বিরামপুর কারাগারটি ২যুগধরে পরিত্যাক্ত; শিশু অপরাধী কেন্দ্রের প্রস্তাব বাস্তবায়ন কবে হবে !

Spread the love

মোঃ আবু সাঈদ, বিরামপুর, দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ দেশের উত্তর অঞ্চলের সীমান্ত ঘেঁষা বিরামপুর থানা। আর এ থানাকে ১৯৮১ সালে সরকারী ভাবে থানাগুলোকে উপজেলায় বাস্তবায়ন করেছে। যার ফলে সে সময় এই উপজেলা আদালতে বিচার কার্জ চালু করেছিল। ২.৮ একইর জমির উপর ১৯৮৪ সালে দিনাজপুর জেলা থেকে ৫৫ কিলোমিটার দুরবর্তি জেলার দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলের বিরামপুর এই উপজেলার উত্তরে ফুলবাড়ী উপজেলা, উত্তর-পূর্ব কর্নারে নবাবগঞ্জ উপজেলা, দক্ষিনে হাকিমপুর উপজেলা, পূর্বে ঘোড়াঘাট। মেডেলে বিরামপুর উপজেলা হওয়ায় ৫ টি উপজেলার বিচারাধীন আসামীদের সঠিক সময়ে উপজেলা আদালতে হাজিরা দেওয়ার সুবিধার্থে একটি উপ-কারাগার নির্মিত হয়।

১৯৯১ সালে সরকার উপজেলা আদালত গুলোকে জেলা শহরে স্থানান্তর কারায় এসব উপ-কারাগারের জনবল প্রত্যাহার করলে দেশের অন্যান্য উপ-কারাগার হলেও বর্তমানেতা একে বারে অকেজো হয়ে আছে। সরকার এত টাকা ব্যায়ে কারাগারটি নির্মান করলেও পাহারা দারের ব্যবস্থা না থাকায় উপ-কারাগারটির ভৌগলিক অবকাঠামোর অবক্ষয় হতে চলেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায় দীর্ঘ ২৬ বছরে পরিত্যাক্ত বিরামপুর উপ-কারাগারটি এখন মাদক সেবনকারি এবং টোকাইদের দখোলে অভয়ারণ্যতে পরিনত হয়েছে। অযত্ন অবহেলা ও তদারকির অভাবে কারাগারটির দরজা, জানালা চুরি হয়ে গেছে ভিতরে বিভিন্ন প্রকার মদের বোতলসহ নেশার আশবাপত্র পড়ে আছে। দীর্ঘ দিন এভাবে থাকায় ভিতরে অংশে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ জন্মে জঙ্গলে পরিনত হয়েছে। বাহিরের দেয়ালে স্থানীয় হতদরিদ্র মহিলারা গরুর গবোর দিয়ে ঘুটির লেবদা বসিয়ে নোংড়া করে রেখেছে।

এ বিষয়ে বিরামপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ময়নূল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ২০১৪ সালের ১৪ জুলাই মাসে উপ-কারাগার পরিদর্শন কমিটির সভাপতি ও সমাজকল্যান মন্ত্রনালয়ের প্রশাসন শাখার যুগ্ন সচিব শুসেন চন্দ্র রায় পরিদর্শনে আসেন। তিনি পরিদর্শন প্রতিবেদনে বিরামপুর উপ-কারাগারটিকে শিশু ও কিশোর অপরাধী সংশোধন কেন্দ্র হিসেবে পূণরায় চালু করার প্রস্থাব করেন। এখন নতুন করে আর কোন প্রস্থাব উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আসেনি বলে তিনি সাংবাদিকে জানিয়েছেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়ের প্রশাসন শাখার যুগ্ম সচিব বিরামপুর উপ-কারাগারটি পরিদর্শণ পূর্বক প্রতিবেদন প্রদানের প্রায় ৩ বছর পেরিয়ে গেলেও এলাকাবাসি তা বাস্তবায়নের কোন পদক্ষেপ দেখছেন না। অনেক সময় সচেতন মহল কর্তৃক উপ-কারাগারটি প্রসঙ্গে উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে বিভিন্ন আলোচনায় এটিকে সরকারী ভাবে সংস্কার করে শিশুপার্ক অথবা বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছিল। সেটিকেও কর্তৃপক্ষ কোন আমলে নিচ্ছেন না বলে এলাকাবাসিদের অভিমত। পরিকল্পিত ভাবে অত্র উপ-কারাগারটিকে শিশু ও কিশোর অপরাধী সংরক্ষনাগার বা শিশু -কিশোর অপরাধী সংশোধন কেন্দ্র অথবা শিশু পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে এলাকার সর্বস্থরের সচেতন মহল কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন।

 

 

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ