সদ্য প্রাপ্ত
রাজধানীতে ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১ লাখ পিস ইয়াবাসহ ৪ মাদক সম্রাট গ্রেফতার গোপালগঞ্জে ৫ কেজি গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতার ঝিনাইগাতীতে খাদ্যগুদামের নিরাপত্তা প্রাচীর সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ যশোরে র‌্যাবের সঙ্গে ক্রসফায়ারে ৩ মাদক ব্যবসায়ী নিহত যশোরে গনপিটুনিতে এক ডাকাত নিহত কাশিয়ানীতে রাজপাট কলেজে ব্যবহারিক পরীক্ষায় ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ বেনাপোল সীমান্ত থেকে ২৩ পিস স্বর্ণের বার উদ্ধার কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শীর্ষ সন্ত্রাসী হামিদুল বাহিনী প্রধান হামিদুল নিহত রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বিদেশী পিস্তল-গুলিসহ আটক ১ গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-১

মিরপুরে মা ও দুই মেয়ের নির্মম মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য কি?

Spread the love

মো মাহমুদ হোসাইনঃ রাজধানীর মিরপুরে সরকারী বাঙলা কলেজ সংলগ্ন পাইকপারা সি টাইপ গভঃ কোয়ার্টারের চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাটে মা ও তার দুই শিশু কন্যার মৃত্যুর রহস্য ক্রমেই বাড়ছে। এদিকে দুই মেয়েকে হত্যার পর জেসমিন আত্মহত্যা করেছে একথা কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছেন না প্রত্যক্ষদর্শী ও কোয়ার্টারের বাসিন্দারা। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারনা দুই মেয়ে ও মাকে কেউ হত্যা করেছে। কেননা জেসমিনের গলা ও দুই হাতের রগ কাটা, পেটে ছুরির আঘাতে নাড়িভুঁড়ি বের হয়েছিল। দুই বাচ্চাকে হত্যার পর যদি তিনি নিজেই আত্মহত্যা করে থাকেন, তাহলে নিজের দুই হাতের রগ কাটার পর কিভাবে নিজ গলায় ও পেটে ছুরি চালানো সম্ভব?


গতকাল দুপুরে পাইকপাড়া সি-টাইপ সরকারি কোয়ার্টারের ১৩৪ নং ভবনের চতুর্থ তলার ওই ফ্ল্যাটটিতে গিয়ে তালাবন্ধ পাওয়া যায়। এসময় নিহত জেসমিনের পাশের ফ্ল্যাটের বা্সিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, জেসমিন মাইগ্রেনের সমস্যা ছিল। কিন্তু তার আচারনে অস্বাভাবিক কিছু দেখি নাই কখনো। ঘটনার দিন তারা কোন দরজা ভাঙ্গারও কোন শব্দ পায়নি। সন্ধ্যা ৭ টার দিকে হঠাৎ দরজায় নক করার শব্দ পেলে খুলে দেখি হাসিবুলের ভাগ্নে বউ কান্নাকাটি করে বলল, জেসমিন আপা, হিমি ও আদিলা নেই। পরে তাদের ওই রুমের সামনে গেলে দেখা যায় বিছানায় দুই শিশু কন্যা এবং মেঝেতে জেসমিনের রক্তাক্ত লাশ পরে আছে। ওই ভবনের ৩য় তলার বাম পাশের ফ্ল্যাটের বা্সিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, তারা ওই ভবনে ১২/১৩ বছর ধরে থাকছেন। আর হাসিবুল তার স্ত্রী ও দুই বাচ্চাসহ ৭/৮ বছর থেকে ওই ফ্ল্যাটে থাকছেন। ঘটনার দিন রাতে কান্নাকাটির শব্দ পেয়ে ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে জেসমিন ও তার দুই সন্তানের লাশ দেখতে পান। নিহতদের শরীরে ক্ষত চিহ্ন দেখে বিষয়টি তাদেরও রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছিল। এ সময় নিহত শিশু দুটির কথা বলতে গিয়ে তারা আবেগআপ্লুত হয়ে পড়েন এবং বলেন নিরঅপরাধ শিশু দুইটির হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উন্মোচিত হবে এটাই তাদের প্রত্যাশা। একই সঙ্গে জেসমিন অনেক পরহেজগার ও সামাজিক ছিলেন বলেও জানান তিনি। এ সময় তাদের কাছে জেসমিন আক্তারের মানষিক সমস্যা ছিল কিনা জানতে চাইলে, তিনি বলেন এই যে আপনাদের সাথে কথা বলছি আপনাদেরকে তো সুস্থ্যই মনেই হচ্ছে। এখন যদি কেউ আপনাদের মানুষিক সুস্থ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করে আমি কি বলবো?

 
পাইকপাড়া সি টাইপ গভঃ কোয়ার্টার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. হেলাল উদ্দিন ও সমিতির অন্যান্যরা বলে্ন, জেসমিনের গলা ও দুই হাতের রগ কাটা ছিল। দুই বাচ্চাকে হত্যার পর যদি তিনি নিজেই আত্মহত্যা করে থাকেন তাহলে দুই হাতের রগ কাটার পর কিভাবে নিজ গলায় ছুরি চালানো সম্ভব? একটা ঘরের মধ্যে তিন তিনজনের প্রাণ নেওয়া হলেও পাশের ঘরে থেকেও তাঁরা কিছুই শুনতে পাননি? তারা স্বজনদের  দরজা ভেঙ্গে রুমে ঢোকার বিষয়টিও সামনে নিয়ে এসে বলেন দরজা ভাঙ্গার সময় স্বজনরা ছাড়া ঘটনাস্থলে আর কে উপস্থিত ছিল, তাছাড়া দরজা ভাঙলে তো আসপাশের ফ্ল্যাটের লোকজনও টের পেতো? তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে বলেন, ঘটনার দিন উপস্থিত নিহত’র স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদসহ হাসিবুলের মোবাইল ফোনের কল লিষ্ট ট্রাকিং করলেই বেড়িয়ে আসতে পারে প্রকৃত হত্যার রহস্য।
এর আগে নিহত ব্যক্তিদের স্বজনরা বলেন, সোমবার বেলা দুইটার দিকে অফিস থেকে ফিরে নিজের কক্ষে দুই মেয়েকে খাটে বসিয়ে ভাত খাওয়ান জেসমিন। এরপর নিজে না খেয়েই তাদের নিয়ে দরজা আটকে শুয়ে পড়েন। ভেতরে টিভিও চলছিল। জেসমিনের মাইগ্রেনের ব্যথা আছে বলে তিনি শুয়ে পড়লে পরিবারের কেউ তাঁকে জাগান না। এ সময় জেসমিনের এক খালাতো বোন রেহানা বেগম, স্বামীর ভাগনে রওশন জামিল ও তাঁর স্ত্রী রোমানা পারভীন বাসাতেই ছিলেন। জেসমিনের ভাই শাহীনুল ইসলাম বাইরে ছিলেন। বিকেল পাঁচটার দিকে জেসমিনের স্বামী হাসিবুল বাসায় ফেরেন। স্ত্রী ও দুই মেয়ে ঘুমাচ্ছে ভেবে তিনি তাঁদের না জাগিয়েই নামাজ আদায়ে চলে যান। সন্ধ্যা সাতটার দিকে জেসমিনের ভাই শাহীনুল বাসায় ফিরে দরজায় শব্দ করেও বোন ও ভাগনিদের সাড়া না পেয়ে উঁকিঝুঁকি মেরে কাচের ফাঁক দিয়ে রক্ত দেখতে পান। এরপর তিনি দরজা ভেঙে তাদের রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করেন। প্রতিবেশীরা চিৎকার শুনে জড়ো হন। এর মধ্যে হাসিবুলও বাইরে থেকে বাসায় ফেরেন।
নিহত নারীর স্বামীর ভাগনে রওশন জামিল বলেন, জেসমিনের এর আগেও অনেকগুলো ঘুমের বড়ি খেয়েছিলেন। পরে তাঁরা সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যান। একবার কীটনাশক পানের চেষ্টা করে ধরা পড়েছিলেন তিনি। তাঁর ধারণা, শিশু দুটিকে আগেই খাবারের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে খাওয়ানো হয়েছিল। তা নাহলে শিশু দুটির চিৎকার শোনা যেত।জেসমিনের খালাতো বোন রেহানা বলেন, জেসমিন বেশ কিছুদিন ধরেই মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তাঁর চিকিৎসাও চলছিল। তিনি সব সময় বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করতেন। চাকরি করে বাচ্চাদের যত্ন নিতে সমস্যা হচ্ছে বলে অন্যদের জানাতেন। সব স্বজনই তাঁকে চাকরি ছাড়ার কথা বলতেন। কিন্তু তিনি নিজেই আরও কিছুদিন চাকরি করার কথা বলতেন। রেহানারও ধারণা, শিশু দুটিকে হত্যা করে জেসমিন আত্মহত্যা করেছেন।
এদিকে নিহত ৩ জনের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সঙ্গে যুক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, জেসমিনের গলার পাশাপাশি দুই হাতে কবজির কাছে কাটা ছিল। বুকে ছিল অন্তত বারোটি আঘাতের চিহ্ন। বড় মেয়ে হিমির পেটে তিনটি আঘাতের চিহ্ন এবং বাঁ হাতের কবজির কাছে কাটা ছিল। ছোট মেয়ে হানির পেটে এবং ডান হাতের কবজির কাছে কাটা ছিল। দুজনেরই গলা কাটা ছিল। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বলেছেন, আঘাতের ধরনগুলো ব্যতিক্রমধর্মী। এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। দারুস সালাম থানার ওসি সেলিমুজ্জামান জানান, জেসমিনের অফিস থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি আত্মহত্যা না হত্যা সে বিষয়ে তদন্ত চলছে ।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সি টাইপ গভঃ কোয়ার্টারের ১৩৪ নং ভবনের চতুর্থ তলার একটি ফ্যাট থেকে মা ও তার দুই শিশু কন্যার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঐ সময় ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ তিনটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। জেসমিন আক্তার খামার বাড়িতে কৃষি অধিদপ্তরে কর্মরত ছিলেন। তার স্বামী হাসিবুল ইসলাম সংসদ সচিবলায়ে সহকারী লেজিসলেটিভ ড্রাফটসম্যান হিসেবে চাকরি করেন। দুই শিশু কন্যার মধ্যে হাসিবা তাসনিম হিমি নয় বছর বয়সী। সে স্থানীয় মডেল একাডেমিতে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। আর চার বছর বয়সী আদিলা তাহসিন হানি এখনও স্কুল শুরু করেনি।
Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ