সদ্য প্রাপ্ত

পরিবহন ধর্মঘট: শ্রমিক ফেডারেশনের ২১ দিনের আল্টিমেটাম

Spread the love

।। বিশেষ প্রতিনিধি।।

 

ঢাকা ক্রাইম ডটকম: সদ্য পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ সংস্কারসহ ৮ দফা দাবিতে ৪৮ ঘন্টার পরিবহন শেষে নতুন করে ২১ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। এই সময়ের মধ্যে তাদের দাবি আদায় না হলে আরও ৯৬ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট পালন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে শ্রমিক ফেডারেশন।

২৯ অক্টোবর সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী গণমাধ্যমকে জানান, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ সংস্কার করাসহ ৮ দফা দাবিতে পরিবহন শ্রমিকদের ডাকে ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট আগামীকাল ৩০ অক্টোবার মঙ্গলবার সকালে শেষ হচ্ছে। আগামী কাল থেকে ২১ দিন গণপরিবহণ রাস্তায় চলাচল করবে। এই সময়ের মধ্যে সরকারকে আমাদের দাবিসমূহ লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানোর চেষ্টা করা হবে। এই দাবি-দাওয়া মেনে নেয়া না হলে ২১ দিন পর আবারও আমরা ৯৬ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘটে যাবো।
তিনি আরো বলেন, এই ২১ দিনের মধ্যে জনগণকে ধর্মঘটের সাথে সম্পৃক্ত করতে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে ও দেশের বড় বড় টার্মিনালগুলোতে মিছিল-মিটিং ও সমাবেশ করা হবে এবং জনগণের মধ্যে পোস্টার, লিফলেট বিতরণ করা হবে।

আমাদের কর্মসূচি আপাতত শেষ হলেও আবার আমরা সরকারকে নোটিস দেব। এই ২১ দিনের মধ্যে যদি সরকার আমাদের দাবি না মানে তাহলে ৯৬ ঘণ্টার কর্মসূচি দেয়া হবে। পূর্ব নির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩ নভেম্বর সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে নোটিস দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সংসদ আর বসছে না বলে পরিবহন শ্রমিকদের দাবি মেনে আইন সংশোধনের সুযোগ নেই।

অপরদিকে, শ্রমিক ফেডারেশন নেতা ওসমান আলী জানান, আইন বানাতে সংসদ লাগে না। অধ্যাদেশ জারি করে পরবর্তী পার্লামেন্টে পাস করালেই হয়। ১৯৮৩ সালে এরশাদ সাহেব অধ্যাদেশ জারি করে মোটর ভেহিকেল অ্যাক্ট সংশোধন করেছেন। রাষ্ট্রপতি যদি তিনবারের ফাঁসির আসামিকে এক স্বাক্ষরে মাফ করে দিতে পারেন, তাহলে আমরা ৭০ লাখ পরিবহন শ্রমিকের পক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি কি একটা অধ্যাদেশ জারি করে শ্রমিকদের রেহাই দিতে পারেন না?

উল্লেখ্য, শ্রমিকদের এই আন্দোলন নিয়ে শুরু থেকেই নীরব পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। তিনি সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকেও অনুপস্থিত ছিলেন। তবে নৌমন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিজের ভাগ্নে মারা যাওয়ায় খবর পেয়ে সকালেই তিনি মাদারীপুর চলে গেছেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমও সাংবাদিকদের এতই তথ্য জানিয়েছেন।

সোমবার জাতীয় সংসদের বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ধর্মঘটের নামে পরিবহন শ্রমিকরা সারা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। এ বিষয়ে সরকারের পুলিশ প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে দাবি করে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি চেয়েছেন। এই সংসদে পাস করা সড়ক পরিবহন আইনের কিছু ধারা পরিবর্তনের দাবিতে গত দুই দিন থেকে পরিবহন শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করছে। এই অবরোধের নামে শ্রমিকদের কেউ কেউ যে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। বিভিন্ন স্থানে যাত্রী ও চালকদের মুখে পোড়া মবিল দিয়ে লেপ্টে দেয়া হয়েছে। একটি অসুস্থ্য শিশুকে হাসপাতালে নেয়ার সময় অ্যাম্বুলেন্স আটকে দেয়ায় শিশুটি মারা গেছে। এই অবরোধে সারাদেশের মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। অবরোধের নামে মানুষের আত্ম মর্যাদায় যারা আঘাত করছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নীরব রয়েছে। এই ঘটনা আমাদের আহত করেছে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার ভোর ৬টায় পরিবহন ধর্মঘট শেষ হলেও গত রোববার সকাল ৬টা থেকে তাদের ধর্মঘটে অচল হয়ে আছে সারাদেশের সড়ক; বাস না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ছে সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন স্থানে পরিবহন শ্রমিকরা সাংবাদিক ও মোটর বাইক চালকদের হেনস্তাও করেছে। গত ২৯ জুলাই বাসচাপায় দুই কলেজশিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকার দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রাখা সড়ক পরিবহন আইন পাস করা হয়। কিন্তু ওই আইনের কয়েকটি ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সেগুলো বাতিল করার দাবি তোলেন পরিবহন শ্রমিকরা।

তাদের দাবিগুলো হলো, সড়ক দুর্ঘটনার সব মামলা জামিনযোগ্য করা, দুর্ঘটনায় চালকের পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান বাতিল, চালকের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণির পরিবর্তে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত করা, ৩০২ ধারার মামলার তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি রাখা, পুলিশি হয়রানি বন্ধ, ওয়ে স্কেলে জরিমানা কমানো ও শাস্তি বাতিল এবং গাড়ি নিবন্ধনের সময় শ্রমিক ফেডারেশন প্রতিনিধির প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করা।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ