মাদক নিয়ে ডিএনসিসি প্যানেল মেয়রের ছেলেসহ গ্রেফতার ৩

Spread the love
।। হেলেনা আক্তার শিমু।।
ঢাকা ক্রাইম ডটকম: মাদক ট্যাবলেট ইয়াবাসহ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র হাজী জামাল মোস্তফার ছেলে রফিকুল ইসলাম রুবেল ও এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অপরদিকে প্যানেল মেয়র পাল্টা অভিযোগে জানিয়েছেন, তার জনপ্রিয়তাহানির জন্য ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাদের মাদক দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মিরপুর ১০ নম্বরের বি-ব্লকে অভিযান চালায় পুলিশ। পরবর্তীতে রফিকুল ইসলাম রুবেল (৩৮), তানজিলা ইসলাম ওরফে শিউলী আক্তার সীমা (২৫) ও আওলাদ হোসেনের (৩৯) শরীরের তল্লাশি চালিয়ে ১১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে একটি মামলা (মামলা নং-৮৫, ২৭/০৯/২০১৮ইং) করা হয়েছে। তাদেরকে দুপুরে সিএমএম আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের জেলহাজতে প্রেরণ করেন।
এ প্রসঙ্গে পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর ‘বি’ ব্লকে অভিযান চালিয়ে ১১৫ পিস ইয়াবাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেয় এসআই মোহাম্মদ সুলতান আলী। গ্রেফতার করা রফিকুল ইসলাম রুবেল নিজেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র হাজী জামাল মোস্তফার পুত্র বলে জানায় এবং তানজিলা ওরফে শিউলী আক্তার সীমা নিজেকে তার পুত্রবধূ বলে দাবী করেন। এসময় পুলিশ কারো কথা না শুনে তাদেরকে পল্লবী থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে পল্লবী থানার এএসআই (নিরস্ত্র) মো. ছানাউল্লাহ বাদী হয়ে মাদক আইনে একটি মামলা দায়ের করেন বলে জানান তিনি।
অপরদিকে, হাজী জামাল মোস্তফা জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে তার ‘জনপ্রিয়তা নষ্ট করতে একটি মহল তার ছেলেকে ‘ষড়যন্ত্রমূলকভাবে’ গ্রেফতার করিয়েছে। তানজিলা আক্তার শিউলী ওরফে সীমা নামের এক নারী মাদক ব্যবসায়ীকে তিনি কিছু দিন পূর্বে পুলিশে দিয়েছিলেন। তখন সে এর প্রতিশোধ নেবে বলে হুমকি দিয়েছিলো। কাল রুবেল বাসায় ছিলো। তার বন্ধু আওলাদ তাকে ফোন করে তাকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে ওই মহিলাসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়, এটা তাদেরই একটি কৌশল বলে জানান তিনি।
জানা যায়, রুবেল গ্রেফতার হওয়ার পর উত্তর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র হাজী জামাল মোস্তফা নিজে ও তার লোকজন দিয়ে তদ্বীর করেও ছেলেকে ছাড়াতে ব্যর্থ হন।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, রফিকুল ইসলাম রুবেল যাতে মিরপুরে মাদক ব্যবসায় চালিয়ে যেতে পারে, সেই জন্য তিনি সাধারণ মানুষকে মাদক ব্যবসায়ী বানানোর জন্য তৎপর হয়ে উঠেন। জমি দখলের চেষ্টার প্রেক্ষিতে তিনি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে ডিএসপি বাবুকে মাদক ব্যবসায়ী বানানোর চেষ্টা করেন। জমি দখলে ব্যর্থ হয়ে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে মিথ্যা তথ্য দিয়ে তার বিরুদ্ধে সংবাদও প্রকাশ করেন তিনি। এইসব বিষয়ে ডিএসপি বাবু কিছু দিন পূর্বে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় একাধিক জিডি করেন। এছাড়াও তিনি প্রকৃত মাদক ব্যবসী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেফাতার ও তার নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি, পুলিশ কমিশনার, র‌্যাব ফোর্সেস হেডকোয়ার্টার, সিআইডি, ডিবিসহ বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দাখিল করেন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায়।
Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ