শামুক সংগ্রহ করে জীবন চলে দিনাজপুরের আদিবাসীদের

Spread the love

রওশন আরা পারভীন শিলা, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ- সকাল হলেই চোখে পরে দিনাজপুরের আদিবাসি সম্প্রদায় গোষ্ঠির নারী -–পুরুদের নওগাঁ আত্রাই আহসানগঞ্জ রেলওয়ে ষ্টেশনে। আবার সন্ধ্যার আগেই মাথায় শামুক ভরা বস্তা নিয়ে আত্রাইয়ের আহসান গঞ্জ ষ্টেশনে হাজির হয় । ওরা আসে দিনাজপুর,ফুলবাড়ি ও জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে।। জীবন-জীবিকার তাগিদে এতো দুর রাস্তা পেরিয়ে প্রতিদিন আসে নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় মামুক সংগ্রহের জন্য। প্রতিদিন বস্তা,বস্তা শামুক সংগ্রহ করে বিক্রি এবং খেয়ে জীবন ধারন করেন তারা।
শামুক সংগ্রহ করতে আসা কারর্মে রিতা তফনম(৩২) তিনি এসেছেন দিনাজপুর জেলার বাঁশেরহাট গ্রাম থেকে সঙ্গে রয়েছেন দিনাজপুর জেলার পার্ব্বতীপুর গ্রামের নিখিল এমরম,(৩৭)। সাথে রয়েছে শান্তি পাওরিয়া(৩৫) সহ প্রায় আরো ১২/১৪ জন। সবার মাথায় বস্তায় ভরানো শামুক। সারা দিন আত্রাই উপজেলার নওদুলী,মস্কিপুর, বাঁকা,জামগ্রাম বিশা মাঠ,খাল,বিলসহ বিভিন্ন কাল বিলে শামুক সংগ্রহ করে বস্তায় ভরে মাথায় নিয়ে এক একে হাজির হয়েছেন আত্রাই আহসানগঞ্জ রেলওয়ে ষ্টেশনে। সন্ধ্যায় আবারো ট্রেন যোগে নিজ নিজ বাড়ি ফিরবেন তারা।
দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ি,বাঁশেরহাট,পার্ব্বতীপুর সহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আদিবাসী সম্প্রদায়ের স্বল্প আয়ের লোকজনেরা পাবর্বতীপুর থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহী গামী উত্তরা এক্সপ্রেস ট্রেনে প্রতিদিন দলে দলে নারী পুরুষ যুবক-যুবতী সকাল ৮টার দিকে আহসানগঞ্জ রেলওয়ে ষ্টেশনে নামে। পরে তারা কয়েক দলে বিভক্ত হয়ে ভুটভুটি ও ভ্যান সারা দিনের জন্য চুক্তি ভিক্তিক রির্জাভ করে নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন খাল বিলে গিয়ে শামুক সংগ্রহের জন্য মাঠে নামেন তারা। সারা দিনে প্রতি দিনে প্রতিজন প্রায় ৮ থেকে ১শ’ কেজি শামুক সংগ্রহ করেন তারা। যার আনুমানিক মূল্য(ওই এলাকায়) ১২শ’ থেকে ১৫শ’ টাকা। আর এই শামুক খেয়ে এবং বিক্রি করে সংসার চলে তাদের।
দিনাজপুর জেলার বাঁশেরহাট গ্রামের কারর্মে রিতা তফনম(৩২) ও পার্ব্বতীপুর গ্রামের নিখিল এমরম(৩৭) জানান, আমরা ছেেেল-মেয়ে সহ উত্তরা ট্রেনে আত্রাই অঅহসানগঞ্জ ষ্টেশনে সকালে নেমে কয়েক জন করে দলবদ্ধ হয়ে শামুক তুলতে যাই। সূর্য ডোবার আগে প্রতিদিন এক বস্তার কিছু বেশি শামুক হলেই ভ্যানে তুলে ষ্টেশনে নিয়ে এসে উত্তরা এক্সপ্রেস অথবা রকেট মেইল যোগে বাড়িতে চলে যাই। আমরা তিনজন মিলে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার টাকার শামুক সংগ্রহ করে নিজেরা খেয়ে বাঁকী গুলো বিক্রি করি। আত্রাই এলাকায় যে পরিমান শামুক পাওয়া যায় তা অন্য এলাকায় এতো পরিমান পাওয়া যায় না। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর পরই আমরা প্রতি বছর এই এলাকায় আসি মামুক সংগ্রহ করতে।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ