র‌্যাবের অভিযানে বহুমুখী প্রতারণা চক্রের ০৪ জন গ্রেফতার

Spread the love

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিঃ গত ১৫ ডিসেম্বর কামরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি র‌্যাবের নিকট সংবাদ প্রদান করে যে, ফতুল্লা থানার কোতালের বাগ কবরস্থান মসজিদের মধ্যে কিছু হুজুর প্রায় সময় গোপন বৈঠক করে এবং তারা জঙ্গী কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত এবং তারা জঙ্গী সংক্রান্ত উগ্রবাদী লিফলেট মানুষের মাঝে প্রচার করছে। সে একটি লিফলেটের কপি ও র‌্যাবের কাছে সরবরাহ করে। এই সংবাদের প্রেক্ষিতে র‌্যাব-১১ কার্যক্রম শুরু করে। বিভিন্নভাবে যাচাই-বাছাই ও তথ্য বিশ্লেষণে সম্পূর্ণ ঘটনা সাজানো বলে প্রথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। এই প্রেক্ষিতে উক্ত লিফলেটের উৎসের সন্ধানে উক্ত সংবাদ দাতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রচেষ্টা চলতে থাকে।

এরই এক পর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১ এর একটি আভিযানিক দল গত ১৭ ডিসে¤¦র ২০১৭ তারিখ ১৫০০ ঘটিকা হতে ২২১৫ ঘটিকা পর্যন্ত সময়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানাধীন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে উক্ত তথ্য দাতা মোঃ কামরুল ইসলাম@রুবেল, থানা-কলাপাড়া, জেলা-বরিশালকে গত ১৭ ডিসে¤¦র বিকালে ফতুল্লা থানাধীন শিবু মার্কেট এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত কামরুল ইসলাম জানায় যে, উক্ত জঙ্গীবাদী লিফলেট সমূহ সে ও তার সহযোগী মোঃ আল আমিন ও মোঃ রুবেল হাওলাদার অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের জন্য তৈরী করেছিল। পরে উক্ত মসজিদ হতে ৯৭ টি লিফলেট উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রেক্ষিতে তার নিজস্ব বাসায় অভিযান পরিচালনা করে বিপুল সংখ্যক ইয়াবা, নকল ইয়াবা ও নকল ফেনসিডিল তৈরীর সরঞ্জামাদি, নকল ইয়াবা তৈরীতে ব্যবহৃত ৩৩৫০টি জিনেক ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই চক্রের অপর সদস্য মোঃ আল আমিন (২০), থানা-সদর, জেলা-কিশোরগঞ্জকে ফকির এ্যাপারেলস লিঃ, বেসিক শিল্প নগরী ফতুল্লা হতে এবং ফতুল্লা থানাধীন টাগারপাড় এলাকা হতে তার অপর ০২ জন সহযোগী (১) মোঃ রুবেল হাওলাদার (২২), থানা-কালকিনী, জেলা-মাদারীপুর এবং (২) মোঃ মোতালেব হোসেন (৪৮), থানা-দাউদকান্দি, জেলা-কুমিল্লাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সে আরোও স্বীকার করে যে, তার জঙ্গী সংক্রান্ত লিফলেট তৈরী এবং বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের স্টিকার তৈরীর কাজে মোঃ রুবেল হাওলাদার কম্পিউটার কম্পোজ করে প্রত্যক্ষভাবে সাহায্য করে এবং মোঃ আল আমিন উক্ত মসজিদের ভেতর লিফলেটগুলো গোপনে রাখার কাজে সাহায্য করে এবং ইয়াবা তৈরীর কাজে মোঃ মোতালেব হোসেন তাকে ট্যাবলেট দিয়ে সাহায্য করে।

মোঃ কামরুল ইসলাম @ রুবেল (২২), বরিশাল জেলার কলাপাড়ার একটি প্রাইমারি স্কুল থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করে এবং ২০০৯ সাল থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় বসবাস শুরু করে গার্মেন্টস এ চাকুরী করতে থাকে। কিন্তু বিগত এক বছর ধরে সে ইয়াবার ব্যবসা শুরু করে। অধিক লাভের আশায় সে নিজে তার একটি দল তৈরী করে সহযোগীদের সাহায্যে ব্যাথা নাশক ট্যাবলেট জিনেক-৫০ এর সাথে ইয়াবা সাদৃশ্য সুগন্ধির মিশ্রন ঘটিয়ে ইয়াবা প্রস্তুত করে বিক্রি করতে থাকে এবং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানুষকে ইয়াবা দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ধরিয়ে দেওয়াসহ ভয়ভীতি দেখানোর কাজ করতে থাকে। সে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গোপনে তার প্রস্তুতকৃত ইয়াবা রেখে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দিয়ে সাধারণ ও নিরীহ মানুষকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার অপকৌশল প্রয়োগ করে আসছিল। সে নি¤œমানের সিরাপ ক্রয় করে তা দিয়ে ফেনসিডিল তৈরী করে বিক্রির চেষ্টা করছিল বলে জানিয়েছে। সে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে যে, উক্ত কবরস্থান মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিনকে জঙ্গী মামলায় জড়িয়ে অবৈধভাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিকট হতে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার আশায় উক্ত লিফলেটগুলো মুসল্লির বেশে মসজিদের ভেতরে গোপনে রেখে যায়। সে বর্ণিত লিফলেটগুলি মসজিদের ভিতরে রেখে ইমাম ও মোয়াজ্জিনকে জঙ্গী সংশ্লিষ্টতায় ফাঁসানোর জন্য উক্ত লিফলেট গুলো রেখে দিয়েছিল বলে স্বীকার করেছে। জঙ্গী সংক্রান্ত উগ্রবাদী লিফলেট তৈরী করে বিভিন্ন মসজিদে রেখে সমাজের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টির অপকৌশলও প্রয়োগ করে আসছিল।

মোঃ রুবেল হাওলাদার (২২), মাদারীপুর জেলার কালকিনী থানাধীন একটি স্কুলে ৪র্থ শ্রেনী পর্যন্ত পড়াশুনা করে এবং ফতুল্লা এলাকায় কম্পিউটার গ্রাফিক্স এর দোকানের মাধ্যমে ব্যবসা করে আসছিল। সে গ্রেফতারকৃত মোঃ কামরুল ইসলাম@রুবেল এর সহযোগী হিসেবে কাজ করত এবং উগ্রবাদী লিফলেট কম্পোজসহ বিভিন্ন মাদক দ্রব্যের স্টিকার প্রস্তুত এর কাজ করে দিত।

মোঃ আল আমিন (২০), ২০১৪ সালে কিশোরগঞ্জ জেলার সদর থানার একটি স্কুল থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করে নারায়ণগঞ্জ এসে গার্মেন্টস এ কাজ শুরু করে এবং গার্মেন্টসে কাজ করার সময় গ্রেফতারকৃত মোঃ কামরুল ইসলাম@রুবেল এর সাথে তার পরিচয় হয় এবং সে মাদক সরবরাহের কাজ করতে থাকে। সে বিভিন্ন গোপনে মাদকদ্রব্য ও মসজিদে উগ্রবাদী লিফলেট গোপনে রাখার কাজে সহায়তা করছিল।

মোঃ মোতালেব হোসেন (৪৮), কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানাধীন একটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে ১৯৯৫ সাল থেকে একটি ঔষুধ কোম্পানীতে প্রায় ২২ বছর চাকুরী করে এবং ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে নিজস্ব ফার্মেসীর ব্যবসা শুরু করে। সে গ্রেফতারকৃত মোঃ কামরুল ইসলাম@রুবেল এর সহযোগী হিসেবে ইয়াবা তৈরীর সরঞ্জাম সরবরাহের কাজ করত। সে সম্পূর্ণ সজ্ঞানে নকল ইয়াবা প্রস্তুতের জন্য বিপুল সংখ্যক ব্যাথানাশক জিনেক-৫০ ট্যাবলেট কামরুল ইসলামকে সরবরাহ করেছিল।

উপরোক্ত বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ