অপহরণের ৬ দিন পর সাভার থেকে অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার; গ্রেফতার ৫

Spread the love


আশেক হোসাইন, ঢাকা ক্রাইম ডট কমঃ রাজধানী থেকে অপহরণের ছয় দিন পর সাভারের আমিন বাজার হতে অপহৃত ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব।

৮ এপ্রিল রাত ১১ টা হতে ১৭ এপ্রিল রাত সারে ১০ টা পর্যন্ত র‌্যাব-৪ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল সাভার আমিন বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অপহৃত ব্যক্তি ও একটি প্রাইভেটকারসহ অপহরণকারী চক্রের ৫ সদস্য মোঃ আজিজুল হাকিম (৪০), জেলা-মাদারীপুর, (২) মোঃ লিটন মোল্লা (২৬), জেলা-মাদারীপুর, (৩) মোসাঃ কাজল বেগম (২৬), জেলা-নড়াইল, (৪) মোঃ নজরুল ইসলাম নবু (৪২), জেলা-ভোলা এবং (৫) নুরু মিয়া@নুর ইসলাম@কাকা@মোল্লা(৬২), জেলা-পিরোজপুরকে গ্রেফতার করে।

অপহৃত ব্যক্তি মোঃ রায়হান এর পূর্ব পরিচিত মোঃ বাহার (পলাতক আসামী) তার প্রাইভেটকারে করে ঢাকা কলাবাগান হতে গত ১২ তারিখ রাত অনুমান ১১টার সময় সাভার আমিন বাজার এলাকার অজ্ঞাতনামা একটি বিল্ডিং এ নিয়ে গিয়ে তাকে সেখানে আটকিয়ে রাখে। ভিকটিমকে উক্ত স্থানে আটকিয়ে রেখে অপহরণকারীরা তার হাত ও চোখ-মুখ বেঁধে ০৬ দিন ধরে আটকিয়ে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে ভিকটিমের পরিবারের সদস্যদের মারধরের শব্দ, কান্নার চিৎকার শুনিয়ে তার পরিবারের নিকট ১০,০০,০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং মুক্তিপণের টাকা না দিলে ভিকটিমকে খুন করার হুমকি দিতে থাকে। পরবর্তীতে অপহরণকারীরা তাদের মোবাইল নম্বর হতে ভিকটিমের বাবা ও বোনের নম্বরে যোগাযোগ করে সর্বশেষ ৫,০০,০০০/-(পাঁচ লক্ষ) টাকা মুক্তিপণ রফা করে।
উল্লেখ্য যে, ড্রাইভার বাহার পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ভিকটিম রায়হানকে তার পরিবারের সদস্যদের সাথে অপহরণকারীরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে এক লক্ষ টাকা ১৫ তারিখ রাত অনুমানিক সারে ৭ টার সময় মিরপুর মডেল থানাধীন ষাটফিট ভাংগা ব্রিজের পাশের্^ একটি পরিত্যক্ত সিগারেটের বক্সের পাশে কাগজ দিয়ে পেঁচিয়ে রাখতে বললে মামলার বাদী মোঃ রবিউল ইসলাম মুরাদ ও হাসানদ্বয় উল্লেখিত স্থানে এক লক্ষ টাকা রেখে আসে। অপর পলাতক আসামী ফরিদ এসে টাকা নিয়ে যায় এবং অপহরণকারীরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানায় যে, বাকী চার লক্ষ টাকা না দিলে ভিকটিম রায়হানকে মুক্তি দেবেনা। বেশি দেরি করলে মেরে ফেলার হুমকি দিতে থাকে।
ইতোমধ্যে অপহরণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অপহৃত ভিকটিম ও প্রাইভেটকারটি উদ্ধারে র‌্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল বিভিন্ন কলা-কৌশল অবলম্বন করে ১৭ এপ্রিল সারে আট টার সময়ত আমিন বাজারে অভিযান পরিচালনা করে ভিকটিম মোঃ রায়হান (২৫) এবং ০১টি সাদা রংয়ের ১৫০০ সি.সি গাড়ি উদ্ধারসহ ৫ জন আসামীদের গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে তারাসহ পলাতক আসামী মোঃ ফরিদ উদ্দিন (৪০) ও মোঃ বাহার (৩২) এর নাম প্রকাশ করে। আসামীগণ গত দশ বৎসর যাবৎ বিভিন্ন পন্থায় ব্যবসায়ী, পেশাজীবি ও চাকুরীজীবি এবং তাদের পরিবারের সদস্যদেরকে টার্গেট করে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ পূর্বক বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন ও কৌশলে অপহরণ পূর্বক মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।
অপহরণের কৌশল সমূহঃ
কৌশল-১ঢাকাসহ আশপাশের বাস স্টেশন থেকে যাত্রীদের চাহিদা মত স্থানে যাওয়ার কথা বলে মাইক্রো বা প্রাইভেটকারে উঠানোর সাথে সাথে গাড়ীতে যাত্রীবেশে পূর্ব হতে অবস্থানকৃত ৩/৪ জন ব্যক্তি গাড়ী চলা অবস্থায় ভিকটিমকে অজ্ঞান করে অথবা হাত-পা ও মুখ বেধে তাদেরকে আপহরণকারীচক্রের সদস্যরা তাদের পরিকল্পিত এলাকায় নিয়ে আসে এবং ভিকটিমকে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করে ভিকটিমে পরিবার-পরিজনদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় করে। কৌশল-২ অপহরণকারীরা সুন্দরী মেয়ে দ্বারা ফেইসবুকের ফেইক আইডি’র মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যবসায়ী, পেশাজীবি ও চাকুরীজীবিদেরকে টার্গেট করে তার সাথে বন্ধুত্বের মাধ্যমে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে এবং পরবর্তীতে ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। একপর্যায়ে ভিকটিমের সাথে দেখা করার বায়না করে আপহরণকারী চক্রের সদস্যরা তাদের পূর্ব-পরিকল্পিত এলাকায় নিয়ে আসে এবং ভিকটিমকে আটকিয়ে রেখে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করে ভিকটিমের পরিবার-পরিজনদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় করে।
উপরোক্ত বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ