র‌্যাবের অভিযানে রাজশাহীতে বিদেশী পিস্তলসহ জেএমবি’র ৩সদস্য গ্রেফতার

Spread the love

বিশেষ প্রেস বিজ্ঞপ্তি; র‌্যাবের অভিযানে রাজশাহী জেলার পুঠিয়া থানাধীন জামিরা এলাকা হতে বিদেশী পিস্তল, আইইডি, গান পাউডার, জিহাদী বই এবং বোমা তৈরীর বিভিন্ন সরঞ্জামাদিসহ জেএমবি’র ০৩ জন সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার।

১। এলিট ফোর্স র‌্যাব তার সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ এর বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থানে থেকে নিরলস ভাবে কাজ করে আসছে। র‌্যাবের কর্ম তৎপরতার কারনেই সারাদেশে একযোগে বোমা বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন সময়ে নাশকতা সৃষ্টিকারী জঙ্গি সংগঠন সমূহের শীর্ষ সারির নেতা থেকে বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মীদেরকেও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভবপর হয়েছে। আটকৃতদের মধ্যে কারো কারো মৃত্যুদন্ড, যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়েছে, কেউ কেউ বিভিন্ন মেয়াদের কারাভোগ করেছে এবং বেশকিছু মামলা এখনো বিচারাধীন। উল্লেখ্য যে, সাংগঠনিকভাবে পূর্বের মতো সারাদেশে একযোগে নাশকতা সৃষ্টি করাসহ পরিকল্পিতভাবে কোথাও বোমা বিস্ফোরণের সক্ষমতা না থাকলেও, যে সকল জঙ্গি এখনো আত্মগোপন করে আছে তাদের তৎপরতা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। তবে র‌্যাবের কঠোর গোয়েন্দা নজরদারী ও অভিযানের ফলে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনগুলোর নেতা কর্মীরা পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালিয়েও বার বার ব্যর্থ হয়েছে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে আটক হয়েছে।

২। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৫, রাজশাহীর এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অদ্য ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখ রাত্রী আনুমানিক ০৩৩০ ঘটিকায় রাজশাহী জেলার পুঠিয়া থানাধীন জামিরা গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে জেএমবি’র সক্রিয় সদস্য ১। মোঃ শরিফুল ইসলাম @ শরিফ (৪৫), পিতা-মোঃ মোখলেছুর রহমান, সাং- চাঁদপুর, থানা- শিবগঞ্জ, জেলা- চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ২। মোঃ জাকারিয়া হোসেন @ জাক্কার (৪৩), পিতা-মৃত জহুর আলী, সাং-চাকলা, থানা-শিবগঞ্জ, জেলা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ৩। মোঃ আতাউর রহমান @ আহসান হাজী (৩৫), পিতা-মৃত আব্দুর রহিম, সাং-চাকলা, থানা-শিবগঞ্জ, জেলা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ’দেরকে ০২টি বিদেশী পিস্তল, ০২টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ০৮ রাউন্ড গুলি, ৫০০ গ্রাম গানপাউডার, ৫০ গ্রাম সোডা, ৫০ গ্রাম চুন, ০৪ টি বোমা, ০১টি আই ই ডি, ০৭টি ইয়ানতের টাকা আদায়ের রশিদ, ০৪ টি মোবাইল সেট, ০৫টি সিমকার্ড, নগদ টাকা- ৪,৮৮০/-, ০১টি বড় ছুরি, ০২টি জিহাদী বই এবং বোমা তৈরীর বিভিন্ন সরঞ্জামাদিসহ গ্রেফতার করা হয়।

৩। গত ১৮ ই ফেব্রুয়ারী ২০১৮ তারিখ রাজশাহী জেলার তানোর থানাধীন বিলশহর গ্রামে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন জেএমবি এর সক্রিয় সদস্য মোঃ সাহেবজান আলীর বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে এবং তার দলের আরও দুই সদস্য, গান পাউডার, জিহাদী বই এবং বোমা তৈরীর বিভিন্ন উপকরণসহ গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু ঘটনাস্থল থেকে আরও কিছু সদস্য পালিয়ে যায়। তাদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদকালে জানা যায় যে, বর্তমানে তারা জিয়াউল @ জিয়াউর @ জাকিউল @ জিয়া নামক রাজশাহী অঞ্চলের এক দায়িত্বশীলের নেতৃত্বে মাঠ পর্যায়ে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে এবং তার অধীনে আরও কিছু সাথী ভাই রাজশাহী, চাঁপাই, নওগাঁ সহ বিভিন্ন অঞ্চলে কাজ করছে। এরূপ তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৫, রাজশাহী অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা নজরদারী অব্যাহত রাখে। ক্রমাগত নজরদারীর ধারাবাহিকতায় জানতে পারি যে, সংগঠনের কিছু সক্রিয় সদস্য প্রায়ঃশই চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং রাজশাহী জেলার বিভিন্ন এলাকায় গোপন স্থানে জমায়েত হয় এবং নাশকতামূলক কর্মকান্ড চালানোর পরিকল্পনা করছে। এরূপ নজরদারীর এক পর্যায়ে আমাদের গোয়েন্দা শাখা একটি গোপন তথ্য পায় যে, এই সংগঠনটির কিছু সক্রিয় সদস্য নাশকতার পরিকল্পনা এবং তা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে রাজশাহী জেলার পুঠিয়া থানাধীন জামিরা এলাকার কোন গোপন স্থানে জমায়েত হবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৫, রাজশাহীর একটি

বিশেষ আভিযানিক দল অদ্য ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখ আনুমানিক ০০০১ ঘটিকা হতে পুঠিয়া থানার বিভিন্ন জায়াগায় গোয়েন্দা অনুসন্ধান চালাতে থাকে। এক পর্যায়ে সুনির্দ্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আনুমানিক ০৩০০ ঘটিকায় পুঠিয়া থানার জামিরা এলাকার জনৈক বদি ডাক্তার এর ডাউলের মিল ও আশেপাশের এলাকা ঘেরাও করে । র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মিল সংলগ্ন টিন শেড বারান্দা থেকে দ্রুত অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জন লোক দৌড়ে পালিয়ে যায় এবং ঘটনাস্থল হতে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন জেএমবি’র সক্রিয় সদস্য ১। মোঃ শরিফুল ইসলাম @ শরিফ(৪৫) ২। মোঃ জাকারিয়া হোসেন @ জাক্কার (৪৩) ও ৩। মোঃ আতাউর রহমান @ আহসান হাজী (৩৫) কে উল্লেখিত আলামত সহ গ্রেফতার করা হয়।

৪। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীগন স্বীকার করে যে, তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) এর সক্রিয় সদস্য এবং সংগঠনের বিভিন্ন কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত। শরিফুল জানায়, নিজস্ব আগ্রহের কারনে সে স্থানীয় রানা নামক এক ব্যক্তির মাধ্যমে ২০০২ সালের দিকে জেএমবি নামক জঙ্গী সংগঠনে যোগদান করে। শরিফুল নিয়মিত দলের বিভিন্ন মিটিং এ অংশগ্রহণ করে এবং দেশে ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আলোচনা করে। পর্যায়ক্রমে সে সংগঠনের একজন সক্রিয় কর্মী হিসাবে দায়িত্বশীলদের আস্থাভাজন হয়ে ওঠে। ইয়ানতের টাকা সংগ্রহ, অস্ত্র, গোলাবারুদ ক্রয় ও নাশকতা মুলক কর্মকান্ডের টার্গেট সর্ম্পকে তথ্য সংগ্রহ করে সে প্রথমে রানা (বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ কারাগারে) ও পরে জিয়া নামক সংগঠনের আঞ্চলিক কমান্ডারকে হস্তান্তর করত। বিভিন্ন সময় সে দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গী ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম ঘটানোর উদ্দেশ্যে পলাতক ছিল।

৫। জাক্কার জানায় যে, সে পেশায় একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রী। স্থানীয় রবিউল, জিয়া ও বহিরাগত আউয়াল এর সংস্পর্শে সে জেএমবি নামক জঙ্গী সংগঠনে যোগদান করে। জাক্কার দলীয় মিটিং, উগ্রবাদী বই বিতরণ, ইয়ানতের টাকা আদায়, জিহাদী দাওয়াত ইত্যাদি বিভিন্ন কর্মকান্ডে স্বতঃস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। সে আরও জানায় যে, রবিউলের নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাকলা স্কুল মাঠে সে শারীরিক প্রশিক্ষনে অংশগ্রহণ ও বোমা তৈরীর পদ্ধতি এবং ব্যবহার সম্পর্কে হাতে কলমে শিক্ষা লাভ করে। পরবর্তীতে সে দেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা তৈরি ও এর ব্যবহার সর্ম্পকে সংগঠনের বিভিন্ন সদস্যদেরকে হাতে কলমে প্রশিক্ষন প্রদান করে।

৬। আহসান জানায় যে, সে নিয়মিত ইয়ানতের টাকা দিত এবং সংগঠনের বিভিন্ন মিটিং বা কর্মকান্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করত। মিটিং এ তারা বিভিন্ন সরকারী স্থাপনায় নাশকতা, উগ্রবাদী বই বিতরণ এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সর্ম্পকিত নানাবিধ বিষয় নিয়ে আলোচনা করত।

৭। উপরোক্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ