basic-bank

শ্যালিকাকে কুপিয়ে হত্যা স্ত্রীকে জখম, পরে ‘আত্মহত্যা’

বরিশাল নগরে ছয় বছরের শ্যালিকাকে কুপিয়ে হত্যা এবং স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার পর ‘আত্মহত্যা’ করেছে এক যুবক। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নগরের পশ্চিম কাউনিয়া পুরানপাড়া সড়কের একটি বাসার পুকুরপাড়ে ঘটনাটি ঘটে। পারিবারিক কলহের কারণে গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটলেও গতকাল শুক্রবার ভোরে আহত স্ত্রীর জ্ঞান ফেরার পর তা জানাজানি হয়।

নিহত শিশুটির নাম সাদিয়া বেগম শিকদার (৬)। তার গুরুতর আহত বোনের নাম সুমাইয়া বেগম শিকদার (২০)। তাঁরা বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শেরে বাংলা গ্রামের সিদ্দিক শিকদারের মেয়ে। তাঁরা নগরের পুরানপাড়া এলাকার ওই বাসার ভাড়াটিয়া। সুমাইয়ার ‘আত্মহত্যাকারী’ স্বামীর নাম সজিব মৃধা। সে একই উপজেলার উত্তর ধামুড়া গ্রামের শফিজ উদ্দিন মৃধার ছেলে। সজিব গ্রামের বাড়িতে বসবাস করত।

পুলিশ ও স্বজনদের ধারণা, কোপ খেয়ে সুমাইয়া জ্ঞান হারান। তাই তাঁকে মৃত ভেবে ফেলে রাখে তাঁর স্বামী সজিব মৃধা। পরে সে নিজে আত্মহত্যা করে। সুমাইয়া জানান, তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাঁর ছোট বোন সাদিয়াকে হত্যা করে সজিব।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, দুই বছর আগে সুমাইয়ার সঙ্গে সজিবের প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে বিয়ে হয়। এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই শাশুড়ি ও স্বামীর সঙ্গে সুমাইয়ার ঝগড়া হতো। দুই মাস আগে শাশুড়ি সকিনা বেগমের সঙ্গে সুমাইয়ার ঝগড়া হয়। এ নিয়ে শাশুড়ি ও স্বামী তাঁকে মারধর করে। এ ঘটনায় রাগ করে পশ্চিম কাউনিয়া পুরানপাড়ায় বাবার বাসায় চলে আসেন সুমাইয়া বেগম। তখন থেকে বাবার বাসায়ই অবস্থান করছিলেন সুমাইয়া। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সুমাইয়াকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য আসে সজিব। কিন্তু স্বামীর সঙ্গে ফিরতে রাজি হননি সুমাইয়া। তাই শ্বশুরের বাসায় থেকে যায় সজিব। রাতে তাঁদের মধ্যে এ নিয়ে ঝগড়াঝাটি হয়। এর একপর্যায়ে রাত পৌনে ২টার দিকে সজিব তার স্ত্রী ও শ্যালিকাকে নিয়ে বাসার পেছনে পুকুরপাড়ে যায়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুমাইয়া বেগম বলেন, রাতে মাছ ধরার কথা বলে তাঁদের ঘরের পেছনে পুকুরপাড়ে নিয়ে যায় সজিব। সেখানে যাওয়া মাত্র কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে দা দিয়ে সুমাইয়াকে কোপাতে থাকে। এ সময় তাঁর ছোট বোন তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে। এ সময় সুমাইয়া মাথায় কোপ খেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। ভোরে তাঁর জ্ঞান ফেরে। এ সময় তিনি দেখতে পান তাঁর পাশে গলাকাটা বোনের লাশ পড়ে আছে। আর গাছের সঙ্গে স্বামীর লাশ ঝুলছে। সুমাইয়া আরো জানান, প্রেম করে বিয়ে করার বিষয়টি তাঁর শাশুড়ি মেনে নিতে না পারায় প্রায়ই ঝাগড়াঝাটি হতো তাঁদের পরিবারে। এ নিয়ে তাঁকে তাঁর শাশুড়ি প্রায়ই মারধর করত। এ কারণেই তিনি স্বামীর সঙ্গে ফিরতে রাজি হননি।

সুমাইয়ার মা পারুল বেগম বলেন, ‘রাত বেশি হয়ে যাওয়ার কারণে আমরা ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ওরা ঘর থেকে কোন সময় বের হয়েছে বলতে পারব না। সকাল ৬টার দিয়ে সুমাইয়া ঘরের সামনে এসে ডাকচিৎকার দিলে বের হয়ে দেখি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সে জানায়, সাদিয়া ও জামাইয়ের লাশ পুকুরপাড়ে। আমরা সেখানে গিয়ে তাদের লাশ দেখতে পাই। ’ তিনি আরো বলেন, ‘বিয়ের পর থেকে তারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত। এ কারণে সুমাইয়া প্রায়ই শ্বশুরবাড়ি থেকে আমাদের কাছে চলে আসত। দুই-এক দিন থাকার পর সজিব বুঝিয়ে-শুনিয়ে নিয়ে যেত। বৃহস্পতিবার সজিব সুমাইয়াকে বাড়ি ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলায় তাদের দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। ’

কাউনিয়া থানার ওসি মো. নুরুল ইসলাম পিপিএম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে পরিবারিক কলহের জের ধরে হত্যা এবং আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁদের পুকুরপাড়ে নিয়ে গিয়ে প্রথমে স্ত্রী সুমাইয়াকে কুপিয়ে জখম করে সজিব। স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে ভেবে শ্যালিকা সাদিয়াকে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে পুকুরপাড়ে একটি গাছের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সজিব। এ ঘটনায় কাউনিয়া থানায় একটি হত্যা ও আরেকটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে পাঠানো হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।