basic-bank

৩৬ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণশুনানি শুরু

৩৬ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রথমবারের মতো গণশুনানি শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ১১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের কাছে প্রশ্ন করার সুযোগ পেয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) এই গণশুনানির আয়োজন করেছে। আজ বুধবার অধিদপ্তরের শেখ রাসেল স্মৃতি সম্মেলন কেন্দ্রে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। একইসঙ্গে অধিদপ্তরের ই-ফাইল কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে হবে। এজন্য ই-ফাইলিং ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে কোথাও ফাঁকি দেয়া যাবে না। কাজে স্বচ্ছতা থাকবে। দেশের ৩৬ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আওতায় আসবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন কাজকে আরো গতিশীল করার আহবান জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, গত কয়েক বছরে আমরা ঘুষ-দুর্নীতি কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ঘুষ-দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি নেয়া হয়েছে। যারা ভালো কাজ করবে তাদেরকে পুরস্কৃত করা হবে এবং দুর্নীতির সাথে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে তাদের সর্বনাশ হবে।

পরে শিক্ষামন্ত্রী ই-ফাইল ও গণশুনানি কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি দেশের বিভিন্ন জেলার ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলেন। এসব প্রতিষ্ঠানে ডিআইএ কর্মকর্তাদের কাজের মান সম্পর্কে জানতে চান। প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসহ স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এ সময় শিক্ষামন্ত্রীর সাথে কথা বলেন এবং তাদের মতামত জানান।

এই গণশুনানির ব্যাপারে ডিআইএ’র যুগ্ম পরিচালক বিপুল চন্দ্র সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শিক্ষা খাতে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতা আনতেই এই গণশুনানির আয়োজন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকেও ২০১৪ সালে সকল সরকারি দপ্তরে গণশুনানির আয়োজন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। সেবা প্রত্যাশিদের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শোনার মাধ্যমে সেগুলোর নিষ্পত্তি সহজ হবে এবং সেবা প্রদানের মান ও গতি বৃদ্ধি পাবে।

পরবর্তী সময়ে আমাদের অধিদপ্তর থেকে নিয়মিতভাবেই এই গণশুনানির আয়োজন করা হবে। গণশুনানিতে অংশ নেওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলে হচ্ছে- গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ার শেখ হাসিনা মহাবিদ্যালয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষ্ণ গোবিন্দপুর ডিগ্রী কলেজ, সৈয়দপুরের কারপুকুর ডিগ্রী কলেজ, বরিশালের অমৃত লাল মহাবিদ্যালয়, নোয়াখালীর চাটখিলের আবদুল ওয়াহাব ডিগ্রী কলেজ, কক্সবাজারের চকোরিয়ার ডুলাহাজরা ডিগ্রী কলেজ, খুলনার আহসান উল্লাহ কলেজ, টাঙ্গাইলের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় হাই স্কুল, ঢাকার দোহারের বেগম আয়েশা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, সিলেটের বৃহত্তর ঘাসিটুলা জামেয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা এবং যশোর শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

অনুষ্ঠানে ডিআইএ’র পরিচালক প্রফেসর আহাম্মেদ সাজ্জাদ রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রোগ্রামের পরিচালক (ই-সার্ভিস) ড. মো. আব্দুল মান্নান এবং  মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব আহমদ শামীম আল রাজী বক্তব্য রাখেন। ডিআইএ’র ই-ফাইল ও গণশুনানি বিষয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন এর যুগ্ম পরিচালক বিপুল চন্দ্র সরকার।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।