সদ্য প্রাপ্ত

অপহৃত শিশু তোয়াছিনকে উদ্ধার করলো পুলিশ

Spread the love
।। মো: মাহমুদ হোসাইন।।
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট: রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া ৪ বছরের শিশু তোয়াছিন ইসলাম সিমনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় শিশু তোয়াছিন অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী  মো. রোমান ও তার স্ত্রীসহ মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ১) মোহাম্মদ রোমান, ২) মিম আক্তার রিয়া, ৩) সহিদুল ইসলাম মানিক, ৪) জিসান মিয়া, ৫) মোহাম্মদ আলী আহমেদ ৬) সাইফুল ইসলাম ইমন।
বৃহস্পতিবার ৩০ আগষ্ট, বিকেলে ৫টায় নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার(ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার।
তিনি বলেন, গত ২৮ আগস্ট আনুমানিক রাত পৌনে ৯টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের লিচু বাগান এলাকার ৩৪১/১ বাসা থেকে অপহৃত হয় শিশু তোয়াছিন ইসলাম সিমন। ওই রাতেই নিখোঁজ শিশুটির সন্ধান চেয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন বাবা সাইফুল ইসলাম। এরপর তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
পরদিন (বুধবার) দুপুর ২টার দিকে একটি অপরিচিত নাম্বার থেকে জানানো হয়, শিশু সিমন তাদের জিম্মায়। অপহরণ বাবদ ২০ লাখ টাকা দেয়ার কথা বলা হয়। ১০ লাখ টাকায় সমঝোতাও হয়। বিষয়টি পুলিশ অবহিত হবার পর ওই নাম্বার ধরে অভিযান শুরু হয়। ওই নাম্বার ধরেই বুধবার মধ্যরাতে বিজয় স্মরনীর পিরমা মসজিদের গলির পাশেই খোলা মাঠ থেকে ওই শিশুকে উদ্ধার করা হয়। এবং ২জনকে আটক করা হয়। তাদের দেয়া তথ্য মতে মোহাম্মদপুর, শেরে বাংলানগর ও মহাখালী এলাকা থেকে আর ও ৪জনকে আটক করা হয়।
আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে, অপহৃতের বাবা সাইফুল ইসলামের প্রতিবেশী মো. রোমান এই অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী। যে মোবাইলটি ব্যবহার করে মুক্তিপণ চাওয়া সেটি এখন সময় রোমানই ব্যবহার করেছে।
ডিসি বিপ্লব বলেন, নেপথ্যে থেকে মূল পরিকল্পনাকারী রোমান নিজেই বাবা সাইফুল ইসলামের সাথে থেকেছেন। সান্ত্বনা দিয়েছেন। সমঝোতার জন্য কথা বলেছেন। যাতে করে অপহরণের সাথে তার সংশ্লিষ্টতা কেউ ধরতে না পারে সেজন্য নিখোঁজ সংবাদ প্রচার করতে মাইকিংও করেন রোমান।
এক প্রশ্নের জবাবে তেজগাঁও বিভাগের পুলিশ কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার বলেন, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে এটা প্রতীয়মান যে আর্থিক কারণেই ওই শিশুকে অপহরণ করা হয়েছিল। অপহরণের বিষয়ে রোমান নিজেই বাবা সাইফুল ইসলামের সাথে কথা বলেছে। এক্ষেত্রে ম্যাজিক ভয়েস নামে টুলস ব্যবহার করেছে রোমান। এতে করে রোমানের কন্ঠ বিকৃত হওয়ায় কন্ঠ শুনে চেনার উপায়ও ছিল না। তবে মুক্তিপন চাইতে ব্যবহৃত ওই মোবাইলই কাল হয় রোমানের।
অপহরণকারীদের সবার বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। তারা গ্যাং হিসেবে এর আগেও কোনো অপহরণের কাজে জড়িত ছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তারা কেউ চাকরি করে না। পড়াশুনাতেও নেই। বখাটে প্রকৃতির।
বিপ্লব কুমার বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে বাবা সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন(মামলা নং৪০)। ওই মামলায় সবাইকে গ্রেফতার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমাণ্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে। আর অপহরণে সহযোগীতায় করায় আরেক নারী সহযোগী পলাতক রয়েছে তাকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ছেলেকে ফিরে পাবার পর বাবা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি এই প্রথম পুলিশের কাছে গেছি। গত ২৮টি ঘন্টা আমি উদ্বিগ্ন ছিলাম। পুলিশ আমার সোনা বাবুকে উদ্ধার করে দিয়েছে। আমি পুলিশের উপর কৃতজ্ঞ। এমন করে আর কারো বুকের মানিক যেন অপহৃত না হয় সেজন্য অভিভাবকদের সচেতন হবারও অনুরোধ জানান তিনি।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ