মাদকের মূল গডফাদার আলিমের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট 

Spread the love

সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ১ কোটি ৮ লাখ টাকা মূল্যের ২৭ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার হওয়া উত্তর অঞ্চলের মাদকের মূল গদফাদার আলিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি গাইবান্ধা বিজ্ঞ আদালতে চার্জশীট দাখিল করেছেন মামলা তদর্ন্ত কারী কর্মকতা এস,আই রনি কুমার দাস।

আলিম উদ্দিন গ্রেফতার হওয়ার পর সাদুল্লাপুরে বিশেষ করে ধাপেরহাট এলাকায় ব্যাপক হারে কমে গেছে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসা, তার সহযোগী রিজু সহ ২/৩ জন কে পরবর্তীতে ইয়াবাসহ পুলিশ গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়। তারা জামিনে এসে আবার ও নুতুন করে শুরু করেছে ইয়াবা ব্যবসা ।

একটি নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে, চুনোপুটি ইয়াবা ব্যবসায়ীরা জেলখানায় গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাত করে ব্যবসার নুতুন নুতুন কৌশল শিখে এসে আবার ব্যবসা শুরু করেছে এবং আলিম উদ্দিন কে গ্রেফতার করতে পুলিশ কে যারা সহযোগিতা করেছেন সন্দেহ মূলক ভাবে তাদের কে তিনি লোকমারফৎ বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে যাচ্ছেন। আলিম উদ্দিন কক্স্রবাজারের এক ইয়াবা মহাজনের কাছ থেকে সরাসরি হাজার হাজার পিস ইয়াবার চালান উত্তর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করত এবং এই আলিম উদ্দিন ছিলেন ইয়াবার ডিলার!

সূত্র আরো জানান যে, আলিম উদ্দিনের সেই মহাজন তাকে জামিনের জন্য উঠেপরে লেগেছেন। উল্লেখ্য যে, উপজেলার ধাপেরহাট বকশীগঞ্জ বাজারের আখ ক্রয় কেন্দ্রের পাশ থেকে গত ১০ এপ্রিল ২০১৭ ইং সোমবার সকালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১ কোটি ৮ লাখ টাকা মুল্যমানের ২৭ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তৎকালীন ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান ও এস আই রেজাউল করিম সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে উত্তর অঞ্চলের ইয়াবা স¤্রাট পলাশবাড়ী উপজেলার সাতার পাড়া গ্রামের নজলার রহমানের পুত্র আলিম উদ্দিন (৫০) ও তার ৩ সহযোগীকে গ্রেফতার করেছেন।

পুলিশ জানান, বকশীগঞ্জ বাজারের আখ ক্রয়কেন্দ্র সংলগ্ন আলিম উদ্দিনের বাড়ীতে অভিযান চালাতে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আলিম উদ্দিন পালানোর চেষ্টা করে । এসময় পুলিশদল তাকে ধাওয়া করে আটক করে এবং তার হাতে থাকা একটি ব্যাগ থেকে প্রায় ১ কোটি ৮ লাখ টাকা মুল্যমানের ২৭ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। এসময় তার ৩ সহযোগী আলিম উদ্দিনের পুত্র সবুজ মিয়া (৪০) পলাশ বাড়ী মুরারিপুর গ্রামের মাহাবুর রহমানের পুত্র মনিরুজ্জামান (৪০) ও একই এলাকার জহুরুলের পুত্র নাজমুল হোসেন (২২) কে আটক করে পুলিশ।

ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, দির্ঘদিন থেকে আলিম উদ্দিন উত্তর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ইয়াবার চালান সরবরাহ করে আসছিল এবং অল্প দিনেই সে মাদক ব্যবসা করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বুনেছে। ৪টি ট্রাকের মালিক আলিম উদ্দিন উত্তরের কুড়িগ্রাম,দিনাজপুরের হিলি,গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যবসার খাতিরে একাধিক বিবাহ করেছেন। সে বিগত ৬ বছর পুর্বে সাদুল্লাপুরের ধাপেরহাট ইউনিয়নের বকশীগঞ্জ বাজারে বিয়ে করে বাসা বাড়ী তৈরি করে বীরদর্পে চালিয়ে যায় ইয়াবা ব্যবসা। একাধিক বার জেল হাজত খাটা মাদক মামলার আসামি আলিম উদ্দিন পূনরায় গ্রেফতার হলে সাদুল্লাপুর থানায় একটি ১৯৯০ সালের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়ের হয়। যাহার নং-১২ তাং-১০/০৪/২০১৭ ইং।

মামলা তদন্ত কারী কর্মকর্তা এস,আই,রনি কুমার দাস জানিয়েছেন,১ কোটি ৮ লাখ টাকা মূল্যমানের ২৭ হাজার পিস ইয়াবার ওজন ছিল ২ কোজি ৮০০ গ্রাম সেখান থেকে ৫০ পিস ইয়াবা আসল নকল রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলে সেখান থেকে রিপোট এসেছে এগুলো আসল ইয়াবা ট্যাবলেট সে মর্মে প্রাথমিক ভাবে সত্যতা প্রমানিত হওয়ায় গাইবান্ধা বিজ্ঞ আদালতে চার্জশীট দাখিল করিয়েছেন।

 

 

 

 

 

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ