basic-bank

পঞ্চগড়ে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বিপাকে আমন চাষিরা

বাংলা দিনপঞ্জি অনুযায়ী চলছে আষাঢ়-শ্রাবণ মাস বর্ষাকাল। কিন্তু আষাঢ় মাস পেরিয়ে শ্রাবণ এলেও পঞ্চগড়ে গত ২১ দিন ধরে তেমন বৃষ্টিপাতের দেখা মেলেনি। ফলে রোপা আমন চাষাবাদের ভরা মৌসুমেও কৃষকরা ধানের চারা রোপন করতে পারছেন না। অনেক কৃষকরা আগাম আবাদের জন্য বীজতলা প্রস্তুত করলেও সেই চারা বীজতলাতেই নষ্ট হতে বসেছে। তবে কেউ কেউ বিকল্প ব্যবস্থায় বাড়তি খরচ করে শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে সেচ দিয়ে আমনের চারা রোপন করছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের দেয়া তথ্য মতে এবার জেলায় ৯৬ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। কিন্তু ভরা বর্ষাকালেও জেলায় পরিমিত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন আমন চাষীরা।

এ পর্যন্ত শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে সেচ দিয়ে মাত্র ১০ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমনের চারা রোপন করতে পেরেছেন চাষীরা। কিন্তু বৃষ্টির আশায় এখনো কৃষকের একটা বড় অংশ জমি চাষ দিয়ে রাখলেও ধানের চারা লাগাতে পারছেন না।

এদিকে আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। শ্রাবণের শুরুতেও বৃষ্টির দেখা না পাওয়ায় শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন চাষীরা।

কৃষকরা জানিয়েছেন, জেলায় সাধারণত মধ্য আষাঢ় থেকে শুরু করে শ্রাবন মাস পর্যন্ত আমন ধানের চারা জমিতে রোপন করা হয়। কিন্তু এবার তেমন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় তারা আমন চাষাবাদ নিয়ে তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

মূলত বর্ষাকালে বৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে কৃষকরা প্রকৃতিনির্ভর রোপা আমন চাষ করে থাকে। কিন্তু এবার আষাঢ়ের শুরু থেকেই প্রায় বৃষ্টিহীন এই অঞ্চল। মাঝে মধ্যে হালকা বৃষ্টিপাত হলেও সেই পানি জমিতে লেগে থাকেনি। এতে করে অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে পানি না জমায় সেই জমি এখনও পতিত পড়ে আছে। সময়মতো বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অনেকের বীজতলাও নষ্ট হয়ে গেছে। কারো কারো বীজতলায় চারা তৈরি থাকলেও পানির অভাবে সেই চারা জমিতে লাগাতে পারছে না। সাধারণত বীজতলায় তৈরি হওয়া চারা ২৫-৩০ দিনের মধ্যে জমিতে লাগানো হয়। কিন্তু অনেক কৃষকের চারার বয়স দেড় মাস পেরিয়ে গেছে। তবে বাধ্য হয়ে কেউ কেউ অতিরিক্ত খরচ করে শ্যালো মেশিন দিয়ে জমিতে সেচ দিয়ে চারা লাগানোর কাজ শুরু করেছেন। বৃষ্টিপাত না হলে খরায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি রোপা আমনের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সদর উপজেলার হাড়িভাসা এলাকার কৃষক মানিক খান জানান, প্রতিবছর স্বল্প খরচে জমিতে বৃষ্টির জমে থাকা পানিতে আমরা আমন ধান লাগাই। কিন্তু এবার মনে হয় ধান লাগাতে পারবো না। শ্রাবণ মাসের শুরুতেও তেমন বৃষ্টি নেই। দু’একদিন বৃষ্টি হলেও জমিতে পানি জমে থাকেনি। আমাদের এখানে সেচ সুবিধাও নাই। এবার মনে হয় খাওয়ার ধানও চাষ করতে পারবো না।

দেবীগঞ্জ উপজেলার খোঁচাবাড়ি এলাকার কৃষক উমেদ আলী জানান, নিচু জমিগুলোতে কোনো রকমে আমনের চারা রোপন করেছি। তবে উচু জমিগুলো পড়ে রয়েছে। যেসব জমিতে ধান লাগিয়েছি তাতে বৃষ্টিপাত না হলে ধানের ভাল ফলন পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়বে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. শামছুল হক ‘ঢাকা ক্রাইমকে’ জানান জেলার পাঁচ উপজেলায় মোট ৯৬ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। কিন্তু পরিমিত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এ পর্যন্ত নিচু জমি ও সেচ দিয়ে মাত্র ১০ হাজার হেক্টর জমিতে কৃষকরা আমনের চারা লাগাতে পেরেছে। পুরো জুলাই মাস আমনের চারা লাগানো যাবে। তবে বৃষ্টিপাত না হলে আমন চাষাবাদে কিছুটা হলেও প্রভাব পড়বে। আমরা চাষীদের সেচ দিয়ে আমনের চারা রোপনের পরামর্শ দিয়েছি।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।