কমেনি পানের দর, বিপাকে পিয়াসীরা

Spread the love

নাঈম ইসলাম, শেরপুর প্রতিনিধি : “যদি একটা সুন্দর মুখ পাইতাম, রসের পান খিলি তারে বানাই খাওয়াইতাম” আর এক সময় রাজা মহারাজারা অতিথি আপ্যায়নে পরিবেশন করতেন বাহারী সব মশলা দিয়ে তৈরি করা খিলি পান। সেকাল থেকেই পানের কদর আজও সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে। এখনও গ্রামগঞ্জের বাড়িতে বা প্রতিষ্ঠানে অতিথিদের খাওয়া দাওয়া করার পর পান দিয়ে আপ্যায়নের রীতি রয়েছে । অনেকে নিয়মিত পান খাওয়ার অভ্যাস করলেও আবার কেউবা হঠাৎ খেয়ে থাকে শখের বসে। আর বৃদ্ধ বয়সি অধিকাংশ নারী পুরুষেরা নিয়মিত পান খান। এরই মধ্যে সারা দেশের ন্যায় শেরপুরেও বেড়েছে পানের দর, বিপাকে পিয়াসীরা ।

শেরপুরের ৫টি উপজেলার একাদিক বাজার ঘুরে দেখা যায়, আগে বড় আকারের পান বিড়া প্রতি (৬০টি) বিক্রি হতো ৫৫ থেকে ৬০টাকা দরে। যা র্বতমানে কয়েকগুণ বেড়ে বিক্রি হচ্ছে দুইশ থেকে সাড়ে ৩শ টাকা দরে। চলতি মৌসুমে ছত্রাক জনিত রোগের আক্রমনের কারনে পান গাছে পচঁন রোগ দেখা দেয়। যে কারনে চাষীরা বাজারে চাহিদা মোতাবেক পান সরবাহ করতে না পারায় দেখা দিয়েছে এই মৌসুমি সংকট। এ সংকটের কারনেই শীত চলে গেলেও পানের বাজার এখনো অস্থিতিশীল ।

শেরপুর পৌর এলাকার নবীনগর মহল্লার পান ব্যাবসায়ী সুরুজ আলী জানান, স্থানীয় ভাবে পানের তেমন চাষ না হওয়ায় চিটাগং, চুয়াডাজ্ঞা জেলা থেকে পান আমদানী করতে হয় । কয়েকমাস আগে যে হারে পান আসতো সে তুলনায় এখন অনেক কম আসছে। এক দেড়মাসের ব্যাবধানে প্রায় তিন গুন দাম বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় ব্যাবসায়ীদের ভোগান্তিও কম নয় । তবে খুব দ্রুত পানের বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে এ ব্যাবসায়ী আশা প্রকাশ করেন।

সদর উপজেলার আখের মাহমুদ বাজারের পান ব্যাবসায়ী সোহেল মিয়া জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ প্রতি খিলি পান পাঁচ টাকায় বিক্রি করছেন হঠাৎ এভাবে পানের দাম কয়েকগুন বাড়লেও খিলি প্রতি পাঁচ টাকায় দিচ্ছেন । এ অবস্থায় ব্যাবসা টিকিয়ে রাখতে খিলি পানের আকার কিছুটা কমিয়ে দিয়েছেন ব্যাবসায়ীরা । দাম বেড়ে যাওয়ায় খিলি পান বিক্রিও কমে গেছে ।

মোবারকপুর মহল্লার বাসিন্দা লুৎফর রহমান জানান, দু মাস আগেও প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০টি পান খিলি খাইতেন। দাম বেড়ে যাওয়ায় পান খাওয়া কমিয়ে এখন দিনে ১০ থেকে ১৫টি পান খাচ্ছেন। তবে খুব দ্রুত পানের দাম সহনীয় পর্যায়ে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ