basic-bank

তোমায় নিয়ে লেখা – অর্ণব আব্বাস।

জীবনের গল্প বিভাগ :- মনে জমে থাকা কষ্ট গুলো মাঝে মাঝে খুব তীব্র হয়। এতোটাই কষ্টদায়ক হয় যে, সহ্য করে থাকাটাই কঠিন হয়ে যায়। এর চেয়েও কষ্টকর হলো সেইসব মূহূর্তগুলোতে কষ্ট সহ্য হাসিমুখে সবাইকে সময় দেয়া, কথা বলা, সবকিছু মেনে নিয়ে বেচেঁ থাকা।

কতদিন দেখিনা তোমায় শুনিনা তোমার মুখে আমার ডাক নাম, দিঘির ধারে সেই ধুলোমাখা গলির পাশে দাড়িয়ে তোমার ঝালমুড়ি খাওয়ার বায়না, প্রাইভেট পড়তে পড়তে তোমার সাথে গল্প করা, দুজনের নানা অভিমান, ভালোবাসার কথা আজও সেই দিনগুলো মনে পড়লে রাতে ঘুম আসেনা, তোমার কি মনে পড়ে তানিয়া?

পড়া থেকে ফেরার সময় তোমায় একবার দেখতে যাওয়া। স্কুলে যাওয়ার আগে তোমার বাড়ির সামনে দিয়ে একবার ঘুরে আসা। ব্যালকনি থেকে প্রতিদিন তোমার হাসি মুখটা আমাকে ঈশারা করে বলে দিতো স্কুল থেকে ফেরার সময় কথা হবে। হয়তো কোন কারনে একটু দেরি হয়ে গেলে গম্ভীর মুখ নিয়ে মাঠের পাশে দাড়িয়ে তোমার সেই ব্যাকুল প্রতীক্ষা আমার জন্য। আজও সেই দিনগুলো মনে পড়লে সারাদেহে শিহরন দিয়ে ওঠে, তোমার কি এমন হয় তানিয়া?

মনে আছে একদিন কোন এক কারনে আমার হাতে আঘাত লেগেছিলো। আমি সহ্য করতে পারছিলাম-না সেই আঘাতের যন্ত্রণা, তুমি কেঁদেছিলে আমার কষ্ট দেখে, আজও তোমার সেই কান্নার মুহূর্তটা মনে পড়লে চোখের কোনে একা একাই পানি জমে যায়। তোমার কি চোখে পানি আসে আমায় ভেবে?

আমি অনুভব করি একটি মিষ্টি সুর তোমার ওই লাজুক হাসিতে। আমার প্রফুল্লতার কারন তোমার ওই কথার ধরন, আমি দেখতে পাই সুতনু নৃত্য তোমার ওই উপহারের ঝনঝন শব্দে। তানিয়া তুমি-ই কারন এই সুরেলা ধ্বনির প্রলেপের। তোমাকে সারাজীবন এমন ভাবেই দেখতে চাই, তানিয়া, যাই ঘটুক না কেন আমার স্বপ্ন যাতে দ্রবীভূত না-হয়, তানিয়া, তুমি আমার সাথে সারাজীবন এই ভাবেই থেকো। তোমার জন্যই আমার স্বপ্ন বাস্তবে রুপান্তরিত হবে। তোমার জন্যই আমার প্রত্যেকটা কথা সত্য হবে। তোমার জন্যই আমার হৃদয় বেহালার সুরে ভরাট হবে। তোমার জন্যই আমার প্রত্যেকটা পদক্ষেপ সুশোভন হবে। তোমার জন্যই আমার প্রত্যেকটা মুহূর্ত স্বর্গের মতো অনুভব হবে, তোমার জন্যই আমার জীবনটা প্রসন্নতায় পরিপূর্ণ হবে।

তানিয়া, এমনই প্রেমের ঝড় সারাজীবন বইবে তো? আমার আঁধার হওয়ার কারন তোমার ওই নিরবতা, আমি যখন মরুপথে যাত্রা শুরু করি তখন তোমার ভালোবাসা-ই আমাকে সবুজ অরণ্যের পথে নিয়ে আসে, আমি যখন পথ হারিয়ে ফেলি তখন তুমি-ই গগনের অংশুমালী হয়ে আমাকে নতুন পথ দেখাও, তানিয়া, তোমার জন্য আমার সকল প্রভূত সুখ নদীর স্রোতের মত প্রবাহিত হবে,তানিয়া তোমার সাহচর্য্য আমার জীবনের মধুর সঙ্গীত,তানিয়া তোমার জানা-শোনাই আমার স্বপ্নের রাজ্য, তানিয়া তুমি পারবে চিরকাল আমার হৃদয় হয়ে থাকতে।

তোমার জন্য আমার যাবতীয় ইচ্ছে পূর্ণ হবে। তোমার জন্য। এক ফোঁটা পানি বৃষ্টি মনে হবে।তোমার জন্য গ্রীষ্মের দ্বিপ্রহরকে শীতের মনোরম সন্ধ্যা মনে হবে। তোমার জন্য আমার প্রতিটি কথা ঐশ্বরিক মনে হবে। তোমার জন্য এই বিশাল দুনিয়াকে একটা ছোট ঘর মনে হবে তোমার জন্য রূপকথার গল্পগুলোকে ধ্রুবসত্য মনে হবে। তানিয়া এই সব স্পর্শানুভূতি চিরকাল থাকবে তো?

আমি নিশ্চিত-নই আমি কোথায় আছি তবে মনে হয় আকাশটাকে স্পর্শ করছি, তুমি যদি আমায় দুটো ডানা দিতে তবে আমি এই আকাশেই উড়ে বেড়াতাম, তুমি যদি আমায় মেঘ করে দিতে তবে আমি এই আকাশেই ভেসে বেড়াতাম। তানিয়া তোমার ইন্দ্রধনুর রং আমাকে মুড়িয়ে নিচ্ছে, তানিয়া তোমার জন্য নিজেকে রজনীগন্ধা পুষ্প মনে হয়, তানিয়া, তোমাকেই চাঁদের আলোর বিস্তারের কারণ মনে হয়, তানিয়া, আমি তোমার সুখ সমুদ্রে ডুবে আছি এখনো। তোমার জন্য আমার সংস্পর্শে বিষণ্ণতা কখনো আসবেনা। তোমার জন্য, সূর্যরশ্মি আমাকে কখনও ছেড়ে যাবেনা, তোমার জন্য, এমনকি একটি কথাকে গান মনে হবে, তোমার জন্য, কোন কিছুই আমাকে থামাতে পারবে না।

২৩ ডিসেম্বর ২০১৩ হটাত আমার পৃথিবীটা অন্য রকম না ফেরার দেশে চলে গিয়েছো জেনেছিলাম ৩দিন পর ২৬ তারিখ কষ্টটা বেশী সেখানেই। কাউকে বলতে পারিনা আজ নেই তুমি কিন্তু স্মৃতি গুলো আকড়ে ধরে বেচেঁ আছি আমি জীবন সংগ্রামে কখনো ক্লান্ত হবনা। তোমার জন্য আমার জীবনের প্রতিকূলতার কাম্যে আবর্তিত হবে।

তানিয়া আমাদের প্রেমের-কাহিনী সবাই মনে রাখবে তো? আমার জীবনের তানিয়া জানো এখনও কেউ আসেনি পারেনি তোমার যায়গা নিতে যখন মাঝে মাঝে রাত জেগে বসে থাকি! মাঝে মাঝে তোমার ছবি দেখি! তখন নিজেকেই প্রশ্ন করি, এই ছবির মানুষটার কাছেই তো আমি আমার সব ভালবাসা , আনন্দ , সুখ , বিক্রি করে কষ্ট কিনে নিয়েছিলাম!!তখন নিজেকে অনেক অনেক অপরাধী মনে হয়।শত চেষ্টা করেও অশ্রু পানি আটকে রাখতে পারি না এতকিছুর পরেও তোমাকে সেই আগের মতই ভালবাসি!!!!

আজ ৩ বছর ৯মাস ১৯দিন হয়ে গেলেও বিশ্বাস না হলে একবার ফিরেই এসে দেখ না। তুমি আমাকে যেখানে রেখে গিয়েছিলে আমি এখনো সেখানেই আছি।। তানিয়া তুমি ছাড়া যে আমার কষ্ট গুলো কেউ বোঝে না,তুমিতো একদিনে সব শেষ করে দিয়ে গেছো,আর আমিতো প্রতিটা দিন ধিরে ধিরে শেষ হচ্ছি,যেখানেই থাকো ভাল থেকো আল্লাহ্ কাছে এইতাই চাই।

লেখক : অর্নব আব্বাস বর্ষন।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।