থেমে যেতে চায় না রেশমা

Spread the love

সরাইল, প্রতিনিধিঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল উপজেলার ছোট দেওয়ান পাড়া গ্রামের আকলিমা আক্তার রেশমা ভবিষ্যতে একজন উদ্যোক্তা ও একজন ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। ব্লক, বাটিক, এম্বোস, জামা তৈরী, শাড়ী, পিলু কভার বিছানার চাদর ও কুশন তৈরীর কাজ নকশিকাঁথা তৈরীতেও রয়েছে দারুণ দক্ষতা।  রেশমা আক্তার এই পর্যন্ত ৪-৫শত নারীকে এইসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। রেশমা আক্তার মৃত শিল্পের প্রশিক্ষক হিসেবেও নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন।

সে জাপানি সংস্থা জাইকার প্রকল্পে পুথির প্রশিক্ষক হিসেবেও পাশের উপজেলা নাসির নগরে গিয়েও নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। ছোট বেলা থেকেই রেশমার হাতের কাজের প্রতি আগ্রহ ছিলো বলে জানায় সে। শিখার জন্য হাতের কাছে যা কিছু পেতো তা দিয়েই কিছু বানানোর চেষ্টা করতো। পরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় সে প্রশিক্ষণ নিয়েছে।

রেশমা বর্তমানে উপজেলা মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নারীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন।  বিয়ের আগে রেশমার  কাজে মা তার প্রথম অনুপ্রেরণা যোগায়। বিয়ের পর তার স্বামী রওশন আলী শিক্ষামূলক কাজে অনেক উৎসাহিত করেছে যা তাকে আজ এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। 

ব্যক্তি জীবনে আকলিমা আক্তার রেশমা  তিন কন্য সন্তানের জননী। স্বামী রওশন আলী একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। রেশমার কাজের প্রশংসা পরিবারের লোকজন ছাড়াও আসপাশের লোকজনের  মুখেই শুনা যায়। এখন সে ছোট পরিসরে বাড়িতে  নিজ উদ্যোগে ১৫জন নারী কে নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। এখানে তারা নকশিকাঁথা ছাড়াও জামায় ফুল তোলার কাজ করছে সুবিধা বঞ্চিত নারীরা। সে চায় সুবিধা বঞ্চিত নারীদের কাজে লাগিয়ে পন্য উৎপাদন করে বাজারজাত করতে। নারীরা যেন হাত গুটিয়ে বসে না থাকে, নারীরা পিছিয়ে পড়বে না  মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে এইটা তার স্বপ্ন। রেশমা আক্তার বলেন, আমি থেমে যেতে চাই না, সুবিধা বঞ্চিত নারীদের নিয়ে কাজ করতে চাই। এইসব নারীদের সাথে কাজ করে তাদের মনের কষ্ট বুঝতে পারি। আমি চাই সমাজে নারীরা মাথা  উঁচু করে দাঁড়াবে। আমি অবহেলিত ও নির্যাতিত নারীদের পাশে দাড়াতে চাই,   তাদের নিয়ে কাজ করতে চাই। আর এইজন্য চাই পৃষ্ঠ পোষকতা ও সরকারী সহায়তা। আর একজন নারী যদি স্বামী সন্তানদের সামলে কিছুটা সময় যদি কাজে লাগিয়ে নিজেকে এবং পরিবারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা যায় তাতে ক্ষতি কোথায়। 

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ