সদ্য প্রাপ্ত

জিপিএ-৫ পাওয়া অসহায় মীমের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

Spread the love

এম মোবারক হোসাইন , পঞ্চগড় প্রতিনিধি: দরিদ্র পরিবার, বাড়ির কাজ ও টিউশনী করে পঞ্চগড় পৌর এলাকার ডোকরোপাড়া এলাকার মোছা. আছমিনা আক্তার মিম এবারের এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে পঞ্চগড় কালেক্টরেট আদর্শ শিক্ষা নিকেতন থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। যখন স্কুলে যেতে শুরু করেছে মিম, এমন সময় বাবা প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী হন। এরপর সংসারের হাল ধরেন তার মা।

মা অন্যের বাসা-বাড়িতে কাজ করেন।২০১৬ সালের ২৬ অক্টোবর যখন মিম অষ্টম শ্রেণীতে তখন তার বাবা মারা যান। এমন অবস্থায় পড়াশোনা চালিয়ে যেতে অসহায় বোধ করে মিম।  বাবার দেখাশোনা বাড়ির ছোটখাট কাজ করে পড়াশোনা চালিয়ে যান মিম। পরে বাধ্য হয়ে সে টিউশনী শুরু করে। কিন্তু যেভাবেই হোক পড়াশোনা করতে চায় সে। এভাবেই চলছিল তার পড়াশোনা।

অন্যের কাছে সাহায্য নিয়ে এসএসসির ফরম ফিলআপ করেছে মিম। কলেজে ভর্তির টাকাও তার মায়ের কাছে নেই। ভালো ফলাফল করলেও সে পরে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে ।

পঞ্চগড় কালেক্টরেট আদর্শ শিক্ষা নিকেতন থেকে ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলে  বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।

পঞ্চগড় পৌর এলাকার ডোকরোপাড়ায় একটা ভাঙ্গাচোরা টিনের চালায় বসবাস করে মিম। সম্পত্তি বলতে এক কাঠার এই জমি। বাড়িতে আলাদা কোনো বসার জায়গা নেই। নেই চেয়ার টেবিল। তার মায়ের বয়স হয়েছে। এখন আর আগের মত কাজ করতে পারেন না। দু’বেলা দু’মুঠো খাবার যোগাড় করাই কঠিন। মিমের পড়াশোনার খরচ কোথায় পাবেন তার মা?

মিম বলে, ‘আমি বাড়ির কাজ করেছি, টিউশনী করেছি। নিজের পড়াশোনা চালিয়ে গেছি। প্রাইভেট বা কোচিং করতে পারিনি। পারলে হয়তো আরো ভালো করতে পারতাম। মা অন্যের বাসা বাড়িতে কাজ করে যা পায় তা দিয়েই সংসার চলেছে। মায়ের পক্ষে আমার পড়াশোনার খরচ চালানো সম্ভব নয়। সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে আরো ভাল করব। পড়াশোনা শেষ করে বড় কিছু হতে চাই। আমার মত অসহায় ছেলে-মেয়েদের জন্য কিছু করতে চাই।’

মিমের মা মোছা. আছিয়া খাতুন বলেন, ‘আমার পক্ষে মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালানো সম্ভব নয়। পারলে বিয়ে দিতে হবে।’

পড়শী কলেজ শিক্ষক এওয়াইএম আইনুন নিশাত বলেন, ‘মেয়ে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছে। বিত্তবানদের আহ্বান জানাচ্ছি মেয়েটা যেন পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে।’

পঞ্চগড় কালেক্টরেট আদর্শ শিক্ষা নিকেতন প্রধান শিক্ষক নাসিমুল হাসান বলেন, ‘মিম আসলেই একটা অসহায় মেয়ে। সুযোগ সুবিধা পেলে ভবিষ্যতে আরও ভালো করতে পারবে- এই বিশ্বাস আমার আছে।’

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ