basic-bank

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আর্ন্তজাতিক সমর্থন আদায়ে শেখ হাসিনার আস্থা সমুন্নত রাখলেন প্রতিনিধি দল

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ইন্দোনেশিয়ায় ‘ওয়ার্ল্ড পার্লামেন্টারি ফোরাম অন সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বৃহস্পতিবার ‘বালি ঘোষণাপত্র’ গৃহীত হয় । এই সম্মেলনে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ জিল্লুল হাকিমের নেতৃত্রে একটি সংসদীয় প্রতিনিধি দল যোগদান করে ।

এই সম্মেলনের ঘোষণাপত্রটি বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের বিষয়ে পারস্পরিক ঐক্যে আসাই ছিল এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য। কিন্তু প্রস্তাবিত ঘোষণাপত্রের একটি অংশে মিয়ানমারের রাখাইনে চলমান সহিংসতা বিষয়ে গভীর উদ্বেগের কথা আছে। এই অংশের ব্যাপারে ভারতের লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় সংসদীয় প্রতিনিধিদল আপত্তি জানায়। পরে থাইল্যান্ড, শ্রীলংকা এবং ঘানার প্রতিনিধি দল আপত্তি জানায় । বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনার নির্দেশনা মেতাবেক রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ জিল্লুল হাকিমের নেতৃত্রে সংসদীয় প্রতিনিধি দল অত্যান্ত বিচক্ষনতার সাথে উপস্থিত বিশ্বের অন্যান্য দেশের প্রতিনিধি দলের সাথে পৃথক পৃথক বৈঠকের মাধ্যমে মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর চালানো অত্যাচার-নিপীড়ণের প্রতিবাদ ঘোষণাপত্রে অন্তর্ভূক্ত করার সমর্থ্ন আদায় করতে সক্ষম হয় । অবশেষে সম্মেলনে রহিঙ্গা ইস্যু অর্ন্তভূক্ত করার বিষয়ে ভোটাভূটির মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বালী ঘোষনা পত্রে অন্তর্ভূক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় । ভোটাভুটিতে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বিরোধীতাকারী দেশ ঘানা সহ বাংলাদেশের পক্ষে ৪৮টি দেশের সমর্থ্ন আদায় করতে সক্ষম হয়ে ও থাইল্যান্ড এবং শ্রীলংকা ভোটদান থেকে বিরত থাকে কিন্ত ভারত বিপক্ষে ভোট দেয় ।পরবতীতে রোহিঙ্গাদের উপর চলমান অত্যাচারের প্রতিবাদসহ এর প্রতিকারের বিষয়টি ঘোষণাপত্রে অন্তর্ভুক্ত হয় । ঘোষনা পত্র অনুযায়ী আগামী জাতিসংঘ অধিবেশনে ভারত বাদে বাকি সবগুলো সদস্য দেশের পক্ষ থেকে রহিঙ্গা ইস্যুটি উত্থাপিত হবে ।

রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ জিল্লুল হাকিমের নেতৃত্রে বাংলাদেশ সরকারীরের সংসদীয় প্রতিনিধি দলের উল্লেখযোগ্য সদস্য ছিলেন মোঃ মোজাম্মেল হক এম পি,আব্দুল মুনিম চৌধুরী এম পি এবং সংসদ সচিবালয়ের সদস্যবৃন্দ ।বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি দলের সাথে সাবক্ষনিক সহযোগিতায় ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের ইন্দোনিশিয়ায় নিযুক্ত হাইকমিশনার মেজর জেনারেল আজমল কবির। ঘোষণাপত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে রাখাইনে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়। সহিংসতা বন্ধে সর্বোচ্চ আত্মনিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়। রাখাইনের সব মানুষের মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানানো হয়।

এ ছাড়া মানবিক সহায়তাকারীদের রাখাইনে প্রবেশ ও নিরাপদে কাযর্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দিতে বলা হয়।
এদিকে মিয়ানমার থেকে নির্যাতিত হয়ে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ বন্ধে দেশটিকে চাপ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গত বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও সেন্ট্রাল এশিয়ার ভারপ্রাপ্ত সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলস দেখা করতে এলে প্রধানমন্ত্রী এই অনুরোধ জানান। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

রোহিঙ্গা হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্ব নেতাদের আরও সোচ্চার হওয়া উচিত। এসব ঘটনা কারা করছে, তা নিয়েও তাদের আরও সচেতন হতে জাতিসংঘের আগামী সাধারণ অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি তুরস্ক তুলবে বলে জানিয়েছেন দেশটির ফার্স্ট লেডি এমিনি এরদোয়ান।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সংস্থাটির সদর দপ্তরে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে ইউএনসিএইআর জানায়, ‘বাংলাদেশের কক্সবাজারে দুটি আশ্রয় কেন্দ্রে মানুষের ঢল আসার আগে প্রায় ৩৪ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীর বসবাস ছিল। দুই সপ্তাহে দ্বিগুণের বেশি হয়েছে সংখ্যাটি, ৭০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।’আরো বলা হয়, ‘বিপুলসংখ্যক মানুষের বেশির ভাগই নারী, নবজাতক, মা, শিশুসহ পরিবার। তারা খুব অসহায় অবস্থায় এসেছে, পরিশ্রান্ত, ক্ষুর্ধাত এবং হন্যে হয়ে আশ্রয় খুঁজছে।’

গত বুধবার জাতিসংঘ জানায়, শরণার্থীদের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যাবে।’আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর ত্রাণকর্মীরা নতুন নতুন জায়গায় পরিদর্শনের অনুমান করেন নতুন আসা শরণার্থী আরো বাড়বে।শরণার্থী শিবির ও তিনটি অস্থায়ী ক্যাম্পে এক লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা নিবন্ধন করেছে।ইউএনসিএইচআর জানায়, বেশির ভাগ এসেছে হেঁটে। কয়েকদিন ধরে জঙ্গল, পাহাড় পেরিয়েছে। হাজারো মানুষ উত্তাল বঙ্গোপসাগর দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথ পাড়ি দিচ্ছে। গত বুধবার অন্তত ৩০০ নৌযান কক্সাবাজারের উপকূলে এসে পৌঁছেছে।রাখাইন অঞ্চলের রোহিঙ্গা মুসলমানদের নাগরিকত্ব অথবা বৈধভাবে বসবাসের অনুমতি দিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস।

সেই সঙ্গে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহবানের কথাও জানিয়েছেন মহাসচিব।অন্যদিকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মালয়েশিয়া বেশ কিছুদিন ধরেই অত্যন্ত সরব। মিয়ানমার আসিয়ান জোটের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও জোটের অন্য প্রভাবশালী সদস্য ইন্দোনেশিয়াকে সাথে নিয়ে মিস সু চির সরকারের ওপর ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করে যাচ্ছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।এখন তিনি ওআইসিকে এর ভেতর টেনে আনলেন।

কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যুতে ওআইসি মিয়ানমারের ওপর কতটা চাপ তৈরি করতে পারবে?অন্যদিকে মিয়ানমারে সেনা অভিযানের মুখে গত মাসের শুরু থেকে রোহিঙ্গাদের স্রোত বইছে বাংলাদেশ পানে। ইতোমধ্যে দেড় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে বলে জাতিসংঘের হিসাব। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে মিয়ানমারে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই। মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিকেও রোহিঙ্গাদের জন্য কথা বলার আহ্বান জানান মালালা।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।