কারাবন্দীদের নাস্তায় গুড়-রুটির বদলে ভুনা খিচুড়ি

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক ।। ব্রিটিশ আমল থেকে কারাবন্দীদের জন্য বরাদ্দ করা নাস্তার মেন্যু পরিবর্তন করে কারাগারে বন্দীদের সকালের নাস্তার মেনুতে পরিবর্তন এনেছে কারা কর্তৃপক্ষ। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু হওয়া সেই প্রথায় দেশের জেলখানার বন্দীদের সকালের নাশতায় দুই টুকরা রুটি আর সামান্য গুড় দেয়া হত। এখন সকালের নাস্তায় নতুন মেনুতে থাকছে ভুনা খিচুড়ি, সবজি ও হালুয়া রুটি।

রোববার (১৬ জুন) সকালে কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারে আনুষ্ঠানিকভাবে আড়াই শ বছরের প্রথা বাতিল করে, বন্দীদের সকালের নাস্তায় নতুন নিয়ম চালু করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। মন্ত্রী আজ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দীদের মধ্যে খিচুড়ি বিতরণের মাধ্যমে এর উদ্ভোধন করেন।

এসময় মন্ত্রী বলেন, কারাবন্দীদের মানসিক প্রশান্তিতে রাখতে প্রিয়জনদের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলার জন্য প্রিজন লিংক ‘স্বজন’ সার্ভিস চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কারাবন্দীরা তাদের আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রকল্প হিসেবে টাঙ্গাইলে এ সার্ভিস চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এ সার্ভিস চালু করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বন্দীরা কারাগারে থেকে মানসিক প্রশান্তি পেলে তাদের অপরাধ প্রবণতা কমবে। কারাগার হচ্ছে সংশোধনাগার। কারাগারে বন্দীদের চাহিদা অনুযায়ী ৩৮টি ইভেন্টে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ফলে কারাবন্দীরা মুক্তির পর পুনরায় অপরাধে না জড়িয়ে সংশোধনের সুযোগ পায়। কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা জানান, জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনে কারাবন্দীদের খাবার নিয়ে আলোচনা হয়। সে সময় প্রধানমন্ত্রী নাশতার পদ বদল করার কথা বলেন। এরপরই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয় কারা প্রশাসন। এতোদিন দেশের ৬৮টি কারাগারে নাশতা হিসেবে দেওয়া হতো ১০২ দশমিক ৬০ গ্রাম ওজনের দুটি আটার রুটি এবং ১৪ দশমিক ২৮ গ্রাম ওজনের গুড়। এখন থেকে তারা সপ্তাহে ২ দিন ভুনা খিচুড়ি, ৪ দিন সবজি-রুটি, বাকি ১ দিন হালুয়া-রুটি খেতে পারবেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা, উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি-প্রিজন) টিপু সুলতান, ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেরানীগঞ্জ সার্কেল রামানন্দ সরকার, কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহে এলিদ মাইনুল আমীন প্রমুখ।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ