সদ্য প্রাপ্ত

পাঁচ মাসে পৌনে ৪ কোটি ইয়াবা জব্দ : র‌্যাব ডিজি

Spread the love

।। নিজস্ব প্রতিবেদক।।

র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজির আহমেদ বলেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার পর গত পাঁচ মাসে প্রায় পৌনে ৪ কোটি পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রায় ১৭ হাজার মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর এফডিসিতে ‘মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা’ বিষয়ে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে এক ছায়া সংসদে প্রধান অথিতি হিসেবে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় মাদকের শিকড়-বাকড় অনেক গভীর হওয়ায় এটি সহজে নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

র‌্যাবের ডিজি বলেন, ‘দেশে প্রতিবছর মাদক ব্যবসায়ে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। আমরা যখন অভিযান শুরু করি তখন কল্পনাও করিনি মাদকের শিকড় এতো গভীর। আমরা দেখলাম স্কুল শিক্ষক মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, মাদ্রাসার শিক্ষক মাদকের সঙ্গে জড়িত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন তো জড়িত আছেই।

তিনি আরও বলেন, ‘এ মাদক আগে যেমন পাশ্ববর্তী বিভিন্ন দেশ থেকে আসতো এখন সেটি শুধুমাত্র মিয়ানমার থেকে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যে কারণে কক্সবাজারকে মাদকের বড় স্পট মনে করে অনেকে। কিন্তু কক্সবাজারে বসবাস করছে ২৩ লাখ লোক। তাদের সবাই তো আর মাদক ব্যবসা করে না। তাদের মধ্যে গুটি কয়েকজন এ ব্যবসা করে। কিন্তু তাদের এ গুটি কয়েকজনের কারণে পুরো দেশে গজব সৃষ্টি করছে। তাই তাদেরকে বর্জন করতে হবে।

বেনজির আহমেদ বলেন, ‘দেশে আসামিদের জন্য কারাগারে ধারণ ক্ষমতা আছে ২৫ হাজার। কিন্তু আমরা যখন অভিযান শুরু করি তখন কাররাগারে আসামি ছিল ৭৫ হাজারের মত। আর এখন গত পাঁচ মাসে আসামীর সংখ্যা ৯০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু তাদের বিচার শেষ হতে সময় লাগবে কম পক্ষে দশ বছর। ফলে মাদব কারবারীরা সঠিক শাস্তি থেকে বেঁচে যায়। তাই এটা নিয়ন্ত্রনে শুধু আমরা কাজ করলে হবে না। সেই সঙ্গে বিচার ব্যবস্থাকে গতিশীল করতে হবে।’

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ‘সম্প্রতি সংসদে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ উত্থাপন করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হল মাদক ব্যবসার সঙ্গে যারা জড়িত তারা সরাসরি মাদক পরিবহন, সরবরাহ, মজুদ কোনটাই করেন না। তাহলে তাদের কিভাবে এই নতুন আইন দ্বারা শাস্তি প্রদান করা হবে সেটি এখন দেখবার বিষয়। বেসরকারি হিসেবে বাংলাদেশে বর্তমানে ৭০ লাখেরও বেশি মাদকাসক্ত। মাদকের অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণে দণ্ড প্রদান কিংবা গ্রেফতারই একমাত্র সমাধান নয়, সবার আগে মাদকের সহজলভ্যতার সব পথ বন্ধ করতে হবে।’

বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সরকারি দল হিসেবে ছিলেন বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অফ ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলোজি এবং বেসরকারি দল হিসেবে ছিলেন আহসান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকরা। বিতর্ক শেষে সরকারি দলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে ছিলেন- অধ্যাপক আবু মো. রইস, ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, সাংবাদিক মাহমুদ আল ফয়সাল এবং মো. খুরশিদ আলম।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ