basic-bank

পাঁচ লক্ষণে বুঝবেন এখনই আপনার ডিজিটাল বিষমুক্তকরণ দরকার

প্রযুক্তি ভালো। এবং জরুরিও বটে। কিন্তু প্রযুক্তি হতে পারে পরবর্তী এমন কোনো বড় কোনো মহামারিরও কারণ যা আমাদেরকে ধ্বংসও করতে পরে। এখনকার প্রজন্ম প্রযুক্তির প্রতি গভীরভাবে আসক্ত। এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে আমরা এ থেকে মুক্ত থাকতে পারি। কিন্তু এর সবচেয়ে খারাপ দিকটি হলো আমরা এমনকিও বুঝতেও পারিনা যে আমরা আসক্ত হয়ে পড়েছি। চোখের সামনে বিপদ ভেসে উঠলেও আমরা তা না দেখে মোবাইলের স্ক্রিনেই তাকিয়ে থাকি যেন।

প্রযুক্তি আসক্তি বাস্তব আর এর ক্ষতির তীব্রতা আপনার কল্পনাকেও হার মানাবে। আপনার হয়তো এখনই ডিজিটাল বিষমুক্তকরণ দরকার কিন্তু আপনি বুঝতে পারছেন না আপনি আসক্ত কিনা। এখানে এমন কিছু লক্ষণ নিয়ে আলোচনা করা হলো যা দেখে আপনি বুঝতে পারবেন আপনিও প্রযুক্তি আসক্ত।

১. ঘুমে ব্যাঘাত ঘটা
আপনি যতই নিজেকে প্রযুক্তিতে ডুবিয়ে রাখবেন ততই আপনার জন্য তা থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়বে। অসংখ্য গবেষণায় দেখা গেছে মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপে অস্বাভাবিকহারে বেশি সময় ব্যয় করার ফলে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। এটা আরও তীব্র আকার ধারণ করে মানসিক অবসাদের আক্রান্ত করার মাধ্যমে। গবেষকরা সফলভাবেই দেখাতে সক্ষম হয়েছেন প্রযুক্তিনির্ভরতার ফলে মানসিক অবসাদে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়।

২. দেহভঙ্গিতে পরিবর্তন
প্রযুক্তি আসক্তির কারণে বিবর্তনের মাধ্যমে আমরা যে মানবীয় হাঁটাচলার স্বাভাবিক দেহভঙ্গি অর্জন করেছি তা বিকৃত হয়ে যায়। সাম্প্রতিক অতি প্রযুক্তিনির্ভরতার কারণে আমরা যেন বিবর্তনের পেছন দিকে চলে যেতে শুরু করেছি। বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বিপিও সেক্টরে কাজ করেন তাদের বেশির ভাগেরই দেহভঙ্গিতে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

৩. একই সঙ্গে একাধিক কাজ
আপনার মস্তিষ্ক কোনো ওয়েব ব্রাউজার নন যে আপনি চাইলেই এক সঙ্গে একাধিক ট্যাব ওপেন করে কাজ করতে পরবেন। আর মনে রাখবেন একসঙ্গে একাধিক কাজ করার গল্প শুধু একটি কল্পকথা মাত্র। তারচেয়ে বরং আপনি নিজের ডিভাইসের পেছনে যে সময়টুকু ব্যয় করেন তা অন্য কোনো উৎপাদনশীল কাজে বা আরো স্বাস্থ্যকর কোনো কাজে ব্যয় করতে পারেন।

৪. আবেগতভাবে বিচ্ছিন্নতা
মানুষ মাত্রই আবেগপ্রবণ। আর এই আবেগই আমাদেরকে যন্ত্র থেকে আলাদা করেছে। কিন্তু আপনি প্রযুক্তির পেছনে যত বেশি সময় ব্যয় করবেন ততই আপনি আশপাশের মানুষদের সঙ্গে আবেগগতভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন। মানুষ একা বাঁচতে পারে না। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি মানুষের এই সমস্যার কোনো সমাধান হতে পারে না।

৫. বাস্তবতার বিকৃত অনুভূতি
আপনি যদি ভার্চুয়াল জগত খুব বেশি সময় ব্যয় করেন তাহলে এখনই সাবধান হওয়া উচিত। আপনি যতই নিজের চারপাশের বাস্তব জগত থেকে দূরে সরে যাবেন ততই আপনি বাস্তব সমস্যাসমুহ বুঝতে ভুল করবেন এবং এড়িয়ে যাবেন। লুকিয়ে রাখলে কোনো সমস্যার কখনোই সমাধান হবে না। শুধু অগ্রাহ করেই আপনি সমস্যা দূর করতে পারবেন না। এতে আপনার জীবন শুধু সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হবে কিন্তু আপনার বাস্তবের সঙ্গে আপনার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। যা পরিণতিতে আপনার মধ্যে তীব্র মানসিক ভারসাম্যহীনতাও সৃষ্টি করতে পারে।
সূত্র : এনডিটিভি

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।