রূপা নিপীড়ন-হত্যায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১ জনের কারাদণ্ড

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ক্রাইম ডট কমঃ টাঙ্গাইলের মধূপুরে চলন্ত বাসে জাকিয়া সুলতানা রূপাকে নিপীড়ন ও হত্যা মামলার রায়ে চারজনের মৃত্যুদণ্ড ও একজনের ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবুল মনসুর মিয়ার আদালত এ্ই রায় ঘোষণা করে।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি চাঞ্চল্যকর এই মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য হয়। টাঙ্গাইলের ইতিহাসে এই প্রথম এ ধরনের একটি মামলার নিষ্পত্তি দ্রুত সময়ের মধ্যে হতে যাচ্ছে। অভিযোগ গঠন থেকে রায় ঘোষণা পর্যন্ত এ মামলার পেছনে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১৪ কর্মদিবস।

গত ১৫ অক্টোবর এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টাঙ্গাইলের বিচারিক হাকিম আদালতে পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরদিন ১৬ অক্টোবর মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। গত ২৩ জানুয়ারি এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। মোট ৩২ সাক্ষীর মধ্যে ২৭ জন সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে চার কর্মদিবসে আসামিদের পরীক্ষা এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ২৮ আগস্ট এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ময়মনসিংহ-বগুড়া রুটের ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর (৪৫) ও সুপারভাইজার সফর আলী (৫৫), হেলপার শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীরকে (১৯) গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বর্তমানে আসামিরা টাঙ্গাইল জেলহাজতে আছেন।

প্রসঙ্গত, গত বছর ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহে যাওয়ার পথে ঢাকার আইডিয়াল ‘ল’ কলেজের শিক্ষার্থী রুপাকে চলন্ত বাসে ধর্ষণ করে পরিবহন শ্রমিকরা। পরে বাসেই তাকে হত্যার পর মধুপুর উপজেলার পঁচিশ মাইল এলাকায় বনের মধ্যে মৃতদেহ ফেলে রেখে যায়। পুলিশ ওই রাতেই অজ্ঞাত হিসেবে রূপার মরদেহ উদ্ধার করে। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারিশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি দেখে রূপার ভাই হাফিজুর রহমান ২৮ আগস্ট মধুপুর থানায় যান। সেখানে গিয়ে মৃতদেহের ছবি দেখে রূপাকে শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর (৪৫), সুপারভাইজার সফর আলী (৫৫), সহকারী শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীরকে (১৯) গ্রেফতার করে। পুলিশের কাছে তারা রূপাকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে। ২৯ আগস্ট বাসের তিন সহকারী শামীম, আকরাম, জাহাঙ্গীর এবং ৩০ আগস্ট চালক হাবিবুর ও সুপারভাইজার সফর আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তারা সবাই এখন টাঙ্গাইল কারাগারে রয়েছে। ৩১ আগস্ট রূপার মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে তার ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাকে সিরাজগঞ্জের তারাশ উপজেলার নিজ গ্রাম আসানবাড়িতে দাফন করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ