basic-bank

এ ভাঙ্গনের শেষ কোথায়?

ভাঙছেতো ভাঙছেই। অবিরত কঁচা নদীর ভাঙন নিঃস্ব করে দিচ্ছে স্থানীয় মানুষদের। গতকাল যে ছিল ধনী, ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে আজ সে অসহায়, রিক্ত, ঋণি। প্রকৃতির কাছে সবাই অসহায়। বাস্তব জীবনে প্রাকৃতিক বিপর্যয় এর জন্য মানুষেরও দ্বায়ভার রয়েছে যেমন, তেমনি সংশ্লিস্ট সরকারী প্রতিষ্ঠানের ও দ্বায় রয়েছে। রয়েছে তদারকির অভাব। পিরোজপুর এর কঁচা নদী তীরবর্তী কুমিরমারা, গুয়াবাড়িয়া, বানেশ্বরপুরসহ অনেক গ্রামের বাসিন্দাদের বাপ- দাদার ভিটেমাটি অনেক অাগেই কেড়ে নিয়েছে সর্বনাশা কঁচা।বর্ষাকাল এলেই স্রোতোস্বীনি কঁচা ফুলে ফেঁপে ওঠে।সারাদেশে চলছে বন্যা।

ভাঙন গ্রাস করে নিচ্ছে স্থানীয় কুমিরমারা ফেরীঘাটের সাধারণ ব্যাবসায়ী দোকানমালিকদের বেঁচে থাকার শেষ সম্ভলটুকু।

স্থানীয় বাসিন্দা দের সাথে কথা বললে তারা জানান, তাদের বাপ দাদার ভিটে মাটি হারিয়েছে সেই অনেক আগে, এখানকার মানুষ এর আয়ের উৎস জমাজমি। কিছু মানুষ জেলে-মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। প্রায় একযুগ ধরে স্থানীয় কুমিরমারা ফেরীঘাটের ব্যাবসায়ীদের ভাঙনের খেলা দেখে জীবন পাড় করতে হচ্ছে। অনেক বড় বড় ব্যাবসায়ীদের হারাতে হয়েছে ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান। এখানকার সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত মোস্তফা ফকির।

এক সময় সবচেয়ে বেশী দোকান ছিল তার, ছিল অনেক বড় মুদি ব্যাবসা। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস সব কিছু শেষ করে দিয়েছে নদী ভাঙন বলে জানান তার ছেলে শাহীন। নিঃস্ব রিক্ত অসহায় তার বাবা আজ শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে ভেঙে পরেছেন। অনেকটা বলতে গেলে মানসিক রোগী- বলে কান্নায় ভেঙে পরে সে।

এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে তানভীর ষ্টোরের মালিক জাহিদুল ইসলাম চুন্নু,ফোরকান সেখ,আজমীর মাঝি সহ অনেকেই হারিয়েছেন তাদের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান।

এ জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের অধীন ফেরী বিভাগকে দ্বায়ী করেছেন অনেকেই অপরিকল্পিতভাবে পল্টুন গ্যাংওয়ে প্রতিস্থাপন। গ্যাংওয়ের পাশে কোন ধরনের পাইলিং নির্মান না করার ফলে লোড ও কম্পনে প্বার্শবর্তী স্থান ঝুকির মুখে পতিত হয় বলে জানান অনেকেই।

এ ব্যাপারে পিরোজপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, কুমিরমারা -বেকুটিয়া ফেরীঘাটের পিরোজপুর ও বরিশাল দুই পাড়ের পল্টুন গ্যাংওয়ে পাশ্ববর্তী স্থানে ভাঙন রোধে এ্যাপ্রোস নির্মান করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

তবে কবে নাগাদ এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি তিনি। কখন যেন ভাঙন শেষ সম্ভলটুক ও কেড়ে নিয়ে যায় এ সংশয় সকলের মনে!

প্রতিবেদক : আমিনুল ইসলাম।

 

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।