আইসিটি’র অপব্যবহার বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি: প্রধানমন্ত্রী

Spread the love

।। ঢাকা ক্রাইম ডেস্ক।।

জাতিসংঘকে নিরাপদ ডিজিটাল বিশ্ব গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা পালন এবং তথ্য নিরাপত্তায় নীতিমালা প্রণয়নে সংস্থার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গতকাল মঙ্গলবার ইউএনজিএ-তে জাতিসংঘ নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিএ) আয়োজিত সাইবার নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব অনুষ্ঠানে এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল বিশ্বকে অধিকতর নিরাপদ করে তুলতে জাতিসংঘ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া তথ্য নিরাপত্তা বিধানে নীতিমালা প্রণয়নের কার্যক্রম অব্যাহত থাকা চাই।

শেখ হাসিনা আইসিটি অপব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আইসিটি’র অপব্যবহার আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি বলেন, সাইবার জগতের কোনো ভৌত সীমানা নেই। রাষ্ট্রসমূহের আইটিকে নিরাপদ করার সামর্থ্য নেহায়েত অপ্রতুল। আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বে দুর্বল সংযোগ অন্যান্যের জন্য ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে। তাই সাইবার নিরাপত্তা সবার জন্য উদ্বেগের বিষয়।

প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্ক রয়েছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, কিছু কিছু দেশ আইসিটিকে সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের বিষয়ে কাজ করছে। সন্ত্রাসী ও সহিংস উগ্রবাদীরা এটিকে তাদের বিষাক্ত বক্তব্য প্রচারে ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, আইসিটি খাতে আমাদের কষ্টার্জিত সাফল্যকে নিরাপদ রাখা প্রয়োজন। কেননা, সারা বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো নিয়মিতভাবে সাইবার হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

শেখ হাসিনা অপরাধমূলক সাইবার কর্মকাণ্ডের উৎস শনাক্ত করতে পারার প্রযুক্তি ও তথ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবেশাধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সত্যিকার উৎস শনাক্তকরণ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিরাপদ ডিজিটাল বিশ্ব গঠনে জাতিসংঘের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত সাইবার নিরাপত্তায় ব্যবহৃত কৌশলসমূহকে আরও অংশগ্রহণমূলক করে গড়ে তোলা দরকার।

সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে তাদের উদ্বেগ প্রকাশের সুযোগ দেয়া উচিত উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব তার নিরস্ত্রীকরণ কর্মসূচিতে এর স্বীকৃতি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ক্ষতিকর সাইবার কর্মকাণ্ড রোধ ও মোকাবেলায় জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অনাক্রমণাত্মক উপায় ব্যবহারকে উৎসাহিত করা উচিত। সাইবার বিশ্বে অধিকার ও স্বাধীনতার প্রশ্নটি যথাযথভাবে মোকাবেলা করা উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাইবার বিশ্বে জাতিসংঘ সনদের মূল নীতিসমূহ এবং প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগ করা উচিত। রাষ্ট্রসমূহকে অবশ্যই কোনো ধরনের ক্ষতিকর সাইবার কর্মকাণ্ড পরিচালনা বা সমর্থন না করতে তাদের অঙ্গীকারের প্রতি অবিচল থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রসমূহের তাদের ভূখন্ডকে অন্য রাষ্ট্রসমূহের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহৃত হওয়াও প্রতিরোধ করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এসব প্রতিশ্রুতি আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছে এবং অন্যরাও তা করবে বলে আমরা আশা করি।

তিনি বলেন, সাইবার নিরাপত্তার সামর্থ্য বিনির্মাণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে অবশ্যই অগ্রাধিকার দিতে হবে। উন্নয়ন সহযোগীদের এটিকে তাদের আন্তর্জাতিকভাবে গৃহীত অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে বিবেচনা দিতে হবে।

বাংলাদেশ একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ সাইবার নিরাপত্তা ইকো-সিস্টেম তৈরিতে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস হওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটি সাইবার সিকিউরিটি ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম রয়েছে যেটি অপরাপর রাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করে থাকে এবং প্রশিক্ষণের জন্য একটি ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা প্রতিষ্ঠা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমরা অপর বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শেখার আশা করি।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০ বছর আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম মেয়াদে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে শান্তির সংস্কৃতির ধারণা উপস্থাপন করেছিলেন।

তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের তৃতীয় মেয়াদের শেষ দিকে এসে আমি জাতিসংঘ এবং অন্য সব স্থানে সাইবার নিরাপত্তা সংস্কৃতি প্রসারে বাংলাদেশের সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের অবশ্যই আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও সুলভ সাইবার বিশ্ব গঠনের জোরালো রাজনৈতিক সংকল্প ব্যক্ত করা উচিত।

অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক প্রতিনিধি ইজুমি নাকামিৎসু, সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান, এস্তোনিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল টিসালু এবং জাপানের সাইবার পলিসি বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত মাসাতো ওতাকাও বক্তব্য রাখেন।

আইসিটি ফর পিস-এর সিনিয়র এডভাইজর এনিকেন টিকের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব আহমেদ ওয়াজেদ, ইউএনওআইসিটি’র গ্লোবাল সার্ভিস ডিভিশনের ডিরেক্টর সালেম আভান এবং মাইক্রোসফটের সাইবার সিকিউরিটি এন্ড পলিসি বিষয়ক সিনিয়র ডিরেক্টর এঞ্জেলা ম্যাককেইও এতে বক্তৃতা করেন। সমাপনী বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। সূত্র: বাসস।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ