র‌্যাবের অভিযানে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ২সদস্য গ্রেফতার

Spread the love

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিঃ গত এপ্রিল মাস হতে এ পর্যন্ত র‌্যাব-১১ কর্তৃক বেশ কয়েকটি সফল জঙ্গী বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সকল অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাসহ ৫৮ জন বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য ও পলাতক আসামীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। বিভিন্ন অভিযানে গ্রেফতারকৃত এ সকল জঙ্গিদেরকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের নেটওয়ার্ক এবং কার্যক্রমের অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। প্রাপ্ত সে সকল তথ্যাদি যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণের পর জঙ্গি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত যে সকল সদস্য এখনও গ্রেফতার হয়নি তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য অব্যাহতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

র‌্যাবের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১, নারায়ণগঞ্জ এর একটি আভিযানিক দল গত ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখ ৯ঃ১৫ ঘটিকা হতে ১১ঃ৩০ ঘটিকা পর্যন্ত সময়ে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানাধীন ইবারদী ষ্ট্যান্ড বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন আনসার আল ইসলাম (আনসারুল¬াহ বাংলা টিম) এর ০২ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও গোয়েন্দা নজরদারীর মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানাধীন ইবারদী ষ্ট্যান্ড এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন আনসার আল ইসলাম (আনসারুল¬াহ বাংলা টিম) এর কিছু সদস্য গোপন বৈঠকের জন্য একত্রিত হওয়ার সংবাদ প্রাপ্তির প্রেক্ষিতে উক্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় (ক) জাহিদুল ইসলাম@ কাওসার(৩২), থানা-চৌদ্দগ্রাম, জেলা-কুমিল্লা এবং (খ) মোঃ মশিউর রহমান @ জীবন(২৮), থানা-সদর, জেলা-গাইবান্ধাদ্বয়কে দেশীয় অস্ত্র এবং জঙ্গীবাদী লিফলেটসহ গ্রেফতার করা হয়।

জাহিদুল ইসলাম @ কাওছার (৩২), ২০০৪ সালে রাজধানীর একটি স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করে এবং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কাজের সাথে যুক্ত। সে ২০০৪ সালে জনৈক জুয়েল এর মাধ্যমে জেএমবি’তে যোগদান করে এবং জেএমবির শীর্ষ স্থানীয় জঙ্গী নেতা আতাউর রহমান সানির মাধ্যমে জেএমবির সামরিক শাখার জন্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে আতœঘাতী গ্রুপে নাম লেখায়। পরবর্তীতে দেশব্যাপী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক জেএমবি দমন এর কারণে সে আতœগোপনে চলে যায়। পরে সে ২০০৭ সালে তার এক বাল্য বন্ধুর মাধ্যমে হিযবুত তাহরীহতে যোগদান করে ২০০৭ সালে থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করে। ইতিপূর্বে র‌্যাব-১১ কর্তৃক গ্রেফতারকৃত মাওলানা ইসহাক এর মাধ্যমে সে ২০১০ সাল থেকে পুনরায় জেএমবিতে কাজ করা শুরু করে এবং মোহাম্মদপুরের বছিলায় জসিম উদ্দিন রাহমানীর মসজিদে যাতায়াত করতে থাকে। ইতিপূর্বে র‌্যাব-১১ কর্তৃক গ্রেফতারকৃত সৈয়দ রায়হান কবির@ রায়হান@ বাবুর মাধ্যমে সে ২০১৫ সালে আনসার আল ইসলাম (আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) এ যোগদান করে এবং আনসার আল ইসলামের হয়ে কাজ করতে থাকে।

মোঃ মশিউর রহমান@ জীবন(২৮), ২০১১ সালে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এর অধীনে এসএসসি পাশ করে ফার্নিচারের দোকানে কাজ শুরু করে এবং ২০১৩ সালে জনৈক লিটন এর সাথে পরিচয় এবং ঘনিষ্ঠতার মধ্যদিয়ে জঙ্গীবাদের সাথে সম্পৃক্ত হয় এবং লিটন এর মাধ্যমে ঢাকার নন্দী পাড়াস্থ কোরআন সুন্নাহ একাডেমী মসজিদ এ যাতায়াত শুরু করে এবং মসজিদের খতিব শায়েখ আরিফ এর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরী হয়। ঐ মসজিদে বিভিন্ন জঙ্গী যাতায়াতের মধ্য দিয়ে সংগঠনের একাধিক সদস্যের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায়। তার বাসায় জঙ্গী কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্ত একাধিক মিটিং হয়েছে বলে সে স্বীকার করেছে এবং তার বাসায় সাজিদ নামের এক জঙ্গী নেতা স্ত্রীসহ অনেক দিন আত্মগোপনে ছিল বলে সে স্বীকার করে। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের শেষের দিকে সে জনৈক শিপন এর মাধ্যমে আনসার আল ইসলামে (আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) যোগদান করে কাজ করতে থাকে।

উপরোক্ত বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ