basic-bank

মৌলভীবাজার বিআরটিএ অফিসে অভিযান; ১ দালাল আটক

জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার: দীর্ঘদিন থেকে একটি দালালচক্র মৌলভীবাজার বিআরটিএ অফিসকে ঘিরে রেখেছে। তাদের কারণে প্রয়োজনীয় কাজে আসা লোকজনকে প্রায়ই হয়রানির শিকার হতে হয়।

১৩ আগষ্ট বিকাল ৪টার দিকে মৌলভীবাজার বিআরটিএ অফিসে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল- বশিরুল ইসলাম এর নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান টের পেয়ে দালালরা দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় বিআরটিএ অফিসের এক চাকুরীহীন চাকর মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আব্দুল মতলিব এর পুত্র কয়ছর (৫২) কে মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ইং আইনে ৫শত টাকা জরিমানা ও জুড়ী উপজেলার জাঙ্গিরাই গ্রামের অদু মিয়ার পুত্র হেলাল উদ্দিন (৪১)কে ৫শত টাকা জরিমানা ও দালালীর দায়ে ১২ দিনের সাজা প্রদান করা হয়।

এ সময় কয়ছর (৫২) জরিমানার টাকা পরিশোধ করা তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এবং হেলাল উদ্দিন (৪১)কে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়। উল্লেখ্য- মৌলভীবাজার বিআরটিএ কার্যালয়ে চাকুরীহীন চাকুরেরাই এখানকার কর্মকর্তা-হর্তাকর্তা। আর সেখানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে সহযোগীতা করে আসছেন সিলেটের বিআরটিএ ডিডি মোঃ আব্দুস সাত্তার, মৌলভীবাজার বিআরটিএ এডি জয়নাল আবেদীন ও ভারপ্রাপ্ত এমভিআই হাসান । মৌলভীবাজার ‘বিআরটিএ’ অফিস জেলার সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্থ প্রতিষ্ঠান। চাকুরীহীন চাকুরেরাই এখানকার কর্মকর্তা-হর্তাকর্তা। অফিসটিতে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী বলতে রয়েছেন এডি জয়নাল আবেদীন, ও এসিস্ট্যান্ট এমভিআই (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত) হাসান, এসিস্ট্যান্ট এমভিআই ওসমান গনি ও অফিস সহকারী নজরুল । বাকীরা সবাই চাকুরীহীন চাকুরে। দস্তুর মত অফিসের চেয়ার টেবিলে বসে কাজ করা-ই শুধু নয়, কর্মকর্তা কর্মচারীসহ গোটা অফিসটি নিয়ন্ত্রণও করে এসব চাকুরীহীন চাকুরেরা। এখানকার প্রধান দালাল টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের শাহজাহান, কুমিলালার রসুলপুরের শিমুল ও আবুল কাসেম, চাঁদপুরের দুই ভাই করিম ও রহিম এবং মৌলভীবাজারের স্থানীয় দুই ভাই শাকিল ও জামিল, দস্তুর মত অফিসের ভিতরে অফিসের চেয়ার টেবিলে বসে কাজ করছে প্রকাশ্যে।

এছাড়া, অফিসে ও বাইরে যখন যেখানে প্রয়োজন সেখানেই কাজ করে সুন্দর আলী, দেলোয়ার হোসেন তরফদার, মিন্টু, মাহমুদ, রিপনসহ অনেকেই। উপরি কামাইয়ের সুবিধার্থে এডি জয়নাল আবেদীন, বর্তমানে নারায়গঞ্জে কর্মরত এমভিআই খালেকুজ্জামান ও এসিস্ট্যান্ট এমভিআই (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত) হাসানই এদেরকে নিয়োগ করেছেন বলে পরিচয় গোপণ রাখার শর্তে জানিয়েছে একাধিক গোপন সূত্র। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে- এডি জয়নাল আবেদীন ও এসিস্ট্যান্ট এমভিআই (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত) হাসানই নিজেদের কেবিনে বসে সময় কাটাচ্ছেন এবং চাকুরীহীন চাকুরে বা দালালদের দেয়া কাজগুলিই করছেন। কেউ সরাসরি তাদের কাছে গেলে, তারাই পাঠিয়ে দেন উল্লিখিত চাকুরীহীন চাকুরে বা দালালদের কাছে। এর কারণ বলাই বাহুল্য। উপরি অর্থ এবং দালাল ছাড়া কোন কাজ হাসিল করা সম্ভব হয়না মৌলভীবাজার বিআরটিএ অফিসে। এডি জয়নাল আবেদীন, এসিস্ট্যান্ট এমভিআই (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত) হাসানই এসব চাকুরীহীন চাকুরে বা দালালদের নিয়োগ ও লালন করার কারণে মোটরযান মালিক ও চালক উভয় পক্ষই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নিয়মিত। গাড়ির নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ ফিটনেসহীন যানবাহনের ফিটনেস সনদ প্রদান, অযোগ্য লোককে চালকের সনদ প্রদান ইত্যাদি সকল কাজই করা হয় এ অফিসে। উপরী টাকার বিনিময়ে দালালদের মাধ্যমে চাকুরীহীন চাকুরেরাই এসকল কাজ করে দেয় প্রকাশ্যে। এরা যেকোন গাড়ির ফিটনেস সনদ নিশ্চিত করতে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা নেয়। ব্যাংকে ৭শ ৫০ টাকা জমা দিয়ে বাকি টাকা ভাগাভাগি হয় সংশি¬ষ্ট কর্মকর্তা ও দালালের মধ্যে। ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে পরীক্ষা ছাড়াই দেয়া হয় ড্রাইভিং লাইসেন্স।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।