খেলাপি ঋণ ও মাননীয় অর্থমন্ত্রী’র উদ্যোগ

Spread the love

মাননীয় অর্থমন্ত্রীর সংসদে  খেলাপি ঋণ সম্পর্কিত এবং সার্বিক অর্থনীতির প্রশ্ন উত্তর পর্ব নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় বেশ আলোচনা ও সমালোচনা লক্ষ্য করলাম। অনেকেই খেলাপি ঋণ মওকূপ করা নিয়ে নেতিবাচক সমালোচনা করেছেন। যারা সমালোচনা করেছেন তারা কি একবার ভেবে দেখেছেন যে ভাল উদ্যোগতাও যদি লোকসানের কারনে খেলাপি হন এবং ঋনের চাপে ব্যবসা পরিচালনা করতে না পারেন এবং প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায় তা হলে ব্যাংকগুলো এই টাকা কোথায় পাবে এবং গ্রাহকদের টাকা কি করে ফেরৎ দেবে। পাশাপাশি কোন একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে সেখানে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারীদের কি হবে।

বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প অনেক সময়ই ব্যবসায় লোকশান হওয়ার কারনে ঋনখেলাপি হয়ে পরে। তবে আমার অনুসন্ধানে অধিকাংশ ব্যবসায়ী চান ঋন পরিশোধ করে কিংবা নিয়মমাফিক ঋনের কিস্তি পরিশোধ করে ব্যবসা চালিয়ে যেতে। সবাই যদি ঋন খেলাপি হতো তবে দেশে এত শিল্প গড়ে উঠতো না এবং উঁচু গলায় আমাদের অর্থনীতি নিয়ে গর্ব করতে পারতাম না। একটা ছোট বিষয় চিন্তা করলেই বুঝতে সহজ হবে আমাদের দেশে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কত। আর আমরা সবাই জানি ব্যাংক কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করে একটি নির্দিষ্ট হারে  লাভ দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে।

আর ঐ সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান সেই আমানত বিভিন্ন বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ঋণ হিসেবে বিনিয়োগ করে আইনী প্রক্রিয়ায় এবং সেই বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত সূদ/লভ্যাংশ থেকেই সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের লভ্যাংশ প্রদান করে থাকে। তাই  সব ব্যবসায়ী  যদি ঋন খেলাপি হতো তবেতো দেশের প্রায় সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে যেত। হ্যাঁ তবে দেশে ঋণ খেলাপি নেই সেটাও বলার কোন সুযোগ নেই। সব দেশেই ভাল এবং মন্দ ব্যবসায়ী আছে। আর আমাদের দেশেও অবশ্যই বদ ব্যবসায়ী আছে যারা ব্যাংকের ঋণের টাকা নিজের বাবার টাকা মনে করে এবং তা ফেরত দিতে হবে না মনে করে। আসলে তারা কোন ব্যবসায়ী নয়, তারা প্রতারক।

এবং লক্ষ্য করলে দেখবেন ঐ সমস্ত ব্যবসায়ীরা ঋণ গ্রহণ করেছে প্রতারণার মাধ্যমে।আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি মাননীয় অর্থমন্ত্রী যে পদক্ষেপ গুলো নিতে যাচ্ছেন তা অত্যন্ত সময় উপযোগী। মাননীয় মন্ত্রী এটাও বলেছেন খারাপ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও উনি গ্রহণ করবেন। সব সরকারের আমলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে লবিং করে অবৈধ পথে ব্যাংক কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বেশ মোটা দাগে ঋণ গ্রহণ করে ইচ্ছাকৃত খেলাপি হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে আবার অবৈধ পন্থায় ঋণ মওকূপ করিয়েও নিয়েছে কিন্তু অল্প সংখ্যক অসাধু ব্যবসায়ীর জন্য সকল ব্যবসায়ী ক্ষতির সম্মুখীন হবেন এটা মেনে নেওয়া যায় না।

তাছাড়া সকল ব্যবসায়ীরা একটি কথা সব সময় বলে থাকেন “আমরা ব্যবসা করিনা। ব্যাংকের টাকা জোগানের চাকরি করি” এ কথার অর্থ হচ্ছে ব্যাংক কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সূদহার এত বেশী যে কোন ব্যবসায়ী তার পণ্যের বিক্রয় মূল্যে যে লভ্যাংশ নির্ধারণ করেন তা অনেক সময় উঠে আসে না ফলে ব্যাংকের ঋণের কিস্তি শোধ করতে হিমশিম খেয়ে যান এবং অনেক সময় টানা লোকশান গুনতে গুনতে কিস্তি পরিশোধের জন্য নিজের সহায় সম্বল বিক্রি করে দিতে হয়। আমাদের অনেকেরই হয়তো জানা নেই ভাল ব্যবসায়ীরা যখন লোকসানের সম্মুখীন হন তখন ব্যাংকের ঋণের দুঃচিন্তায় অনেক সময় হতাশ হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এমনকি অনেকে সইতে না পেরে হৃদযন্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারাও যান। যা হোক পরিশেষে আমার বক্তব্য এই যে মাননীয় অর্থমন্ত্রী যে উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন তাতে সার্বিক অর্থনীতি তথা ব্যবসায়ীদের যে মন্দা অবস্থা বিরাজ করছে সেখান থেকে তারা ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবেন। দেশের  অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখা সহ দেশে কর্ম সংস্থানের উন্নয়ন ঘটবে। বেকার সমস্যার কিছুটা প্রশমন হবে।সকলে ভাল থাকুন এই কামনা করছি।
মোঃ সাইফুল ইসলাম, বার্তা প্রধান
ইনিউজ৭১.কম

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ