নারায়ণগঞ্জে দুই শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের পর চুল কেটে দিল শিক্ষক

Spread the love

নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা : নারায়ণগঞ্জে একটি বিদ্যালয়ে চুল বড় এ অপরাধে দুই শিক্ষার্থীকে নির্মম নির্যাতনের পর নিজ হাতে কাঁচি দিয়ে চুল কেটে দিয়েছে এক শিক্ষক। কয়েকশত শিক্ষার্থীর সামনে ক্লাসরুম থেকে ধরে এনে চুল কেটে দেওয়ার পর লজ্জায় অপমানে বিমর্ষ হয়ে পড়েছে ৯ম শ্রেণীর ২ শিক্ষার্থী কাশফি ও শান্ত।

এ ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীসহ অভিভাবক মহলেও। ম্যানেজিং কমিটি ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে শাস্তিমূলক ব্যাবস্থা গ্রহনের আশ্বাস।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত মঙ্গলবার চুল বড় রাখার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলের নবম শ্রেণির কাশফি ও শান্ত নামের দুই শিক্ষার্থীকে শারীরিক শাস্তির পাশাপাশি মাথার চুল কেটে দেন স্কুলটির শিক্ষক বিপুল সরকার। অন্যান্য শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে দুই ছাত্রকে ক্লাসরুমের দরজায় এনে নির্যাতন এবং চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় সকলে হতবাক।

ঘটনার পর বুধবারও স্কুল ছিলো উত্তপ্ত। শারীরিক নির্যাতন ও চুল কেটে দেওয়ার পরও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এ ঘটনাকে মধ্যযুগীয় ববর্রতা হিসেবে আখ্যায়িত করে দ্রুত ঐ শিক্ষকের শাস্তি দাবি করেছে অভিভাবকরা।

নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী কাশফির বাবা মো. রাসেল জানান, আমরা অনেক আশা নিয়ে সন্তানদের স্কুলে পাঠাই। আমি মনে করতাম, মা-বাবার পরে সন্তানদের নিরাপদ স্থান হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আর সেই প্রতিষ্ঠানে এসে যদি এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হতে হয়, তাহলে কীভাবে ছেলেমেয়েরা পড়ালেখা করবে!

অন্য অভিভাবকরা উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষক বিপুল সরকার মানসিক ভারসাম্যহীন, এ ধরণের শিক্ষকদের কাছে শিক্ষার্থীরা অনিরাপদ।কয়েক শত শিক্ষার্থীর সামনে এভাবে চুল কেটে দেওয়া শিক্ষক সুস্থ্য হতে পারে না।

অভিভাবকরা আরো অভিযোগ করেন, এই ধরনের ঘটনায় অনেক সময় নির্যাতিত ও লাঞ্ছিত শিক্ষার্থীরা লজ্জায় ঘর থেকে বের হতে চায় না। আবার অনেক সময় স্কুলেও আসতে চায় না। অতএব এই শিক্ষকের বহিস্কার চাই।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক কমল কান্তি সাহা বলেন, এ ঘটনাটি অত্যান্ত দু:খজনক। আমরা শিক্ষক বিপুল সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তবে এখনো কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই নিয়ে ছিলাম।

এ ব্যপারে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আঃ সালাম বলেন, দুই ছাত্র চুল কানের ওপর রাখার পর শিক্ষক বিপুল সরকার চুল কাটতে বলেন। ছাত্ররা চুল না কাটায় সামান্য চুল কেটে দিয়েছে।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি চন্দন শীল বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে সত্যি দুঃখজনক। আমি নারায়ণগঞ্জের বাইরে আছি। আগামী সপ্তাহে ফিরবো। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট অভিভাবক লিখিত অভিযোগ দিলে শাস্তিমূলক ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

জেলা শিক্ষা অফিসার শরিকুল ইসলাম বলেন, গত মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের বাইরে ছিলাম। তাই বিষয়টি আমার জানা নেই। আমরা ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি মো. রেজাউল বারী বলেন, এ ধরণের ঘটনা খুবই ভয়াবহ ব্যাপার। বিষয়টি এর আগে কেউ আমাকে জানায়নি। ঘটনার খোঁজ নিয়ে আমি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে চড়-থাপ্পড় মেরে গালমন্দ করায় শহরের গণবিদ্যা নিকেতনের নবম শ্রেণীর ছাত্রী উম্মে হাবিবা আক্তার শ্রাবণী (১৫) আত্মহত্যা করে। আত্মহত্যার কারণ হিসেবে স্কুল শিক্ষক নাসরিন বেগম ও খণ্ডকালীন শিক্ষক কামরুল হাসান মুন্নার নাম উল্লেখ করে চিরকুট লিখে যায়।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ