র নেতারা কানাডা স্বেচ্ছাসেবক লীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি প্রকাশের আগে বিতর্কিত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে পরিচ্ছন্ন কমিটি ঘোষণার আহবান জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, রাজনীতিতে এখন আর শর্টগানের ঝন-ঝনানী নেই, সুতরাং শর্টগান সোহেলদেরও আর আওয়ামী লীগ বা অঙ্গ সংগঠনে রাখার প্রয়োজনও নেই।
ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) কাউছার আলী হত্যা মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ২০১৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সিএমএম আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। চার্জশিটে বলা হয়, ‘সিআইডি এই মামলা তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন করে ২১ জন সাক্ষীকে নিবিরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে এলাকার আধিপত্য ও ডিস ব্যবসা নিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী জাফর আহম্মেদ ওরফে মানিকের সঙ্গে নিহত কাউছার আলীর চরম শত্রুতা ছিল। এই অবস্থায় স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবেও নিজের প্রার্থীতা ঘোষনা করেন কাঊছার আলী। এতে তাদের মাঝে শত্রুতা চরম আকার ধারণ করে। ২০০৮ সালের ৪ মার্চ মানিকের পরিকল্পানা অনুযায়ী শাহজাহানপুর এলাকায় শর্টগান সোহেল ও তার সহযোগীরা গুলি করে ও কুপিয়ে ভিকটিম কাউছার আলীকে হত্যা করে। সাক্ষী-প্রমাণে এমন সব তথ্য পাওয়া গেছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করেন সিআইডির তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার রতন কৃষ্ণ নাথ।
Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ