basic-bank

জেলা প্রশাসককের অনাকাংক্ষিত বদলির আদেশ মানতে পারছেনা লালমনিরহাটবাসী

লালমনিরহাট সংবাদদাতা: লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবুল ফয়েজ মোঃ আলাউদ্দিন খানের অনাকাংক্ষিত বদলির আদেশ লালমনিরহাট জেলায় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

জেলার সুশীল সমাজের দাবী, জেলা প্রশাসক আবুল ফয়েজ মোঃ আলাউদ্দিন খান একজন সৎ, নির্ভীক, সাহসী, কর্মক্ষম, জনসেবায় তার মত নিবিষ্ট মানুষ বর্তমান সময়ে পাওয়া শুধু কঠিন নয়, দুর্লভ হয়ে উঠেছে। অথচ সেই জেলা প্রশাসককে একটি মিথ্যা অপবাদের দায় নিয়ে লালমনিরহাট জেলা থেকে সরে আসতে হবে তা সুশীল সমাজের কেউ মেনে নিতে পারছেন না।

জানা গেছে, গত ২০১৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক হিসাবে লালমনিরহাটে যোগদানের পর থেকে সততার সাথে কাজ করে যাচ্ছিলেন। লালমনিরহাটে যোগদানের পর থেকে জেলার সকল সরকারী দপ্তরের কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাদের দায়িত্ব ফাকি দিতে পারতো না।

এমন কি বিনা কারনে সময়মত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে জেলা প্রশাসকের কাছে কৈফত দিতে হতো, তিনি দায়িত্ব পালনে সরকারী কাজে অত্যন্ত যত্নবান ও সজাগ এবং দুরদর্শিতার মধ্য দিয়ে পরিচালনা করে আসছিলেন। তিনি লালমনিরহাট জেলার ৩৯৪৯ জন ভিক্ষুককে, ভিক্ষাবৃত্তি মুক্ত করার লক্ষে তিনি ও জেলার কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নিকট থেকে ১ দিনের বেতনের টাকা নিয়ে ফান্ড সংগ্রহ শুরু করেছেন। অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড মিশনমোড় লালমনিরহাট শাখা যার চলতি হিসাব নং ০২০০০০৯৮৭৭১২০ ইতোমধ্যেই ৬ লক্ষ ৬৯ হাজার ২ শত ৬১ টাকা জমা করা হয়েছে।

অপরদিকে ভিক্ষুকদের সংখ্যা নির্ধারন ও ডাটাবেজ প্রস্তুত করে তাদের পুর্নবাসনের নিমিত্তে সম্ভাব্য বাজেট প্রস্তুত পুর্বক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেরন করা হয়েছে। যাহার পত্রের স্মারক নং ০৫.৪৭.৫২০০.০০৫.০৭.০৩২.১৭-৬৩৭, তাং- ০৯/০৭/২০১৭ ।

উল্লেখ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দোগে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবুল ফয়েজ মোঃ আলাউদ্দিন খানের পরিচালনায় লালমনিরহাট জেলার ৭৫৬ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল প্রোগ্রাম চালু করেছেন। যা পর্যায়ত্রমে স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীদের অবিভাবকদের অর্থায়নে প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ে প্রোগ্রামটি অব্যাহত রাখার লক্ষে উদ্বুদ্ধ করন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে মা সমাবেশের মাধ্যমে ক্যাম্পেইন করা হয়েছে। দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা ও শিক্ষা উপকরন পর্যায়ক্রমে প্রদান করে আসছেন।

তিনি যোগদানের পর সততা, নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসলেও একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক যোগদানের পর থেকে তার বিরুদ্ধে কথিত দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরন করেন। তা সরকারী উন্নয়ন কাজে পরিচালনার ক্ষেত্রে এক প্রকার বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। অপর দিকে এমন দক্ষ ও অভিজ্ঞ অফিসার কে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে কিভাবে সুনাম নষ্ট করা যায়, তারই অংশ হিসাবে যাচাই বাচাই না করে প্রেরিত তথ্যের ভিত্তিতে তাহাকে হয়রানী মূলক বদলীর আদেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের এক জন কর্মকর্তা জানান, প্রায় ৯ মাসের মাথায় জেলা প্রশাসকের এমন বদলীর আদেশ অত্যান্ত দুঃখজনক। তিনি জোড় দাবী করে বলেন, তাহাকে বদলী না করে যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পূনরায় লালমনিরহাটে পূর্ন বহাল রাখেন, তাহলে বর্তমান সরকারের চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন।

অপর আরও এক কর্মকর্তা জানান, একজন দক্ষ জেলা প্রশাসককে এমন কথিত মিথ্যা গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে হঠাৎ বদলীর ঘটনায় সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং জনমনেও নানা আলোচনা- সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ওই গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের নিকট দিয়ে অহেতুক অপবাদের ফাঁদে ফেলে সুনামধন্য জেলা প্রশাসকের বদলীর ঘটনায় অভিজ্ঞ মহলও দুঃখ প্রকাশ ও নিন্দা জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা কর্মকর্তা প্রায় ৮ মাস আগে লালমনিরহাটে যোগদানের পরে জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে কি দুর্নীতি আছে সেটি নিয়ে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। তার এমন রহস্য জনক কর্মকান্ডে স্থানীয় সাংবাদিকদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।

এদিকে বুধবার সকালে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবুল ফয়েজ মোঃ আলাউদ্দিন খানের কাছে হঠাৎ বদলী বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার জেলা প্রশাসকের কর্মক্ষেত্র নির্ধারণ করেন। সরকার যেখানে চাইবেন তাকে সেখানেই থাকতে হবে।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।